1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর (উপন্যাস)

Discussion in 'Collected' started by abdullah, Sep 18, 2016. Replies: 53 | Views: 3235

  1. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    “তোমার এত দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।” বলে হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়া, “লোকটা হচ্ছে হিজড়ে।” কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত নাচ শেখা শেষ না হল আর লোকটা মাকন্দো থেকে চলে না গেল ততক্ষণ পর্যন্ত সে তার পাহারায় যতি টানল না। তখন আরম্ভ হল উৎসবের প্রস্তুতি। উরসুলা তৈরি করে নিমন্ত্রিতদের এক কড়াকড়ি তালিকা যেখানে শুধুমাত্র বাছাই করা হয় মাকন্দো পত্তনকারীদের আর তাদের বংশধরদের। ব্যতিক্রম ছিল শুধুমাত্র অজ্ঞাত পিতাদের দ্বারা আরও দুই সন্তানের জন্ম দেওয়া পিলার তেরনেরার পরিবার। সত্যিকার অর্থে সমাজের এক বিশেষ স্তরই শুধুমাত্র আমন্ত্রিত হয়েছিল। আর শুধুমাত্র বন্ধুত্বের মনোবৃত্তির উপর নির্ভর করেই তাদের নির্বাচন করা হয়েছিল। কারণ সৌভাগ্যবানরা শুধুমাত্র মাকন্দো পত্তন অভিযানের আগে থেকে হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়ার যে সুহৃদ তাই নয়, বরঞ্চ তাদের ছেলেরা ছিল আউরেলিয়ানো আর আর্কাদিয়র শৈশবের নিত্যসঙ্গী। একমাত্র ওদের মেয়েরাই বাড়িতে আসত রেবেকা আর আমারান্তার সঙ্গে এমব্রয়ডারি করতে।

    দয়াশীল শাসক দন আপলিনার মাসকতের ক্ষমতা সীমিত ছিল ওর অল্প সংস্থানে দুই লাঠিধারী পুলিশের ভরণপোষণে, যা ছিল নিছকই লোক দেখানো। বাড়ির খরচ মেটানোর জন্য তার মেয়েরা এক সেলাইয়ের দোকান খোলে। যেখানে সেলাই করা হত ফেল্টের ফুল। পাশাপাশি করা হত পেয়ারার তৈরি মিষ্টি অথবা চাহিদা অনুযায়ী প্রেম নিবেদনপত্র। কিন্তু বিনয়ী, পরিশ্রমী, গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী আর নতুন ধরনের নাচে সবচেয়ে দক্ষ হলেও উৎসবের আমন্ত্রণ ওরা সংগ্রহ করতে পারে না।
     
  2. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    যখন উরসুলা আর মেয়েরা আসবাবপত্রের মোড়ক খুলছে, ধুলা ঝারছে থালা বাসনের, টাঙাচ্ছে নৌকাভরা গোলাপসহ কুমারী মেয়েদের ছবি, যা কিনা রাজমিস্ত্রিদের বানানো নতুন খালি জায়গায় জীবনের প্রাণস্পন্দন এনে দিচ্ছে, তখন হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়া ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবি খোঁজার ব্যাপারে ইস্তফা দেয়। আর ঈশ্বরের অনস্তিত্বে নিশ্চিত হয়ে পিয়ানোলাটা বিভিন্ন অংশে খুলে ফেলে ওটার ভেতরের জাদুকরি গোপন ব্যাপারটা উম্মোচনের জন্য। উৎসবের দুদিন আগে ঠিক জায়গামতো লাগাতে না পারা পিন আর পিয়ানোলার হাতুড়ির মধ্যে ডুবে থাকে সে। একদিক থেকে খুলে ফেলা জট অন্যদিকে পেঁচিয়ে যাওয়ার সমস্যায় হাবুডুবু খেয়ে, কোনো রকমে সে একসঙ্গে লাগায় পিয়ানোলাটা। ঐ সময়ের তুলনাহীন ব্যস্ততা আর দৌড়াদৌড়ির মধ্যেও পিচের বাতিগুলো আগে থেকে নির্দিষ্ট করা দিন এবং ঘণ্টায় জালানো হয়। বাড়িটা খোলা হয় যখন, তখনও সেখান থেকে ভেজা চুন আর রজনের গন্ধ বের হচ্ছিল। পত্তনকারীদের ছেলেরা আর নাতিরা পরিচিত হয় ফার্ন আর বেগনিয়ার বারান্দার সঙ্গে, নিঃশব্দ ঘরগুলোর সঙ্গে আর বাগানভর্তি গোলাপের সুবাসের সঙ্গে। আর ওরা সমবেত হয় বসার ঘরে, সাদা চাদড় দিয়ে ঢাকা এক অজ্ঞাত আবিষ্কারের সামনে। যারা জলাভূমির অন্যান্য লোকবসতিতে জনপ্রিয় পিয়ানো্লা যন্ত্রটার সঙ্গে পরিচিত ছিল, তারা সামান্য হতাশ হয়। তিক্ত মোহভঙ্গ ঘটে উরসুলার যখন আমারান্তা আর রেবেকা নৃত্যপর্বের শুরু করার জন্য প্রথম রোলটা লাগানো হয়, আর দেখা যায় যন্ত্রটা কাজ করছে না। প্রায় অন্ধ, বয়সের ভারে ভগ্ন মেলকিয়াদেস তার প্রাচীন শৈল্পিক বিজ্ঞতা দিয়ে যন্ত্রটাকে সাড়তে চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়া ভুলবশত আটকে থাকা একটা যন্ত্রাংশ নড়িয়ে দেওয়ার পর প্রথমে সুর বেরিয়ে আসে বিস্ফোরণের মতো। পরে সবগুলো জটিল গোলমেলে স্বরের ঝরনারূপে, কোনো কনসার্টের শৃঙ্খলা ছাড়াই তারগুলোতে বেপরোয়া আঘাত হাতুড়িগুলোকে পাগল করে তোলে। কিন্তু সমুদ্রের খোঁজে পাহাড় ডিঙিয়ে পশ্চিম দিক থেকে আসা একশজন একগুঁয়ে লোকের বংশধররা সুরের জগাখিচুড়ির বাধাকে অগ্রাহ্য করে, আর ওদের নাচ প্রলম্বিত হয় ভোর পর্যন্ত।

    পিয়ানোলা সাড়ার জন্য ফিরে আসে পিয়েত্র ক্রেস্পি। রেবেকা আর আমারান্তা সাহায্য করে তাঁরগুলোকে ঠিক জায়গায় বসাতে আর উচ্চহাস্যে ফেটে পড়ে গোলমেলে ওয়ালটজের সুরে। এসব ঘটে এতই স্বাভাবিক আর মাধুর্য্য নিয়ে যে উরসুলা পাহারা দেওয়া বাদ দেয়। যাবার একদিন আগে সেরে ফেলা পিয়ানোলাটা দিয়ে এক বিদায় নাচের আয়োজন করে পিয়েত্র আর নৈপুণ্যসহ রেবেকাকে প্রদর্শন করে আধুনিক নাচ। আর্কাদিয় আর আমারান্তা একই রকম আনন্দ আর নৈপুণ্য সহকারে যোগ দেয়। কিন্তু নাচে বিঘ্ন ঘটে যখন কৌতূহলীদের সঙ্গে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা পিলার তেরনেরা এক মেয়েকে বলতে শুনল ‘ যুবক আর্কাদিয়র নিতম্ব মেয়ে মানুষের মতো’, আর সে তার সঙ্গে কামড়াকামড়ি চুলোচুলি বাধায়। মধ্যরাত্রে পিয়েত্র ক্রেস্পি বিদায় নেয় এক আবেগপূর্ণ আলাপের মাধ্যমে, খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। রেবেকা ওকে সঙ্গ দেয় দরজা পর্যন্ত আর বাড়ির সব দরজা বন্ধ এবং বাতি নেভানোর পর সে ঘরে ঢোকে কান্নার জন্য। সে ছিল এক অসান্ত্বনাদায়ক কান্না, যা গড়িয়েছিল অনেকদিন পর্যন্ত, এর কারণ কেউ জানত না। এমনকি আমারান্তাও নয়। ওর এই গোপনীয়তা কোনো নতুন ব্যাপার ছিল না। যদিও তাকে মনে হত খোলামেলা আর আন্তরিক কিন্তু তার ছিল এক নিঃসঙ্গতায় ভরা চরিত্র আর দুর্ভেদ্য মন। সে ছিল লম্বা আর শক্ত হাড়ের চমৎকার এক কিশোরী, কিন্তু বারবার মেরামত করার পরও, নিজের সঙ্গে নিয়ে আসা হাতলবিহীন কাঠের দোলচেয়ারটাকে ব্যবহারের ব্যাপারে সে ছিল অনড়। কেউই জানত না যে এই বয়সেও সে বজায় রেখেছিল আঙুল চোষার অভ্যাসটা। এ কারণে সে বাথরুমে নিজেকে বন্দি করার সুযোগটা হাতছাড়া করত না। আর একই সময় দেয়ালের দিকে মুখ করে ঘুমানোর অভ্যাসটাও সে আয়ত্ত করে ফেলে।
     
  3. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    বৃষ্টিভেজা বিকেলগুলোতে যখন বেগনিয়া-ঢাকা বারান্দায় একদল বান্ধবীর সঙ্গে সে এমব্রয়ডারি করত, তখন তার আলাপের সুতো ছিঁড়ে গেলে তাকিয়ে দেখত ভেজা মাটির স্তূপগুলো আর স্মৃতিকাতর একফোঁটা জল এসে ভিজিয়ে দিত ওর চোখ ও জিহ্বা। তখন সে কাঁদতে আরম্ভ করত আর অন্যসময়ে কমলা ও রেউচিনির কাছে হেরে যাওয়া নিভৃত ভালো লাগাগুলো অদম্য বাসনা নিয়ে আঘাত করত ওকে। তখন আবার মাটি খেতে আরম্ভ করে সে। প্রথমবার খায় শুধু কৌতূহলবশত, নিশ্চিত হয় যে মাটির খারাপ স্বাদই প্রলোভনের সবচেয়ে ভালো প্রতিষেধক হবে, আর সত্যিই মুখের ভেতর মাটি সে সহ্য করতে পারছিল না। কিন্তু ক্রমবর্ধিষ্ণু উৎকণ্ঠার তাড়নায় নিজেকে জোর করে বারবার। আর আস্তে আস্তে উদ্ধার পায় তার বংশগত ক্ষুধা, মৌল খনিজগুলোর প্রতি ভালো লাগা, আদি খাবারের অভিন্ন পরিতৃপ্তি। মুঠি মুঠি মাটি পকেটে ভরার পর একটু একটু করে খেত সকলের আড়ালে। খেতে ভালোলাগা আর উগ্র রোষের সম্মিলিত এক বিভ্রান্তিকর মনোভাব নিয়ে। কাজটা সে করত বান্ধবীদের সেলাইয়ের সবচেয়ে কঠিন ফোঁড় শিখিয়ে দিতে দিতে আর অন্য পুরুষ মানুষ সম্বন্ধে আলাপ করতে করতে যে, পুরুষরা চুন খাওয়ার মতো ত্যাগস্বীকারের পাত্র নয়। মুঠি মুঠি মাটি ওকে নিয়ে যেত আরও কাছে, ওকে করে তুলত আরও নিশ্চিত যে, এই অধঃপতনের ত্যাগ স্বীকারের যোগ্য পৃথিবীতে একজন লোকই আছে যার পরিশীলিত চামড়ার বুট পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে প্রেরণ করছে রেবেকাকে তার ভার ও রক্তের উত্তাপ এক খনিজ স্বাদের মাধ্যমে, যে স্বাদ মেয়েটার মুখে রেখে যেত এক খসখসে তিক্ততা। আর হৃদয়ে রেখে যেত শান্তির পলি।
     
  4. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১২

    কোন কারন ছাড়াই এক বিকেলে আম্পারো মসকতে বাড়িটার সঙ্গে পরিচিত হবার অনুমতি চায় । এই আকস্মিক আগমনে অপ্রস্তত আমারান্তা ও রেবেকা কঠোর লৌকিকতার সঙ্গে ওদের আপ্যায়ন করে । তাদের সংস্কার করা ভবনটা ঘুরিয়ে দেখায়, বাজিয়ে শোনায় পিয়ানোলাটা আর পরিবেশন করে বিস্কুটের সঙ্গে কমলার শরবত । যে অল্পক্ষণ উরসুলা ওদের সঙ্গে ছিল সে সময়ের মধ্যেই সম্ভ্রম, চরিত্রের মাধুর্য আর শিষ্টাচার দিয়ে আম্পারো তাকে মুগ্ধ করে । ঘন্টা দুয়েক পরে যখন আলাপচারিতা নিস্তেজ হওয়ার পথে তখন আমারান্তার অসতর্কতার সুযোগে রেবেকাকে দেয় একটি চিঠি । ও শুধু দেখতে পেল ‘সম্মানিতা সেনঞরিতা রেবেকা বুয়েন্দিয়া’ লেখা নামটা, অক্ষরের সেই একই বিন্যাসে লেখা, একই সবুজ কালি আর একই রকম সুক্ষ্ণতার সঙ্গে সাজানো শব্দগুলো, যেভাবে লেখা রয়েছে পিয়ানোলাটাকে চালানোর নিয়মকানুন । আঙুলের ডগা দিয়ে ভাঁজ করে চিঠিটা আর আমপারো মসকোতেকে আমৃত্যু নিঃশর্ত সহযোগিতা ও কৃতজ্ঞতার প্রতিশ্রুতিদায়ক অভিব্যক্তির চাহনি সহকারে লুকিয়ে ফেলে সেটা বডিসের ভিতর ।

    আম্পারো মসকোতে ও রেবেকা বুয়েন্দিয়ার এই আকস্মিক বন্ধুত্ব আউরেলিয়ানোর মনে আশা জাগিয়ে তোলে । ছোট্ট রেমেদিওসের স্মৃতি-যন্ত্রনা থেকে রেহাই দেয়নি ওকে কিন্তু রেমেদিওসকে দেখার মত কোন সুযোগও হয়নি তার। মাগনিফিকো ভিসকল এবং গেরিলেনদো মারকেস, গ্রাম পত্তনকারীদের ছেলে, যাদের নাম ছিল বাপের মত একই নামে নাম, তারা ছিল আউরেলিয়ানোর নিকটতম বন্ধু। যখন ওদের সঙ্গে আউরেলিয়ানো গ্রামের পথে বেড়াত তখন ওকে উৎকন্ঠিত দৃষ্টিতে খুঁজে বেড়াতো সেলাইয়ের দোকানে, কিন্তু শুধুই দেখা যেত বড় দুই বোনকে । আম্পারো মসকোতের এই বাড়িতে উপস্থিতিটা ছিল যেন একটা কিছুর পূর্বাভাস। “ ওর সঙ্গে তাকে আসতেই হবে” এই কথাটা প্রবল বিশ্বাসের সঙ্গে এতবার সে পুনরাবৃত্তি করে, যে এক বিকেলে যখন সে ছোট্ট একটা সোনার মাছ বানাচ্ছিল তখন নিশ্চিত হয় যে সে তার ডাকে সাড়া দিয়েছে । কিছুক্ষণ পর সত্যি সত্যিই শুনতে পেল বালিকাদের গলা, আর ভয়ে জমে যাওয়া হৃদয় নিয়ে দৃষ্টি তুলতেই দেখতে পেল গোলাপী রঙের অর্ধস্বচ্ছ কাপড় দিয়ে বানানো জামা আর সাদা জুতা পরিহিত বালিকাটিকে ।
     
  5. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    “ওখানে ঢুকো না” বলে বারান্দা থেকে আম্পারো মসকোতে- “ওরা ওখানে কাজ করছে” । কিন্তু আউরেলিয়ানো ঐ কথায় সাড়া দেয়ার সময় ওকে দেয় না । মাছের মুখ থেকে বের হওয়া চেন ধরে সোনার মাছটা টেনে ধরে তুলে বলে “ ভেতরে এস” । রেমেদিওস কাছে এসে মাছটি সম্বন্ধে কিছু প্রশ্ন করে তাকে কিন্তু হঠাৎ এসে পরা হাঁপানি আউরেলিয়ানোকে উত্তর দিতে বাঁধা দেয় । অনন্তকালের জন্য থাকতেই ইচ্ছে হয় তার এই লিলি ফুলের মত মুখের সঙ্গে, এই পান্না সবুজ চোখের সঙ্গে। প্রতিবার নিজের বাবাকে সম্মান দিয়ে যেভাবে স্যার বলে, সেই একই সম্মান দিয়ে যে গলার স্বরটা আউরেলিয়ানোকে ডাকছিল “স্যার” বলে, সেই স্বরের খুব কাছাকাছি থাকতে । মেলকিয়াদেস বসা ছিল কোনার টেবিলে আর আঁকিবুকি করছিল অর্থ উদ্ধারে অসম্ভব সংকেত লিপি নিয়ে । আউরেলিয়ানো ওকে ঘৃণা করে ঐ মুহূর্তে। রেমেদিওসকে মাছটা উপহার দিবে এটা বলা ছাড়া সে আর কিছুই করতে পারে না। আর এই নৈবেদ্যের আকস্মিকতায় মেয়েটা এতই ভয় পায় যে দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করে সে । যে গোপন ধৈর্য নিয়ে আউরেলিয়ানো ওকে দেখতে পাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিল ঐ বিকেলে সে তা হারিয়ে ফেলে । কাজে অন্যমনস্ক হয় সে । মরিয়া হয়ে সমস্ত শক্তি কেন্দ্রীভূত করে অনেকবার তাকে ডেকে যায় আপন মনে কিন্তু রেমেদিওস তাতে সাড়া দেয় না । ওকে খুঁজে বেড়ায় বোনদের কাজের জায়গায়, ওদের বাড়ির জানালার পর্দার পেছনে, ওর বাবার অফিসে, কিন্তু একমাত্র পায় ওর নিজস্ব জমে ওঠা ভয়ঙ্কর একাকীত্বের প্রতিচ্ছবি । ও পার করে দিত ঘন্টার পর ঘন্টা খাবার ঘরে রেবেকার সঙ্গে পিয়ানোলায় ওয়ালটজ শুনে । রেবেকা শুনত কারন ওটা ছিল সেই গান যার সঙ্গে পিয়েত্র ক্রেস্পি নাচতে শিখিয়েছিল ওকে। আউরেলিয়ানো শুনত কারন সবকিছুই, এমনকি বাজনাও তাকে মনে করিয়ে দিত রেমেদিওসের কথা ।
     
  6. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ভালবাসায় ভরে উঠল বাড়িটা । আউরেলিয়ানো তা প্রকাশ করে পদ্যের মাধ্যমে যার কোন আরম্ভ ছিলনা এমনকি ছিলনা শেষও । ওগুলোকে লিখত সে মেলকিয়াদেস থেকে উপহার পাওয়া খসখসে পার্চমেন্ট কাগজে, গোসলখানার দেয়ালে, নিজের বাহুর চামড়ায়, আর সবগুলো পদ্যেই উপস্থিত হত রূপান্তরিত রেমেদিওসঃ বেলা দুটোর নিদ্রাউদ্রেককারী বাতাসে রেমেদিওস, গোলাপের নীরব নিঃশ্বাসে রেমেদিওস, প্রজাপতির কাঁচ ঘড়ির গোপনীয়তায় রেমেদিওস, রেমেদিওস ভোরের রুটিতে ওঠা ভাপে, রেমেদিওস সব জায়গায় আর রেমেদিওস অনন্তকালের জন্য । বিকেল চারটার সময় এমব্রয়ডারি করতে করতে জানালার পাশে ভালবাসার অপেক্ষা করত রেবেকা । ও জানত যে ডাক বওয়া খচ্চরটা প্রতি পনের দিনে আসে একবার, কিন্তু সে অপেক্ষা করত সব সময়; ভুল করে কোন একদিন চলে আসবে এই স্থির বিশ্বাসে । কিন্তু ঘটে তার ঠিক উল্টোটাঃ একবার খচ্চরটা এল না নির্দিষ্ট দিনে । হতাশায় পাগল হয়ে মধ্যরাত্রিতে বাগানে গিয়ে মুঠি মুঠি মাটি খেল, আত্মহত্যার উদগ্র ইচ্ছেয়, ক্রোধ আর কষ্ট নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে, নরম কেঁচো চিবুতে চিবুতে আর শামুখের খোলসের ঘায়ে মাড়ি ক্ষতবিক্ষত করতে করতে । ভোর পর্যন্ত বমি করে চলে সে । ডুবে যায় এক অবসন্নতার চরমে, বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ফেলে, আর ওর হৃদয় খুলে যায় অশালীন প্রলাপবিকারে । এতে মর্মঘাতী হয়ে উরসুলা তোরঙ্গের তালা ভেঙ্গে একেবারে তলায় পায় গোলাপী ফিতে দিয়ে বাঁধা সুবাসিত ষোলটি চিঠি, প্রাচীন বইয়ের মধ্যে রাখা গাছের পাতা আর ফুলের পাপড়ির কঙ্কাল আর শুকিয়ে যাওয়া প্রজাপতি যা ছোঁয়ার সাথে সাথেই গুড়ো হয়ে ধুলোয় পরিণত হয় । একমাত্র আউরেলিয়ানোরই ক্ষমতা ছিল ওর এই শোকাহত অবস্থাকে বুঝতে পারার । সেই বিকেলে, উরসুলা যখন রেবেকাকে তার উদ্ভ্রান্ত অবস্থা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে, আউরেলিয়ানো তখন ম্যাগনিফিক ভিসবাল ও গেরিনেলদো মারকেসের সঙ্গে কাতারিনোর দোকানে যায় । জায়গাটাকে বাড়ানো হয়েছিল এক কাঠের ঘড় দিয়ে যেখানে নিঃসঙ্গ মেয়েরা থাকে মৃত ফুলের গন্ধ নিয়ে । অ্যাকোরডিয়ান আর বোলসহ একটি দল ফ্রান্সিসকো এল অম্ব্রের গান গেয়ে চলে আর ফ্রান্সিসকো বেশ কয়েক বছর হল মাকন্দো থেকে উধাও হয়ে গেছে । তিন বন্ধু গাজানো গুয়ারাপো (আখের রস দিয়ে বানানো পানীয়) পান করে । মাগনিফিকো আর গেরিনেলদো হচ্ছে আউরেলিয়ানোরই সমসাময়িক কিন্তু দুনিয়ার হাল হকিকতে তারা অনেক বেশি ওয়াকিবহাল । ওরা সেখানে নিয়মমাফিক মেয়েদের কোলে বসিয়ে পান করে যায় । চিমসে যাওয়া সোনার দাঁতওয়ালা ওদেরই একজন কুৎসিতভাবে আদর করে আউরেলিয়ানোকে । সে প্রত্যাখ্যান করে । সে বুঝতে পারে যতই পান করছে ততই মনে পরে যাচ্ছে রেমেদিওসের কথা, কিন্তু তেমনই আরও বেশী অসহ্য হয় তার স্মৃতির যন্ত্রণা । সে বুঝতেও পারল না কখন সে ভাসতে শুরু করেছে। দেখতে পেল তার বন্ধুরা আর মেয়েরা উজ্জ্বল আলোর প্রতিবিম্বে ভেসে বেড়াচ্ছে– ওজনবিহীন, আয়তনবিহীন, বলা কথাগুলো ঠোটের ফাঁক দিয়ে বেরুচ্ছে না । আর ওরা এমন সব ইঙ্গিত করছে যা তাদের মুখভঙ্গির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ । কাতারিনো ওর পিঠে হাত রেখে বলল “এগারোটা বাজতে যাচ্ছে” । আউরেলিয়ানো মাথা ঘুরিয়ে কানে গোঁজা ফেল্টের ফুলসহ বিশাল বিকৃত মুখটা দেখে আর তখনই স্মৃতিবিলোপ ঘটে তার, যেমনটা ঘটত বিস্মরণের সময়। তার স্মৃতির পুনরুদ্ধার হয় এক অদ্ভুত ভোরে; এক কামরায়, যেটা ছিল সম্পূর্ণই অপরিচিত । তার সঙ্গে সংযুক্ত হয় খালি পায়ে, উস্কখুস্ক চুলসহ পিলার তেরনেরা, তাকে দেখছে এক বাতির আলোয় আলোকিত করে অবিশ্বাস্য চোখে ।
     
  7. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    “আউরেলিয়ানো”!

    নিজের পায়ে স্থির হয়ে মাথা তোলে আউরেলিয়ানো । সে জানত না কিভাবে এখানে এসেছে, কিন্তু জানত আসার উদ্দেশ্য। কারন শৈশব থেকে তা গোপনে বহন করছিল হৃদয়ের অলংঘ্য দুর্ভেদ্য অংশে । “ আপনার সঙ্গে শুতে এসেছি” বলল । কাঁদা আর বমিতে মাখামাখি ছিল ওর পরনের জামাকাপড় । পিলার তেরনেরা তখন বাস করত শুধুমাত্র নাবালক দুই ছেলেদের নিয়ে, সে তাকে কোন প্রশ্নই করে না । ঘড়ে নিয়ে ওকে মুখটা মুছিয়ে দেয় এক ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে, খুলে ফেলে তার পরিহিত বস্ত্র; পরে নিজে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে মশারী নামিয়ে দেয় যাতে ছেলেরা জেগে উঠলে দেখতে না পায় । যে লোকটার আসার কথা ছিল, যে লোকগুলো চলে গিয়েছে, তাসদের অনিশ্চয়তাময় আচরণে বিভ্রান্ত হয়ে অগনিত যে লোকগুলো তার বাড়ির পথ খুঁজে পায়নি তাদের আগমনের আশায় থেকে থেকে সে ক্লান্ত হয়ে গেছে । এই দীর্ঘ অপেক্ষায় ভাঁজ পরেছে ওর চামড়ায়, স্তনগুলো হয়ে গেছে খালি, আর নিভে গেছে হৃদয়ের অঙ্গার । অন্ধকারে আউরেলিয়ানোকে খুঁজে নিয়ে পেটের উপর হাত রেখে গলায় চুমু খেল মাতৃসুলভ কোমলতা নিয়ে । “ অভাগা ছেলে আমার” বিড়বিড় করে সে । কেঁপে ওঠে আউরেলিয়ানো । এক প্রশান্ত দক্ষতায় বিন্দুমাত্র ভুল না করে পেছনে সরিয়ে দেয় তার পর্বত প্রমান কষ্ট আর রেবেকা হয়ে পরে ছোট্ট জন্তু আর সদ্য ইস্ত্রি করা জামার গন্ধে ভরা সীমানাবিহীন জলাভূমি । যখন স্বাভাবিক হল তখন সে কাঁদছে । গোড়াতে কান্নাটা ছিল নিজের অজান্তেই থেকে থেকে ফুঁপিয়ে ওঠা কান্না । পরে খালি করে দিল এক বাঁধনহীন ঝর্নাধারা, যেন ওর ভেতরে স্ফীত যন্ত্রণাদায়ক কিছু একটা বিস্ফোরিত হয়েছে । পিলার অপেক্ষা করে আঙুলের ডগা মাথায় বুলিয়ে দিতে দিতে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আউরেলিয়ানোর শরীর ছেড়ে যায় সেই কালো পদার্থ যা তাকে বাঁচতে দিচ্ছিল না । তখন পিলার তেরনেরা জিজ্ঞেস করে “ কে সে” আর আউরেলিয়ানো বলে তার কথা । পিলার হেসে ফেলে সেই হাসি, যে হাসি শুনে অন্য সময় ঘুঘুরা চমকে যেত। কিন্তু এবার এমনকি বাচ্চারাও ঘুম থেকে জাগে না সেই হাসিতে। “ প্রথমে তাকে লালন করা শেষ করতে হবে তোকে” ব্যাঙ্গ করে সে । কিন্তু এই ব্যঙ্গের আড়ালে আউরেলিয়ানো খুঁজে পায় এক সহানুভূতির স্থির জলাধার। যখন সে ঘড় থেকে বের হয় তখন শুধুমাত্র যে তার পুরুষত্ব সম্বন্ধে অনিশ্চয়তা ত্যাগ করে তাই নয়, এতগুলো মাস ধরে তার হৃদয়ভরা তিক্ততার ভারও ফেলে রেখে আসে পেছনে । হঠাৎ করেই পিলার তেরনেরা অঙ্গীকার করে বসে – “বালিকাটির সঙ্গে আমি কথা বলব”- ওকে বলে “ আর দেখে নিস, ওকে আমি তোর থালায় এনে পরিবেশন করব” । অঙ্গীকার পূরণ করে সে, কিন্তু এক খারাপ সময়ে, কারন বাড়িটা হারিয়ে ফেলেছে সেই অন্য দিনগুলোর শান্তি ।
     
  8. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১৩

    রেবেকার চিৎকারের কারণ গোপন রাখা সম্ভব না হওয়ায় সকলেই ওর আসক্তির কথা জেনে যায়, আর এদিকে আমারান্তা ভোগে প্রচণ্ড জ্বরে । যেন নিঃসঙ্গ প্রণয়ের কণ্টক ফুটেছে ওর মধ্যেও । গোসলখানার দরজা বন্ধ করে প্রণয়ের ঝড় উজার করত আশাহীন আবেগতপ্ত চিঠি লিখে আর সন্তুষ্ট হত তোরঙ্গের তলায় ওগুলোকে লুকিয়ে রেখে । উরসুলা কোনো রকমে দুজন রোগীর দেখাশোনা করার সময় করে উঠতে পারে । অনেক সময় ধরে গোপন জেরা করার পরও আমারান্তার এই অবস্থার কারণের স্বীকারোক্তি আদায় করা যায় না । পরিশেষে এক ক্ষণিক খেয়ালবশে তোরঙ্গের তালা ভেঙে পাওয়া যায় গোলাপি ফিতে বাঁধা তাজা লিলি ফুলে স্ফীত, আর চোখের জলে ভেজা চিঠিগুলো; যেগুলো পিয়েত্র ক্রেস্পিকে উদ্দেশ্য করে লেখা আর কখনও সেগুলো তাকে পাঠানো হয়নি । রাগে কাঁদতে কাঁদতে শাপান্ত করে সেই সময়টাকে যখন তার ইচ্ছে হয়েছিল পিয়ানোলাটাকে কেনার, আর বন্ধ করে দেয় এমব্রয়ডারির ক্লাস। যদিও কেউ মারা যায়নি; তবুও ঘোষণা করে এক ধরনের শোকাবস্থার যেটা নাকি চলতে থাকবে যতদিন না মেয়েরা পিয়েত্রর আশা ত্যাগ করছে । এ ক্ষেত্রে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার মধ্যস্থতা বৃথাই গেল, কারণ সে পিয়েত্র ক্রেস্পির বাদ্য যন্ত্রের উপর দক্ষতা দেখে তার সম্পর্কের পূর্বধারণা বদলে ফেলেছিল । ফলে যখন পিলার তেরনেরা আউরেলিয়ানোকে বলল যে রেমেদিওস তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখন সে বুঝতে পারে যে খবরটা তার বাবা মাকে যন্ত্রণার শেষ অবস্থায় নিয়ে যাবে । কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে কাজটা করতে হয় তার । অতিথিদের বসার ঘড়ে এক আনুষ্ঠানিক আলোচনায় আমন্ত্রিত হয়ে ছেলের সাহসী ঘোষণা শোনে তারা, যদিও দয়িতার নাম শুনে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া অপমানে লাল হয়ে যায় । বজ্রাহতের মতো হয়ে বলে, “প্রেম হচ্ছে মহামারী। এত সুন্দরী আর ভদ্র মেয়ে থাকতে একমাত্র তোর বিয়ে করার ইচ্ছে হয় শত্রুর মেয়ের সঙ্গে !”
    কিন্তু উরসুলা একমত হয় ওর এই পছন্দের সঙ্গে। স্বীকার করে যে সত্যিই মসকতের সাত বোনই সৌন্দর্য, কর্তব্যপরায়ণতা, সহবৎ, উত্তম শিক্ষার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য আর ছেলের সিদ্ধান্তে খুশি হয় সে । স্ত্রীর এই উৎসাহের কাছে হার মেনে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া এক শর্ত জারি করে, “ পিয়েত্র ক্রেস্পি রেবেকাকেই ভালবেসেছে এবং সে-ই বিয়ে করবে পিয়েত্র ক্রেস্পিকে । যখন হাতে সময় হবে উরসুলা নিয়ে যাবে আমারান্তাকে প্রাদেশিক রাজধানীতে যাতে করে বিভিন্ন লোকজনের সংস্পর্শে এসে সে এই হতাশা থেকে আরোগ্য লাভ করে।”
    এই সিদ্ধান্ত জানার পরপরই রেবেকা সুস্থ হয়ে ওঠে; আর দয়িতের কাছে বাবা মা তাদের বিয়েতে মত দিয়েছে এই জানিয়ে এক উল্লসিত চিঠি লিখে। অন্য কারও সাহায্য না নিয়ে নিজেই ওটাকে ডাকে ফেলে আসে । আমারান্তা সিদ্ধান্তটা মেনে নেওয়ার অভিনয় করে। আস্তে আস্তে তার জ্বর ভালো হয়ে যায় কিন্তু সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে যে একমাত্র তার মরা লাশকে ডিঙিয়েই রেবেকা বিয়ে করতে পারবে ।
     
  9. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    পরের শনিবার হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া কালো কাপড়ের সেলুলয়েডের কলারসহ স্যুট, বাড়ি উদ্বোধনের দিন প্রথম পরা পশমি চামড়ার বুট পরে রেমেদিওস মসকতের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায় । ম্যাজিস্ট্রেট আর তার স্ত্রী একই সঙ্গে আনন্দ আর দুশ্চিন্তা নিয়ে তাকে আপ্যায়ন করে কারণ এই অকস্মাৎ সফরের অর্থ তাদের ছিল অজানা । আর পরে ওরা ভাবে, তারা দয়িতার নাম গুলিয়ে ফেলেছে। ওর ভুল ভাঙাতে রেমেদিওসের মা তাকে ঘুম থেকে তুলে বাহু ধরে বসার ঘড়ে নিয়ে যায়। তখনও তার চোখে ঘুম লেগে ছিল ।
    সত্যিই সে বিয়ে করতে রাজি কিনা এই প্রশ্ন তাকে করায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে সে বলে যে সে শুধুমাত্র চায় যে তাকে ঘুমুতে দেওয়া হোক। মসকতেদের এই বিভ্রান্তিকর অবস্থা বুঝতে পেরে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ব্যাপারটা খোলসা করার জন্য আউরেলিয়ানোর কাছে যায় । যখন ফিরে আসে ততক্ষণে মসকতে দম্পতি আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে, আসবাবপত্রের অবস্থান বদলে, ফুলদানিগুলোতে নতুন ফুল সাজিয়ে, ওদের বড় মেয়েদের নিয়ে অপেক্ষা করছিল । ঘটনাটার অসামঞ্জ আর শক্ত কলারের অস্বস্তিতে পর্যুদস্ত হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ওদের নিশ্চিত করে যে রেমেদিওসই হচ্ছে পছন্দের পাত্রী ।
    “এর কোনো মানেই নেই।” হতাশা নিয়ে বলে দন আপলিনার মসকতে, “আমাদের আরও ছয়টি মেয়ে আছে, সকলেই অবিবাহিতা আর সকলেরই বিয়ের বয়স হয়েছে । যারা কিনা আপনার ছেলের মতো নিষ্ঠাবান আর পরিশ্রমী লোকের বউ হতে পারলে আনন্দিত আর সম্মানিত হত। আর কিনা আউরেলিতোর চোখ পড়ল একমাত্র তার উপর, যে নাকি এখনও বিছানায় প্রশ্রাব করে ।”
     
  10. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,048
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সুসাস্থ্যের অধিকারী তার স্ত্রী বেদনাক্লিষ্ট আঁখিপল্লব ও মুখভঙ্গী নিয়ে মসকতের ভুলের জন্য তিরস্কার করে। ফল বাটা শরবত পান শেষ করে আউরেলিয়ানোর সিদ্ধান্তে আনন্দের সঙ্গেই সম্মত হয় ওরা । শুধুমাত্র মিসেস মসকতে একাকী উরসুলার সঙ্গে একবার আলাপের জন্য অনুনয় করে । পুরুষদের ব্যাপারে জড়ানোর জন্য আপত্তি জানালেও কৌতূহলী উরসুলা বাস্তবিক অর্থেই আবেগের কাছে হেরে পরদিন দেখা করতে যায় । আধ ঘণ্টা আলাপ করার পর এই সংবাদ নিয়ে ফিরে যে রেমেদিওসের তখনও যৌনরোম গজায়নি । আউরেলিয়ানো এটাকে কোনো একটা বড় বাঁধা হিসাবে গণ্য করে না । এতদিন অপেক্ষা করেছে, আরও যতদিন প্রয়োজন সে অপেক্ষা করবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না দয়িতার গর্ভধারণের বয়স হয় ।

    এই নতুন ঐকতান বাধাগ্রস্ত হয় মেলকিয়াদেসের মৃত্যুতে । যদিও ব্যাপারটা আগে থেকে জানা ছিল তবুও পরিস্থিতিটা সুনির্দিষ্ট ছিল না । ফিরে আসার কিছুদিন পর থেকেই খুব দ্রুত সংকটজনকভাবে বুড়িয়ে যাবার এক প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে সে আর কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে পড়ে সেই সব অকর্মা প্রপিতামহদের একজন, যারা ছায়ার মতো ঘুরে ঘুরে বেড়ায় পা টেনে টেনে; শোবার ঘড়গুলোতে উচ্চস্বরে জীবনের মধুর সময়গুলোর স্মৃতিচারণ করতে করতে; যাদের কেউ দেখাশোনা করে না; সত্যিকারভাবে তাদের কথা কারও মনেও পরে না, যতক্ষণ না তাদের বিছানায় পাওয়া যায় মৃত অবস্থায় । গোড়ার দিকে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ওর কার্যকলাপে সাহায্য করত দাগেরোটিপোর নতুনত্ব আর নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যৎ বাণীতে উৎসাহী হয়ে । কিন্তু ক্রমশই ওকে একাকীত্বের কাছে পরিত্যাগ করে। কারণ প্রতিবারই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়ে উঠেছিল দুরূহ, সে হারিয়ে ফেলছিল তার দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি । মনে হত যেন কথা বলছে সে মানবসভ্যতার আদিম অবস্থায় তার সঙ্গে পরিচিত কোনো মানুষের সঙ্গে । বাতাস হাতড়ে হাঁটত সে। জিনিসপত্রের মধ্য দিয়ে এক অবিশ্বাস্য সাবলীলতার সঙ্গে তার এই চলাফেরা যেন ইঙ্গিত করত সহজাত প্রবৃত্তির মাঝে থাকা তাৎক্ষণিক পূর্বধারণা দিয়ে তার দিক-নিদর্শন করার ক্ষমতা ।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)