1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর (উপন্যাস)

Discussion in 'Collected' started by abdullah, Sep 18, 2016. Replies: 53 | Views: 3220

  1. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,041
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    একদিন সে ভুলে যায় নকল দাঁতটা পরতে। সাধারণত রাতের বেলা বিছানার পাশে পানির মধ্যে রেখে দিত সেটা। সেদিন থেকে সেটাকে আর কখনও পরেনি সে । উরসুলা যখন বাড়িটা বানায় তখন আউরেলিয়ানোর কর্মশালার পাশেই একটা বিশেষ কামরা তৈরি করায় যেটা ছিল সব গার্হস্থ্য তৎপরতা আর হট্টগোল থেকে দূরে । ঘরটা জানালা দিয়ে আসা আলোয় ডুবে যেত আর সেখানে উরসুলা নিজেই ধুলো আর পোকার কারণে প্রায় নষ্ট হওয়া, ভেঙে পরা কাগজ আর অবোধ্য চিহ্নে ঠাসা বইগুলোকে সাজিয়ে দিয়েছিল । আরও রেখেছিল বইগুলোর সঙ্গে নকল দাঁতগুলো যেগুলোতে গজিয়েছিল এক ধরনের জলীয় গুল্ম আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হলুদ বর্ণের ফুল । খুব সম্ভবত নতুন জায়গাটা ভালো লেগেছিল মেলকিয়াদেসের। কারণ তারপর তাকে আর কোথাও দেখা যেত না, এমনকি রান্না ঘরেও না । শুধু মাত্র আউরেলিয়ানোর কর্মশালায় গিয়ে ঘণ্টা পর ঘণ্টা সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া পারচমেন্ট কাগজে রহস্যময় সাহিত্যের হিজিবিজি আঁকত যেগুলোকে দেখে মনে হত এসব বানানো হয়েছে বালুর মতো কোনো এক কাঁচামাল দিয়ে, পেস্ট্রির মতো করে যা ছোঁয়ামাত্রই ভেঙে যাবে । ওখানেই দিনে দুবার খাবার নিয়ে যেত ভিসিতাসিওন, যদিও শেষের দিকে তার ক্ষুধা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল আর শুধু মাত্র খেত শাকসব্জি । এতে খুব দ্রুতই নিরামিষভোজীদের অসহায়ত্ব ধারণ করে সে । তার চামরা ঢেকে গিয়েছিল এক ধরনের নরম শৈবালে। একইভাবে তার মান্ধাতার আমলের পরনের জ্যাকেটটাও ঢাকা ছিল শৈবালে যেটা সে কখনও খুলত না। আর তার নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হত ঘুমন্ত পশুর দুর্গন্ধ । কবিতা লেখায় তন্ময় থাকায় আউরেলিয়ানো ওর কথা ভুলেই যায় যদিও মাঝেমধ্যে এই একঘেয়ে গুনগুন করে বলা কথাগুলো সে বুঝতে পারছে মনে করে কান পাতত ।
    সত্যি বলতে কি তার এই টুকরো টুকরো কথাগুলো থেকে আলাদা করতে পেরেছিল হাতুড়ি পেটানোর মতো একটানা উচ্চারিত বিষুব বিষুব আর আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট এই শব্দ দুটো । আর্কাদিও কিছুটা বেশি ঘনিষ্ঠ হয়েছিল ওর সঙ্গে, যখন সে এসেছিল আউরেলিয়ানোকে রৌপ্যকর্মে সাহায্য করতে । মেলকিয়াদেস এই যোগাযোগের প্রচেষ্টায় সাড়া দিতে আর্কাদিও আর আউরেলিয়ানোর দিকে মাঝেমধ্যে নিক্ষেপ করত কিছু কাসতেইয়ানো শব্দ, যা ছিল সম্পূর্ণই বাস্তবতাবর্জিত । শুধুমাত্র এক বিকেলে হঠাৎ আবেগে তাকে উজ্জ্বল হতে দেখা যায়, যেন যোগাযোগটা সে করতে পেরেছে । অনেক বছর পর ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখোমুখি আর্কাদিওর মনে পড়ে যাবে মেলকিয়াদেসের সেই কাঁপা কাঁপা স্বরে তার দুর্বোধ্য রচনা থেকে পড়া কয়েক পৃষ্ঠার কথা।
    বলাই বাহুল্য, সে কিছুই বোঝেনি আর এই উচ্চস্বরে পঠিত বাক্যগুলো ছিল গির্জায় গাওয়া গানের মতো । তারপর বহুদিনের মধ্যে এই প্রথমবার হেসে কাসতেইয়ানোতে বলে, “আমি মারা যাওয়ার পর তিনদিন আমার ঘরে পারদ পোড়াবে।”
    ঘটনাটা হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে জানালে সে আরও বিশদ ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা চালায় । এতে করে একমাত্র উত্তর পায়, “আমি অমরত্ব খুঁজে পেয়েছি।”
    মেলকিয়াদেসের শ্বাস-প্রশ্বাসে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু হলে আর্কাদিও বৃহস্পতিবার বিকেলে গোসল করানোর জন্য নদীতে নিয়ে যেত । তাতে মনে হত অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে । সে উলঙ্গ হত আর পানিতে নামত অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে। রহস্যময় দিক-নির্দেশক ক্ষমতাটা তাকে সাহায্য করত নদীর গভীর আর বিপজ্জনক জায়গাগুলো এড়িয়ে যেতে ।
    “আমরা পানি দিয়ে তৈরি।” একবার সে বলেছিল।
    এভাবেই কাটল অনেকদিন। সে দিনগুলোতে ঘড়ের কেউ ওকে দেখেনি। শুধুমাত্র যেদিন সে পিয়ানোলা সাড়ার চেষ্টা করে সেই রাতটা আর যখন আর্কাদিওর সঙ্গে নদীতে যেত বগল তলায় তোয়ালে দিয়ে মোড়া লাউয়ের খোলে তালের সাবান নিয়ে, সেই সময়গুলো ছাড়া । এক বৃহস্পতিবার নদীতে নেওয়ার ডাকের আগে আউরেলিয়ানো ওকে বলতে শোনে, “আমার মৃত্যু হয়েছে জ্বরে, সিঙ্গাপুরের বালিয়াড়িতে।”
    ওইদিন পানিতে নামে এক খারাপ জায়গা দিয়ে; আর এর ফলে পরদিন সকাল পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায়নি। কয়েক মাইল ভাটিতে এক তীক্ষ্ণ আলোকিত বাঁকে পাওয়া যায় তাকে। আর পেটের উপর বসে ছিল এক নিঃসঙ্গ শকুন । উরসুলা শোকে প্রচুর কাঁদে, যতটুকু সে কাঁদেনি নিজের পিতার মৃত্যুর সময়ও। তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ সত্ত্বেও হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া লাশটাকে দাফন করার বিরোধিতা করে, “সে হচ্ছে অমর।” বলে, “সে পুনর্জীবন লাভের সূত্রগুলো জানিয়ে গেছে।”
    কার্যোপযোগী করে তোলা বিস্মৃত সাইফন আর এক কড়াইতে পারদ ফোটাতে শুরু করে তারা আস্তে আস্তে নীলচে বুদবুদে ভরে যাওয়া মৃতদেহের পাশে । দন আপোলিনার মসকতে সাহস করে মনে করিয়ে দেয় যে ডুবে মরা কবর না দেওয়া লাশ, জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক ।
    “ওসব কিছুই হবে না। কারণ, এখনও সে জীবিত।” উত্তর দেয় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া।
     
  2. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,041
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এর পরের বাহাত্তর ঘণ্টা কাটায় পারদের গন্ধে ভরা ধোয়ার ভেতর থেকে। ততক্ষণে মৃতদেহ থেকে ওঠা নীলাভ লাল রঙের বুদবুদগুলো ফেটে যেতে আরম্ভ করেছে। আর সারা বাড়ি আচ্ছন্ন গেছে ওথেকে উদ্ভুত মৃদু শিস ও দুর্গন্ধযুক্ত বাষ্পে । হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া একমাত্র তখনই অনুমতি দেয় লাশ দাফনের, কিন্তু যেমন তেমনভাবে নয়, সম্মানের সঙ্গে যেমনটি হওয়া উচিত মাকন্দোর সবচেয়ে উপকারী লোকটার বেলায় । ওটাই ছিল মাকন্দোর প্রথম দাফন আর সে দাফনের সময় মাকন্দোতে সবচেয়ে বেশি লোক জমায়েত হয় তখন । একমাত্র একশত বছর পর বড় মায়ের শেষকৃত্য উৎসবেই এর চেয়ে বেশি লোক হয়েছিল । কবরস্থানের জন্য নির্বাচিত হল এক জায়গা; আর তার কেন্দ্রে দাফন করা হল তাকে । পাথরের এক স্মৃতিস্মারকে লিখল শুধুমাত্র যা জানা গিয়েছিল তার সম্বন্ধে– মেলকিয়াদেস। পালন করা হল তার জন্য নয়টি শোকরাত্রি ।
    একবার আমারান্তা তার প্রেম নিবেদনের জন্য পিয়েত্র ক্রেসপিকে পেল কফি পান, কৌতুক করা আর তাস খেলার জন্য উঠোনে জড়ো হওয়া হট্টগোলের মধ্যে । অন্য সময়ে আরবীয়রা গুয়াকামায়ার সঙ্গে তাস বদলের কারণে যে রাস্তাটাকে লোকজনকে তুর্কদের রাস্তা নামে নামকরণ করে। গ্রামের সেই অংশে তখন পিয়েত্র ক্রেসপি একটি বাদ্যযন্ত্রের আর গুদামঘরসহ দোকান দিয়েছে। আর কয়েক সপ্তাহ আগে রেবেকার সঙ্গে তার বিয়ের প্রতিশ্রুতি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকাপাকি করে ফেলেছে । যাকে দেখলে মেয়েদের পক্ষে দীর্ঘশ্বাস চেপে রাখা অসম্ভব হয়ে পরে, সেই মাথাভরা উজ্জল কোকড়া চুলওয়ালা ইতালীয় লোকটা আমারান্তার প্রস্তাব এক ছোট্ট মেয়ের জেদ হিসেবে নেয়, যাকে পাত্তা দেওয়ার খুব একটা কারণ নেই বলে মনে করে সে।
    “আমার এক ছোট্ট ভাই আছে।” ওকে বলে, “আমাকে দোকানে সাহায্য করতে আসছে।”
    অপমানিত আমারান্তা বিদ্বেষপূর্ণ ঘৃণা নিয়ে বলে, তার এই বোনের বিয়ে বরবাদের জন্য যদি লাশ হয়ে দরজায় শুয়ে থাকতে হয় তবে তার জন্যও সে প্রস্তত । এই নাটকীয় হুমকি ইটালীয়কে এত বেশি প্রভাবিত করে যে সে রেবেকাকে ব্যাপারটা জানায় । এভাবেই উরসুলার ব্যাস্ততার কারণে রোববার পিছিয়ে দেওয়া আমারান্তার ভ্রমণের প্রস্ততি এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয় । আমারান্তা অমত করে না এতে, কিন্তু রেবেকাকে বিদায় চুম্বনের সময় কানে কানে বলে, “অলীক স্বপ্ন দেখিস না, যদি আমাকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তেও নিয়ে যাওয়া হয়, তবুও তোর এই বিয়ে ভাঙার জন্য একটা উপায় আমি বের করে ফেলবই। যদি এতে করে তোকে খুনও করতে হয় তাহলে তাই করব।”
    উরসুলার অনুপস্থিতি আর মেলাকিয়াদেসের ঘরগুলোয় চুপিসারে পায়চারি করা উপস্থিতির ফলে বাড়িটাকে মনে হত বিশাল ও শূন্যতায় ভরা । আদিবাসী মেয়েটা নিয়েছিল বেকারির দায়িত্ব, আর রেবেকা নেয় সংসারের যাবতীয় ভার । রাত্রি হওয়ার সময় লাভেন্ডারের সুগন্ধ ছড়িয়ে সবসময় হাতে খেলনা নিয়ে যখন পিয়েত্র ক্রেসপি উদয় হত, তখন তার দয়িত তাকে আপ্যায়ন করত মূল বসার ঘরটাতে সমস্ত দরজা জানালা সম্পূর্ণ খোলা রেখে, যাতে কারও মনে কোনো সন্দেহ না জাগে । এটা ছিল এক অপ্রয়োজনীয় সতর্কতা। কারণ, ইতালীয় লোকটা এমনকি সেই মেয়েটার হাতও স্পর্শ করত না যে নাকি এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার স্ত্রী হতে যাচ্ছে । এই সব আগমনের কারণে বাড়িটা ভরে যাচ্ছিল আশ্চর্যজনক সব খেলনার দিয়ে । দড়ি দিয়ে চালিত নৃত্যরতা মেয়ে, মিউজিক্যাল বক্স, দরাবাজ বাঁদর, টাট্টু ঘোড়া, আর ঢোল বাজিয়ে ভাঁড়ের মতো বিস্ময়কর খেলনার সম্ভার ভুলিয়ে দেয় মেলকিয়াদেসের জন্য হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার শোকভার; আর ফিরিয়ে নিয়ে যায় তাকে সেই প্রাচীন আলকেমীর সময়ে । তখন সে বাস করত এক নাড়িভুড়ি বের করে ফেলা জীবজন্তর স্বর্গরাজ্যে, যেখানে দোলকের বিরতিহীন সূত্রের উপর ভিত্তি করে বানানো যন্ত্রপাতি দিয়ে দোলকের সঞ্চারনকে নিখুঁত করার চেষ্টা করছে সে। আর অন্যদিকে আউরেলিয়ানো কর্মশালাকে অবহেলা করে ছোট্ট রেমেদিওসকে পড়তে আর লিখতে শিখাচ্ছে। গোড়ার দিকে বালিকাটি তার খেলনা পুতুলগুলোকে গোসল করিয়ে কাপড় পরানোর খেলা থেকে বিরত করে প্রতিদিন বিকেলে মানুষটাকে বৈঠকখানায় বসে আপ্যায়ন করার জন্য মানুষটার চেয়ে তার পুতুলগুলোকেই বেশি পছন্দ করত । কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউরেলিয়ানোর ধৈর্য আর নিষ্ঠার ফলে আকৃষ্ট হয়ে এমন অবস্থায় পৌঁছুল যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিত বর্ণাক্ষর পড়ে, আর এক খাতায় রঙিন পেন্সিল দিয়ে খামারে গোয়ালঘরসহ গরু আর হলুদ পেন্সিল দিয়ে পাহাড়ের পিছনে অস্তগামী গোলাকার সূর্য এঁকে ।
     
  3. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,041
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    শুধুমাত্র রেবেকাই ছিল অসুখী, আমারান্তার হুমকির কারনে । সে ভালোভাবেই পরিচিত ছিল বোনের চরিত্রের সঙ্গে, তার দুর্বিনীত মনের সঙ্গে, আর ভয় পেত তার ঈর্ষাপূর্ণ বিদ্বেষের তীব্রতাকে । ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিত স্নানঘরে আঙুল চুষে, প্রাণান্তকর ইচ্ছাশক্তির বলে মাটি না খেয়ে । একবার এই উৎকণ্ঠা থেকে নিষ্কৃতি পেতে সে ডেকে নিয়ে আসে পিলার তেরনেরাকে ভবিষ্যৎ পড়ার জন্য । প্রচলিত বিভিন্ন অস্পষ্ট ভাষায় আবোলতাবোল বকার পর পিলার তেরনেরা ভবিষ্যদ্বাণী করে, “তুই কখনও সুখী হবি না, যতদিন না তোর বাবা মা কবরস্থ না হবে।”
    শিউরে ওঠে রেবেকা । এক স্বপ্নের স্মৃতির মতো নিজেকে দেখতে পায় খুব বালিকা বয়সে একটা তোরঙ্গ, কাঠের দোলচেয়ার আর এক থলে হাতে এই বাড়িতে ঢুকতে, যে থলের ভেতরের জিনিস সম্বন্ধে তার কোনো ধারণাই ছিল না । তার মনে পরে টাক মাথা, সোনার বোতাম দিয়ে গলাবন্ধ লিলেনের শার্ট পড়া ভদ্রলোকের কথা, যার সঙ্গে (হরতনের) তাসের রাজার কোন সম্পর্কই ছিল না । মনে পরে যায় এক অতি সুন্দরী আর যুবতী মেয়ের কথা যার হাত দুটি ছিল উষ্ণ আর সুগন্ধিযুক্ত যে হাতের সঙ্গে বাতগ্রস্ত তাসের সোনার জোকারের কোনো মিলই ছিল না।

    “বুঝতে পারছি না” – বলল পিলার তেরনেরা বিচলিত হয়ে – “ আমিও না, কিন্তু তাসগুলো এটাই বলেছে”।
    এই প্রহেলিকায় রেবেকা এতই উদ্বিগ্ন হয় যে ব্যাপারটা জানায় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে আর সে তাসের ভবিষ্যৎবাণীতে বিশ্বাস করায় ভর্ৎসনা করলেও কাউকে কিছু না জানিয়ে, তোরঙ্গে আর আলমারীতে, আসবাবপত্র সরিয়ে, বিছানা পত্র উল্টিয়ে হাড়গোড়ের থলেটা খুঁজতে থাকে । মনে পরে যে বাড়ি সংস্কারের সময় থেকে ওটাকে দেখেনি সে । গোপনে রাজমিস্ত্রিদের ডাকে আর ওদের একজন জানায় যে কাজে অনাস্থা সৃষ্টি করে বলে থলেটা কোন এক শোবার ঘড়ের দেয়ালের মধ্যে রেখে দেয়াল গেঁথে ফেলেছে । অনেকদিন দেয়ালে কান পেতে সতর্কতার সঙ্গে শোনার পর দেয়ালের গভীর থেকে ক্লক ক্লক শব্দটা শুনতে পায় । দেয়ালে গর্ত করে সে আর সেখানেই ছিল হাড়গোড়সহ থলেটা অক্ষত অবস্থায় । ঐ একই দিনে ওগুলোকে গোর দেয়া হয় মেলকিয়াদেসের পাশে একটা কবরে; পাথরের কোনো স্মৃতি স্মারক ছাড়াই। আর এতে করে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া মুক্তি পায় প্রুদেন্সিও আগিলারের স্মৃতির অনুরূপ আরেকটি বিবেক দংশন থেকে। রান্না ঘড়ের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সে রেবেকার কপালে চুমু খায় – “মাথা থেকে সমস্ত দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেল” বলে-“তুই সুখী হবি”। আর্কাদিওর জন্মের পর থেকে উরসুলার দ্বারা বন্ধ হওয়া এ বাড়ির দরজা নতুন করে খুলে দেয় তেরনেরার সঙ্গে রেবেকার বন্ধুত্ব । ছাগলের পালের মত দিনের যে কোন সময় বাড়ীতে ঢুকে পরত সে, আর এসেই সমস্ত কর্মশক্তি প্রয়োগ করত সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোতে । মাঝেমধ্যে ঢুকে পরতো কর্মশালায় আর আর্কাদিওকে দক্ষতার সঙ্গে সাহায্য করত দাগেরোটাইপ পাতগুলোকে আলক-সংবেদী করতে। আর এটা করত সে এতটাই মমতার সঙ্গে যে ছেলেটা তাতে ওর সম্পর্কে ভুল বুঝত । হতবুদ্ধি করে দিত মেয়েটা ওকে । ওর রোদে পোড়া গা, ওর শরীরের ধোঁয়াটে গন্ধ, হাসির অসামঞ্জস্য অন্ধকার ঘড়টাতে তার মনোযোগে আলোড়ন সৃষ্টি করত, ফলে হোঁচট খেত সে জিনিসপত্রের সঙ্গে ।

    মাঝেমধ্যে আউরেলিয়ানো থাকত ওখানে রুপার কাজ করতে আর একবার পিলার তেরনেরা টেবিলে ভর দেয় ওর ধৈর্যশীল কাজের প্রশংসা করতে । তখনই ঘটে ব্যাপারটা । আউরেলিয়ানো নিশ্চিত হয় আর্কাদিওর অন্ধকার ঘরে থাকার ব্যাপারে, আর চোখ তুলে পিলার তেরনেরার সঙ্গে চোখাচোখি হবার আগেই পড়তে পারে ওর চিন্তাধারা। কারন তা ছিলো মধ্যদিনের আলোর মতই উজ্জ্বল ।
    বলে আউরেলিয়ানো- “বল কি বলতে চাস”
    পিলার তেরনেরা এক করুন হাসির সঙ্গে ঠোট দুটো কামড়ে ধরে । “যুদ্ধ করার জন্য তুমি খুবই ভাল” বলে- “যেখানে দৃষ্টি ফেল সেখানেই বুলেট ঢুকাও” (একবারে সফল হওয়ার অর্থ বহন করে এই প্রবাদ) । ইঙ্গিতটার সত্যতার প্রমান পেয়ে হাঁফ ছাড়ে আউরেলিয়ানো । আবার কাজে মন বসায় যেন কিছুই ঘটেনি আর তার গলার স্বর ফিরে পায় স্বাভাবিক দৃঢ়তা ।
    “স্বীকার করছি” বলে, “আমার নামেই নাম হবে ওর।”
     
  4. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,041
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১৪

    চলবে...
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)