1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর (উপন্যাস)

Discussion in 'Collected' started by abdullah, Sep 18, 2016. Replies: 53 | Views: 3240

  1. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ওর পরিবারের লোকজন ওকে জোর করে নিয়ে আসে সেই লোকটার কাছ থেকে যে ওকে চৌদ্দ বৎসর বয়সে ধর্ষণ করেছিল আর তাকে ভালবেসেছিল বাইশ বছর বয়স পর্যন্ত, কিন্তু কখনই জনসমক্ষে তা প্রকাশ করেনি, কারণ লোকটা ছিল অচেনা। লোকটা প্রতিজ্ঞা করেছিল যে দুনিয়ার শেষ পর্যন্ত হলেও অনুসরণ করবে ওকে, তবে তখনই নয়, আরও পরে যখন সবকিছু গোছগাছ করতে পারবে। তাসগুলোর প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী স্থলপথ বা জলপথে, তিন দিন, তিন মাস বা তিন বছরব্যাপী অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে লম্বা, বেটে, তামাটে ও শ্যামলা রংয়ের সমস্ত পুরুষদের মধ্যেই মেয়েটা দেখতে পেত লোকটাকে। অপেক্ষায় থেকে থেকে সে হারিয়ে ফেলেছে উরু আর স্তনের দৃঢ়তা, মনের কোমলতা কিন্তু হৃদয়ের উন্মত্ততা অটুট ছিল পুরোপুরি। সেই আশ্চর্য খেলনায় উন্মত্ত হয়ে হোসে আর্কাদিও খুঁজে বেড়াল ওর মুখ প্রতি রাতে ঘরগুলোর গোলক ধাঁধায়। এক বিশেষ মুহূর্তে সে দরজটা বন্ধ অবস্থায় পেল, বার বার টোকা দিতে লাগলো এটা জেনে যে একবার সাহসী হয়ে প্রথমবার টোকা দিলে শেষ পর্যন্ত তাকে দিয়ে যেতে হবে। কিছু সময় অপেক্ষার পর মেয়েটা দরজা খুলে দিল। দিনেরবেলা ঘুমকাতুরে বিধ্বস্ত সে উপভোগ করত গতরাতের স্মৃতিগুলো। কিন্তু উচ্ছ্বল, উদাসীন ও প্রগলভ মেয়েটা যখন ঘরে ঢুকত সে তখন নিজের উদ্বেগ আড়াল করার কোনো চেষ্টাই করত না, কারণ যে নারীর অট্টহাস্যে কবুতরগুলো ভয়ে শিউরে উঠতো, অদৃশ্য শক্তি নিয়ে তার কিছুই করার ছিল না। এই অদৃশ্য শক্তি ছিল এমনই এক জিনিস যা ভেতর দিকে নিঃশ্বাস নিতে আর হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি নিয়ন্ত্রণ করতে শেখাত, আর বুঝতে শিখিয়েছিল মানুষ কেন মরণকে ভয় পায়। সে এতে এতই মগ্ন ছিল যে ওর বাবা আর ভাইরা যখন সমস্ত বাধা ভেদ করে ধাতব পাত্রের থেকে উরসুলার সোনা পৃথক করার সাফল্যে সাড়া বারি জুড়ে আনন্দের ঝড় তুলে দেয় সেই আনন্দের কারণও সে বুঝতে পারে না।

    আসলে প্রচন্ড জটিলতা আর ক্রমাগত চেষ্টার ফলেই সফল হয়েছিল ওরা। আনন্দিত হয়েছিল উরসুলা, এমনকি আলকেমি সৃষ্টির কারনে সে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছিল। অন্যদিকে গ্রামের লোকজন পরীক্ষাগারটাকে পিষে ফেলছিল, ওদেরকে তারা খেতে দিল বিস্কুটের সঙ্গে পেয়ারার তৈরী মিষ্টি আশ্চর্যজনক এই ব্যাপারটা উদযাপন করতে। আর হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া দেখাচ্ছিল সোনাসহ গলানোর পাত্রটাকে, যেন সে এইমাত্র ওটা আবিস্কার করেছে।

    এভাবে দেখাতে দেখাতে সে শেষে বড় ছেলের সামনে আসে যে কিনা শেষের দিকে খুব কম সময়ই পরীক্ষাগারে উঁকি দিত। শুকানো, হলদে, আঠালো পদার্থটাকে তার সামনে রেখে প্রশ্ন করে, “এটা দেখে কি মনে হয়” হোসে আর্কাদিও আন্তরিকতার সঙ্গেই জবাব দেয়, “কুত্তার গু”।
     
  2. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ওর বাবা হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে ওর মুখে কষে এমনভাবে একটা চড় মারল যে রক্ত আর চোখে পানি চলে আসে ওর। সেই রাতে পিলার তেরনেরা অন্ধকারে হাৎড়ে বোতল আর তুলো খুঁজে ফুলো জায়গায় আর্নিকা লাগিয়ে দেয় আর ও যাতে বিরক্ত না হয় এমনভাবে তাকে ভালবাসে একটুও ব্যাথা না দিয়ে। ওরা মিলনে এমন অবস্থায় পৌঁছায় মুহূর্তের মধ্যে নিজেদের অজান্তেই ফিস্ফিস্ করে কথা বলতে শুরু করে–

    “কেবল তোর সঙ্গে থাকতে চাই” -সে বলে, “শিঘ্রই একদিন পৃথিবীর সবাইকে জানিয়ে দেব আর শেষ হবে এই লুকোচুরির”।

    ওকে শান্ত করার চেষ্টা করে না-
    “ভালই হবে”- বলে পিলার-“যদি আমরা এক সঙ্গে থাকি, তাহলে ভাল করে দেখার জন্য বাতি জ্বালিয়ে রাখব আর আমি যত খুশী শিৎকার করতে পারব, কেউ তাতে বাগড়া দিতে আসবে না আর তুই আমার কানে কানে বললি দুনিয়ার যত যৌন-খিস্তি। এই আলাপচারিতা বাপের বিরুদ্ধে হুলফোটানো তিক্ততা, অত্যাসন্ন লাগামহীন মিলনের সম্ভাবনা ওকে এনে দেয় এক দুঃসাহসী অনুপ্রেরণা। হঠাৎ করেই কোন প্রস্তুতি না নিয়েই ওর ভাইকে সে সব বলে দিল।

    প্রথম দিকে ছোট্ট আউরেলিয়ানো বুঝতে পারত ব্যাপারটার ঝুঁকি আর ভাইর এই দুঃসাহসিক কাজে বিপদের সমূহ সম্ভাবনার কথা, কিন্তু বুঝে উঠতে পারত না ব্যাপারটার সম্মোহনী শক্তি। একটু একটু করে ওকেও কলুষিত করে উদ্বেগ। ভাইকে বাধ্য করত অভিযানের খুঁটিনাটি বর্ণনা করতে, নিজেকে একাত্ম করে ফেলত ভোগান্তি আর ভোগানন্দের সঙ্গে, অনুভব করত ভয় আর সুখ। জেগে থেকে অপেক্ষা করত সকাল হওয়া পর্যন্ত। নিঃসঙ্গ বিছানা যেন ছিল জ্বলন্ত অঙ্গারে মোড়া মাদুর। দুজনে কথা বলে যেত বিছানা ছেড়ে ওঠা পর্যন্ত আর ফলে শীঘ্রই দুজনকেই পেয়ে বসে নিদ্রাহীনতায়। অনুভব করে আলকেমী আর বাবার প্রজ্ঞার উপর একইরকম অনীহা, আর আশ্রয় নেয় নিঃসঙ্গতার। “এই ছেলেগুলো নির্জীব হয়ে পড়েছে” বলে উরসুলা- “সম্ভবত কৃমি হয়েছে”। ওদের জন্য বানায় পাইকো গাছ পিষে এক অরুচিকর তরল ঔষধ। দুজনেই তা পান করে অপ্রত্যাশিত সহিষ্ণুতা নিয়ে। আর দুজনেই একই সঙ্গে যার যার মলত্যাগের পাত্রে বসে একই দিনে এগার বার আর বের করে দেয় এক ধরনের গোলাপী রংয়ের কৃমি আর প্রচন্ড আনন্দের সঙ্গে তা দেখায় সবাইকে। এই ব্যাপারটাই উরসুলাকে ওদের অমোনযোগী আর সবকিছুতে অনীহার মূল কারণ নির্ধারণে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করে।
     
  3. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আউরেলিয়ানো শুধুমাত্র বুঝতে পারত তাই-ই নয়, যেন ভাইয়ের অভিজ্ঞতাগুলো ছিল ওর নিজেরই জীবনের অংশ। কারণ এক সময় যখন ভালবাসার বিবরণ দিয়ে যাচ্ছিল পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তখন সে বাধা দিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কিরকম লাগে”? হোসে আর্কাদিও ততক্ষনাৎ উত্তর দিল “এটা হচ্ছে ভূমিকম্পের মত”।

    জানুয়ারির এক বৃহস্পতিবার, ভোর দুটোর সময় জন্মালো আমারান্তা। কেউ ঘড়ে ঢোকার আগেই উরসুলা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করল ওকে। বাচ্চাটা ছিল খুবই হাল্কা আর গিরগিটির মত স্বচ্ছ; কিন্তু তার সমস্ত অঙ্গগুলো ছিল মানুষের। যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষজনে ঘর ভরে গিয়েছে, আউরেলিয়ানো নতুই এই খবরটা টেরই পায়নি। সংশয়ে আচ্ছন্ন হয়ে বিশৃঙ্খলার সুযোগে সে ভাইকে খুঁজতে বেরুল, যে নাকি এগারটা থেকেই বিছানায় নেই। খুঁজতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা এতটাই ঝোঁকের বশে সে নিয়েছে যে পিলার তেরনেরার শোবার ঘড় থেকে ভাইকে কিভাবে বের করে আনবে এ নিয়ে নিজেকে সে কোনো প্রশ্নই করার সময় পায়নি। সংকেতপূর্ণ শীষ দিয়ে কয়েক ঘন্টা ধরে বাড়ি চক্কর দিল; শেষ পর্যন্ত ভোরের আগমনী ইঙ্গিত ওকে বাড়ি ফিরতে বাধ্য করল। মায়ের ঘরে নবজাতিকা বোনের সঙ্গে এক নিস্পাপ মুখে খেলারত অবস্থায় পেল হোসে আর্কাদিওকে।

    উরসুলা কেবলমাত্র চল্লিশ দিনের বিশ্রাম নেয়া শেষ করেছে এমন সময় ফিরে এল জিপসীরা। ওরা একই দরাবাজ আর ভেল্কীবাজ যারা বরফ নিয়ে এসেছিল। মেলকিয়াদেসের দল থেকে এরা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝিয়ে দিল যে ওরা প্রগতির অগ্রদূত নয়, বরং আনন্দের ফেরিওয়ালা। এমনকি যখন তারা বরফ নিয়ে এসেছিল তখনও বলেনি মানুষের জীবনে ওটা কিভাবে কাজে লাগে, বরং দেখিয়েছে সার্কাসের এক দুর্লভ বস্তু হিসেবে। এবার অনেকগুলো যন্ত্র কৌশলের মধ্যে নিয়ে এসেছিল এক উড়ন্ত গালিচা। কিন্তু সেটাকে যানবাহনের এক নতুন উদ্ভাবন হিসেবে না দেখিয়ে, দেখিয়েছিল এক চিত্তবিনোদনের বস্তু হিসেবে। লোকজন, অবশ্যই মাটি খুড়ে বের করে আনল ওদের শেষ স্বর্ণের অংশটুকু, গ্রামের ঘড়গুলোর উপর দিয়ে এক ঝলক উড়ে আসার জন্য। সমস্ত বিশৃঙ্খলার একত্রিকরণের মধ্যে হোসে আর্কাদিও আর পিলার পেল ঘন্টার পর ঘন্টা মুক্তির আনন্দ। ভীড়ের মধ্যে দুই প্রেমিক প্রেমিকা সুখী, ওদের এমনও মনে হল, প্রেম হচ্ছে, শুধুমাত্র রাতের গোপন ক্ষণিক মিলনের চাইতেও অনেক সনাতন, গভীর আর সীমাহীন সুখের ব্যাপার। এ অবস্থায় ওর মোহ ভেঙে দেয় পিলার। যে রকম উৎসাহের সঙ্গে হোসে আর্কাদিও ওর সঙ্গ উপভোগ করছিল, স্থান কাল ভুলে এক ধাক্কায় সারা পৃথিবীটাকে ওর উপর ছুঁড়ে দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, এখন তুই সত্যিকার পুরুষ”। যেহেতু সে বুঝতে পারছিল না পিলার কি বলতে চাচ্ছে, তাই ওকে বর্ণনা করল অক্ষরে অক্ষরে, “তোর ছেলে হতে যাচ্ছে”।
    কয়েকদিন বাড়ি থেকে বেরুতে সাহস পেল না হোসে আর্কাদিও। রান্নাঘর থেকে আসা পিলারের উত্তেজনাময় অট্টহাসি শোনাই হোসে আর্কাদিওর পক্ষে যথেষ্ট ছিল দৌড়ে পরীক্ষাগারে আশ্রয় নেয়ার জন্য, যে পরীক্ষাগারে আলকেমির কার্যকলাপগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়েছে উরসুলার কৃপায়। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে বরণ করে নেয় আনন্দের সাথে। অবশেষে ইতিমধ্যে শুরু করা পরশ পাথরের সন্ধানে আবারও লেগে গেল। এক বিকেলে ছেলেরা উৎসাহিত হল পরীক্ষাগারের জানালার সমান উচ্চতায় জিপসী চালককে নিয়ে উড়ন্ত গালিচার দ্রুত উড়ে যাওয়ায় আর গ্রামের কিছু ছেলে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় তাকে, কিন্তু হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া চোখ তুলে দেখলোও না। “ওদেরকে স্বপ্ন দেখতে দাও” বলল সে, “ ওদের তুচ্ছ উড়ন্ত বিছানার চেয়ে আমরা অনেক বেশি ভালো উড়ব আরও বেশি বৈজ্ঞানিক উপাদানের সাহায্যে। তার লোক দেখানো আগ্রহ সত্তেও হোসে আর্কাদিও কখনই পরশ পাথরের ক্ষমতার কথা বুঝতে পারল না, ওর কাছে মনে হয়েছিল খারাপভাবে বানানো একটা বোতল মাত্র। দুশ্চিন্তা থেকে ও মুক্তি পায়নি। ক্ষিধে আর ঘুম হারিয়ে ফেলে, অভিযানে ব্যর্থ হওয়ার পর ওর বাবার যেমন অবস্থা হত, তেমনি বশীভূত হল সে বদমেজাজের কাছে, তার বিভ্রান্তি এমন অবস্থায় পৌঁছুল যে স্বয়ং হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া তাকে পরীক্ষাগারের কর্তব্য থেকে রেহাই দেয় এই মনে করে যে সে পরীক্ষাগারের কাজটা খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। অবশ্যই আউরেলিয়ানো বুঝতে পারল যে ভাইয়ের মানসিক যন্ত্রণার সাথে পরশ পাথর খোঁজার কোন সম্পর্কই নাই। কিন্তু সে তার ভাইয়ের আস্থা অর্জন করতে পারছিল না। হোসে আর্কাদিও হারিয়ে ফেলেছে আগের সেই স্বতঃস্ফূর্ততা। সহযোগী আর আলাপপ্রিয় অবস্থা থেকে সে পরিবর্তিত হয়েছে বৈরী ভাবাপন্ন আর আত্মমুখী ব্যক্তিতে। একাকীত্বের উদ্বেগ আর পৃথিবীর সকলের বিরুদ্ধে মারাত্মক তিক্ততার কামড়ে, এক রাতে অভ্যাসমত বিছানা ত্যাগ করে সে, কিন্তু পিলার তেরনেরা-র বাড়িতে যায় না, যায় মেলার ভিরের মধ্যে হারিয়ে যেতে। সব ধরনে কুশলী যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ঘোরাফেরার পর, একটির প্রতিও আকৃষ্ট না হয়ে, ওর চোখ পড়ল এমন কিছুর উপর যা কোনো প্রদর্শনীর অন্তর্গত ছিলো না: পুঁতির মালার ভারে নুয়ে-পরা কম বয়সী এক জিপসী যুবতী; হোসে আর্কাদিওর কাছে সারা জীবনে দেখা সব থেকে সুন্দরী মেয়ে। মেয়েটা ভীড়ের মধ্যে অন্যদের সঙ্গে দেখছিল বাপমায়ের অবাধ্যতার ফলে মানুষের সাপে পরিণত হওয়ার এক করুণ প্রদর্শনী।
     
  4. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    হোসে আর্কাদিও ওদিকে মনযোগ দিল না। যে সময়ে সর্প-মানবকে করুণ জেরা করা হচ্ছিল, তখন ভীর ঠেলে জায়গা করে সে চলে এসে দাঁড়ায় জিপসী মেয়েটার পিছনে, প্রথম সাড়িতে। মেয়েটার পিঠে সে চাপ দেয় শরীর দিয়ে। মেয়েটা সরে যেতে চেষ্টা করে কিন্তু হোসে আর্কাদিও আরও শক্তি দিয়ে চাপ দেয় ওর পিছন দিকে। তখনই মেয়েটা অনুভব্ করে ওর পুরুষত্ব। যা ঘটছে তা বিশ্বাস করতে না পেরে, বিস্ময় আর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে স্থির দাড়িয়ে থাকে মেয়েটা ওর সঙ্গে। সবশেষে মাথা ঘুড়িয়ে ভীরু হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকাল। ঠিক সেই মুহূর্তে দুই জিপসী সর্প-মানবকে খাঁচায় ঢুকিয়ে নিয়ে গেল তাঁবুর ভিতরে। যে জিপসী প্রদর্শনী পরিচালনা করছিল সে ঘোষণা করল, “এবং এখন, ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আপনাদের দেখাব সেই মেয়েকে যার যা দেখা উচিৎ নয় তা দেখে ফেলার শাস্তিস্বরূপ গলা কাটা হবে প্রতি রাতে এই সময় যা দেড়শ বসর ধরে চলে আসছে।

    হোসে আর্কাদিও আর মেয়েটা গলা কাটার খেলা দেখল না। চলে গেল মেয়েটার তাবুতে, যেখানে ওরা কাপড় খুলতে খুলতে চুমো খাচ্ছিল এক ব্যাকুল উন্মত্ততা নিয়ে। উপরে পড়া অন্তর্বাস, অনেক পড়তের কাপড় দিয়ে বানানো মাড় দেয়া ঘাগড়া, তার দিয়ে বানানো নিস্ফল নিতম্ব বন্ধনী, পুতীর বোঝা, সব খুলে ফেলার পর মেয়েটা পরিবর্তিত হয় অদৃশ্যে। পা দুটো এতই চিকন যে হোসে আর্কাদিওর বাহুও তার থেকে পুরু, আর সদ্য ওঠা বুক নিয়ে সে যেন এক দুর্বল ব্যাঙ্গাচী, চিকন দুটো পা, যা হোসে আর্কাদিওর বাহুর সঙ্গেও সে পেরে উঠবে না, কিন্তু তার দৃঢ়তা আর তীব্র কামনা পুষিয়ে দেয় তার ভঙ্গুর শরীরকে। কিন্তু হোসে আর্কাদিও ঠিক মত সাড়া দিতে পারছিল না কারণ তাঁবুটাও ছিল এক রকম বারোয়ারী তাঁবু, যেখান দিয়ে জিপ্সীরা যাতায়াত করে ওদের সার্কাসের জিনিশপত্র নিয়ে, সমাধান করে বিভিন্ন সমস্যার, এমনকি বিছানার পাশে দাড়িয়ে বিরতি নিচ্ছিল একদান ছক্কা খেলার জন্য। বাতিটা ঝোলানো ছিল মাঝের খুঁটিটায় আর তাতে আলোকিত ছিল পুরো বস্তি। আদরের এক বিরতির পর, কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া নগ্ন হয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায় আর মেয়েটা চেষ্টা করছে ওকে সাহস দেবার। অপূর্ব শরীরের অধিকারী এক জিপসী যুবতী একটু পরেই তাঁবুতে ঢোকে তার সঙ্গীকে নিয়ে যারা ঐ থিয়েটারের দলের অংশ ছিল না, এমনকি গ্রামেরও কেউ নয়। আর উভয়ই বিছানার সামনে উপভোগে রত হয়। পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই যুবতী হোসে আর্কাদিওর দিকে তাকায় আর এক ধরণের করুন আবেগতপ্ত দৃষ্টি নিয়ে ওর রাজকীয় জন্তুটাকে বিশ্রমরত অবস্থায় দেখতে পায়। “এই ছেলে” বিস্মিত হয়ে বলে, “খোদা যেন ওটাকে এভাবেই সংরক্ষণ করে।” হোসে আর্কাদিওর সঙ্গিনী ওদের শান্তিতে থাকতে দিতে বলে, ফলে ওরা বিছানার খুব কাছেই মেঝেতে শুয়ে পড়ে। অন্যদের রতিক্রিয়া হোসে আর্কাদিওকে জাগিয়ে তোলে। প্রথম মিলনের ধাক্কায়, মেয়েটার হাড়গুলো যেন দোমিনো গুটির মত মড় মড় করে খুলে পড়ে, তার চামড়া থেকে ঝরে পড়ে পাণ্ডুর ঘাম, চোখ ওঠে জ্বলে, সমস্ত শরীর থেকে বের হয় এক নিরানন্দ অনুশোচনা আর আবছা কাদার গন্ধ। কিন্তু ধাক্কাটা সহ্য করে নেয় দৃঢ়তা আর প্রসংশনীয় সাহসের সঙ্গে। হোসে আর্কাদিও অনুভব করে সে অকস্মাৎ উঠে গেছে এক স্বর্গীয় অনুপ্রেরনার স্তরে যেখানে তার বিধ্বস্ত হৃদয়াবেগ বেরিয়ে আসছে আদরে আর কুৎসিত যৌনালাপের মাধ্যমে আর তা মেয়েটার কান দিয়ে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে তার নিজস্ব ভাষায়। দিনটা ছিল বৃহস্পতিবার। মাথায় এক লাল কাপড় বেধে হোসে আর্কাদিও চলে যায় জিপসীদের সাথে।

    যখন উরসুলা টের পেল তার অনুপস্থিতি, গ্রামময় তাকে খুঁজে বেড়াল। জিপসীদের ভেঙ্গে দেয়া ছাউনির জায়গায় সদ্য নিভিয়ে ফেলা চুল্লির ধোয়া, ছাঁই আর যত্রসত্র ছড়িয়ে থাকা বর্জ্য পদার্থ ছাড়া কিছুই ছিল না। কেউ একজন আবর্জনার মধ্যে পুতির দানাই খুঁজে বেড়াচ্ছিল, বলল উরসুরাকে যে গত রাতে সে থিয়েটারের ভীড়ের মধ্যে তার ছেলেকে দেখেছে, সর্প-মানবের খাঁচা-বওয়া গাড়ি ঠেলছে। “ও জিপসীর দলে ভীড়েছে” উরসুলা চিৎকার করল স্বামীর উদ্দেশ্যে যে কিনা ওর উধাও হওয়ায় বিন্দু মাত্র উদ্বিগ্ন ছিল না।
    “সত্যিই যেন তাই হয়” বলল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া হাজার বার গুড়ো করা, গরম করে আবারও গুড়ো করতে করতে “এভাবেই সে পুরুষ হতে শিখবে।”
     
  5. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    উরসুলা জিজ্ঞেস করল জিপসীরা কোন দিক দিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞেস করে পথ ধরে এগুতে লাগল এই বিশ্বাসে যে এখনও সময় আছে তাদের নাগাল পাওয়ার। গ্রাম থেকে সরে যেতে লাগল আরও দূরে, যখন বুঝতে পারল সে এতই দূরে চলে এসেছে যে আর ফিরে যাওয়ার চিন্তা করল না। হোসে আর্কাদিও বুয়োন্দিয়া তার স্ত্রীর অভাব অনুভব করে না রাত আটটা পর্যন্ত যখন সে গুঁড়া করা জিনিসগুলোকে আবার গরম করতে দিয়েছে এক পরত ঘসির আগুনে আর দেখতে গিয়েছে কি হয়েছে ছোট্ট আমারান্তার যে কাঁদতে কাঁদতে গলা ভেঙ্গে ফেলেছে। অল্প কয়েক ঘন্টার মধ্যে সে জড় করল কিছু লোককে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ, আমারান্তাকে দিল এক মহিলার হাতে কারণ সে আমারান্তাকে বুকের দুধ খায়ানোর প্রস্তাব করেছিল, আর সে উধাও হল উরসুলার খোঁজে অদৃশ্য পথ ধরে। আউরেলিয়ানো ওদের সঙ্গ নিল। প্রত্যুষে কিছু আদিবাসী জেলে যাদের ভাষা ছিল তাদের অজানা ওরা আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিল যে কাউকে এদিক দিয়ে তারা যেতে দেখেনি। তিন দিনের বৃথা খোঁজাখুজির পর গ্রামে ফিরে যায় ওরা।

    পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ হতাশায় ভেঙে পড়ে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া। সে ছোট আমারান্তার মায়ের স্থান দখল করে। ওকে গোসল করাত আর তার কাপড় বদলাত, তাকে নিয়ে যেত দিনে চারবার বুকের দুধ খাওয়াতে, এমনকি রাতে এমন সব গান শোনাত যেসব গান উরসুলে কখনই গাইতে জানেনি। একেক সময় পিলার তেরনেরা উরসুলা ফিরে আসা পর্যন্ত বাড়ির কাজ করে দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। আউরেলিয়ানো, যার রহস্যময় স্বজ্ঞা এই দুর্ভাগ্যের কারণে আরও প্রখর হয়ে উঠছে, সে পিলাবকে ঢুকতে দেখে এক দিব্যদৃষ্টি অনুভব করল। সুতরাং বুঝল কোনো এক ব্যাখ্যাতীত কারণে ওর ভাইয়ের পালানো অার পরবর্তীতে মায়ের অদৃশ্য হ্ওয়ার জন্য এই মেয়েটাই দায়ী। আর ওকে এক নিঃশব্দ, নির্দয়তার সাথে এমনভাবে অপমান করে যে সে আর কখনই ঐ বাড়িতে ঢোকে না।
    সময় সবকিছুই ঠিক করে দেয়। হোসে আর্কাদিও আর তার ছেলে বুঝতে পারল না কখন তারা পরীক্ষাগারে ধুলো ঝারছে, গরম পানির সাইফনে আগুন জ্বালিয়ে, ঘসির চুল্লির পরতের উপর কয়েক মাস ধরে শুয়ে থাকা বস্তুটাকে বশে আনার কাজে ধৈর্য সহকারে লেগে পড়েছে। এমনকি আমারান্তা ডালে ঝোলানো ঝুড়িতে শুয়ে আগ্রহ সহকারে পর্যবেক্ষণ করে বাবা আর তার ভাইয়ের ছোট্ট ঘরে পারদের বাষ্পে ভরে থাকা বাতাসে একাগ্রচিত্তে করা কাজ। একবার উরসুলা চলে যাবার অনেক মাস পর, অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করল। একটা খালি পাত্র অনেক দিন ধরে বিস্মৃত অবস্থায় আলমারিতে রাখা ছিল, সেটা এতই ভারী হয়েছিল যে সেটাকে নড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ল। টেবিলে রাখা এক পানিভর্তী কড়াই আধঘন্টা ধরে ফুটল কোন আগুন ছাড়াই যতক্ষণ না তার সব পানি বাস্প হয়ে উড়ে গেল। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া আর ওর ছেলে ওই সব আজব ঘটনাগুলো এক ধরণের ভয় পাওয়া আনন্দের সাথে পর্যবেক্ষণ করত, কিন্তু ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা না করতে পেরে মনে করে এগুলো হচ্ছে ঐ পদার্থেরই (পরশ পাথর) ঘোষণা। একদিন আমারান্তাসহ ঝুড়িটা নিজস্ব শক্তিতে নড়তে শুরু করে আর সম্পূর্ণ এক পাক খায় ঘরের মধ্যে আউরেলিয়ানকে হতবুদ্ধি করে দিয়ে। আউরেলিয়ান দ্রুত থামাতে যায়, কিন্তু ওর বাবা বিচলিত হয় না। ঝুড়িটাকে জায়গামত রেখে টেবিলের এক পায়ের সঙ্গে বেঁধে রাখে এই বিশ্বাসে যে প্রত্যাশিত ঘটনাটা অত্যাসন্ন। এক দিন আউরেলিয়ানো ওকে বলতে শোনে, “যদি খোদাকে ভয় নাও কর, ভয় কর ধাতব পদার্থগুলোকে।”
    উধাও হবার প্রায় পাঁচ মাস পর ফিরে আসে উরসুলা। ফিরে আসে উল্লসিত পূর্ণযৌবনপ্রাপ্ত, গ্রামের অপরিচিত ধরণের নতুন জামাকাপড় পরে। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া কোনো রকমে ঘটনাটার ধাক্কা সহ্য করে নেয়। “এটাই তাহলে আসল ব্যাপার,” চিৎকার করছিল, “আমি জানতাম যে এটাই ঘটতে যাচ্ছে।” আর সত্যিই তা বিশ্বাস করত কারণ তার দীর্ঘ সময়ের বন্দীদশায় জিনিষটাকে রূপান্তরের সময় সে সমস্ত হৃদয় দিয়ে গভীরভাবে চাচ্ছিল যে অলৌকিক ব্যাপারটা যেন পরশ পাথর আবিস্কার অথবা সমস্ত ধাতব পদার্থের জ্যান্ত হয়ে ওঠা সেই ফুঁয়ের আবিস্কার বা বাইরের তালা আর কক্ষগুলোকে সোনায় পরিণত করার ক্ষমতা না হয়ে যেন হয় উরসুলার ফিরে আসা। কিন্তু উরসুলা এই আনন্দে অংশ গ্রহণ করে না। যেন এক ঘন্টার বেশি অনুপস্থিত থাকেনি, এমন সাধারণ একটা চুমু খেয়ে বলল– “দরজার পাশে এস”। যখন রাস্তায় বেরুল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া হতভম্ভভাবটা কাটতে ওর দীর্ঘ সময় লাগল আর দেখতে পেল ভীরটা। ওরা জিপসী ছিল না। ছিল ওদের মতই পুরুষ ও মহিলা, সোজা চুল, প্রগাঢ় চামড়া একই ভাষায় কথা বলে আর একই রকম সাধারণ দুঃখ বেদনা নিয়ে অনুতাপ করে।

    খচ্চরের পিঠভর্তী খাদ্যদ্রব্য, বলদের গাড়ি বোঝাই আসবাবপত্র আর ঘরোয়া তৈজসপত্র, চুরুট আর ফেরিওয়ালাদের হাক ডাক ছাড়া বিক্রির জন্য দৈনন্দিন জীবনের জিনিষপত্র নিয়ে এসেছে তারা। মাত্র দুই দিনের ভ্রমনে জলাভূমির ওপর থেকে এসেছে ওরা যেখানকার গ্রামগুলোতে প্রতি মাসেই চিঠিপত্র আসে। ভাল থাকার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সঙ্গে তারা পরিচিত। উরসুলা জিপসীদের নাগাল পায়নি, কিন্তু পেয়েছিল সেই রাস্তা যা তার স্বামী বড় বড় হতাশাপূর্ণ অভিযানের দ্বারা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
     
  6. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৮

    জন্মানোর দু সপ্তাহ পরে পিলার তেরনেরার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হোল ওদের দাদা-দাদীর বাড়িতে। ওকে অনিচ্ছার সঙ্গে বরণ করে উরসুলা। স্বামীর গোয়ার্তুমির কাছে আবার হার মানে সে, কারন তার স্বামী সহ্য করতে পারছিল না যে তার রক্তের একটা কুঁড়ি বিপথে প্রবাহিত হবে। তবে শর্ত দেয়া হল ছেলেটার কাছে তার প্রকৃত পরিচয় গোপন করা হবে। যদিও ওর নাম রাখা হল হোসে আর্কাদিও কিন্তু বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য তাকে শেষ পর্যন্ত আর্কাদিও নামেই ডাকা হলো। সেই সময় গ্রামে এত কর্মতৎপরতা আর বাড়িতে এত ক্লান্তিকর কাজ ছিল যে বাচ্চাদের দেখা শুনাটা পরিণত হয় গৌণ কর্মে। অনিদ্রা নামক মহামারীর হাত থেকে বাঁচার জন্য গুয়াহিরা উপজাতিদের দল থেকে কয়েক বছর আগে পালিয়ে আসা বিসিতাসিওন নামের এক আদিবাসী মহিলা আর তার ভাই-এর হাতে ওদের ভার অর্পন করা হল। উভয়ই এত অনুগত আর শান্ত প্রকৃতির ছিল যে উরসুলা ওদেরকে ঘরের যাবতীয় কাজের ভার দিয়ে দেয়। এভাবেই আর্কাদিও আর আমারান্তা কাস্তেইয়ানোর আগে গুয়াহিরা ভাষায় কথা বলে। উরসুলার অজান্তেই গিরগিটির স্যুপ আর মাকড়ের ডিম খেতে শিখে তারা, কারণ উরসুলা মিষ্টি দিয়ে তৈরী জীব জন্তদের এক সম্ভাবনাময় ব্যবসার কাজে ভীষনভাবে ব্যস্ত। মাকন্দো বদলে যাচ্ছিল। উরসুলার সঙ্গে যে লোকেরা এসেছিল ওরা মাকন্দোর মাটির উর্বরতা আর জলাভূমির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অবস্থানের কথা প্রচার করে দিয়েছিল, ফলে আগের সেই সাদামাটা গ্রামটাই দ্রুত হয়ে উঠল কর্মচঞ্চল, দোকান পাট আর হস্তশিল্পে ভরপুর। আর স্থায়ী এক নিত্যবাণিজ্যের পথ দিয়ে ঢোলা পাজামা, কানে মাকরি পড়ে প্রথম আরবিয়রা আসে গলার হারের সঙ্গে গুয়াকামাইয়া-র (বড় জাতীয় টিয়া পাখী) বদলের জন্য। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া এক মুহূর্তও বিশ্রাম পাচ্ছিল না। আকর্ষণীয় বাস্তবতা তার কাছে কল্পনাপ্রসূত বিশাল বিশ্বের চেয়ে অনেক বেশী আকৃষ্টকর বলে মনে হলো। আলকেমীর পরীক্ষাগারের প্রতি সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, মাসের পর মাস রূপ বদলানোর পর প্রায় শেষ হয়ে আসা পদার্থটাকে বিশ্রাম দিল সে। আবার হয়ে উঠল প্রথমদিককার মত সেই একই উদ্যোক্তা যার উদ্যমে রাস্তাগুলো আর নতুন বাড়িগুলোর অবস্থান এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছিল যাতে করে কেউ কারো চেয়ে বেশী সুবিধে ভোগ করতে না পারে। সে তখন এমন ক্ষমতা অর্জন করে যে নতুন আসা লোকগুলো ওর মতামত না নিয়ে বাড়ির ভিত্তি স্থাপন বা দেয়াল পর্যন্ত বানাতো না। এমনকি ঠিক করা হলো যে জমি বিলির ব্যাপারটাও সে-ই পরিচালনা করবে। যখন ছোট্ট, ঘুড়ে-বেড়ানো এক দলকে জুয়ো আর অন্যান্য খেলাধুলার দলকে বিশাল এক মেলায় পরিণত করে দড়াবাজ জিপসী দলটা ফিরে আসে তখন তাদেরকে আনন্দের সঙ্গে বরণ করে নেয়া হয় কারণ সকলে মনে করেছিল ওদের সঙ্গে হোসে আর্কদিও ফিরে এসেছে। কিন্তু হোসে আর্কাদি্ও ফিরে আসে নি, এমনকি ওরা আনেনি স্বর্পমানবকেও- উরসুলা ভেবেছিল একমাত্র সর্পমানবই তার ছেলের সন্ধান দিতে পারবে। যার ফলে জিপসীদের গ্রামে তাবু ফেলতে দেয়া হলো না এমনকি ভবিষ্যতেও গ্রামে পা ফেলতে নিষেধ করা হলো, কারণ মনে করা হলো ওরা হচ্ছে যৌনলিস্পা আর বিকৃতির প্রচারক। কিন্তু হোসে আর্কদিও বুয়েন্দিয়া খুব ভালভাবে বলে দিল যে, সেই মেলকিয়াদেসের আদি জিপসীর দল যাারা এই গ্রামের উন্নতিতে বিরাট অবদান রেখেছে তাদের প্রাচীন জ্ঞান আর অপূর্ব ঘটনাবলী দিয়ে, ওদের জন্য গ্রামের দরজা সবময় থাকবে খোলা। কিন্তু ভূ-পর্যটকরা জানাল, মেলকিয়াদেসের উপজাতির প্রজ্ঞা মানুষের জানার সীমানা লংঘন করে যাওয়ায় উধাও হয়ে গেছে পৃথিবী থেকে।
     
  7. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    দিবা স্বপ্ন থেকে সেই সময়ের জন্য হলেও মুক্তি পেয়ে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া অল্প সময়ের মধ্যেই শৃংখলা আর কাজে প্রত্যাবর্তন করে, যার ভিতর শুধু মাত্র অনুমতি দেয়: গ্রাম পত্তনের সময় থেকে যে পাখীগুলো ওদের বাঁশীর সুরে আনন্দমুখর করে রাখত তাদের মুক্তি দিয়ে তার বদলে প্রতিটা বাড়িতে মিউজিকাল (সুরেলা) ঘড়ি বসানোর। ওগুলো ছিল খোদাই করা কাঠের খুব সুন্দর সব ঘড়ি, যেগুলোকে আরবরা গুয়াকামাইয়ার সঙ্গে বদল করত। যেগুলোকে হোসে আর্কাদিও এমন সুন্দরভাবে মিলিয়ে নিল যে প্রতি আধঘন্টা পর পর সমস্ত গ্রাম আনন্দিত হয়ে ওঠে ক্রমানুসারী একই সঙ্গীতের অংশগুলো বেজে ওঠায়, আর ঠিক মধ্য দিনে সেটা পরিণত হয় এক সম্পূর্ণ ওয়ালটস-এ। ঐ বছরগুলোতে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াই ছিল সেই লোক যে স্থির করে সোনাঝুড়ি গাছের বদলে আলমন্ড গাছ লাগানোর। কারণ যদিও কাউকে সে বলেনি কিন্তু আবিস্কার করেছিল গাছগুলোকে অমর করার প্রক্রিয়া। অনেক বছর পর যখন মাকন্দো পরিণত হয়েছিল কাঠের বাড়ি আর বস্তার চালের শিবিরে, তখনও সবচেয়ে পুরোনো রাস্তাগুলোতে দেখা যেত ভাঙা আর ধুলোময় আলমন্ড গাছগুলো দাড়িয়ে আছে, যদিও কেউ জানত না ওগুলোকে কে লাগিয়েছে। যখন বাবা ব্যস্ত গ্রামে শৃংখলা স্থাপন করতে তখন মা শক্ত করে তুলছে পারিবারিক উত্তরাধিকার। দিনে দুবার বালসা কাঠে গাথা অবস্থায় বের হওয়া চিনি মাখানো ছোট মোরগ আর মাছের অভাবনীয় শিল্পের মাধ্যমে। আর তখন আওরেলিয়ানো কাটাচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা পরিত্যক্ত পরীক্ষাগারে নিজে নিজেই অনুসন্ধান করে রৌপ্যকর্ম শিখে। অল্প সময়ে সে এত বেশী লম্বা হয়েছিল যে ছোট হয়ে যায় ভাইয়ের রেখে যাওয়া জামা কাপড়, আর পড়তে আরম্ভ করে বাবারগুলো। তবে ভিসিতাসিয়নকে জামার কুঁচি আর প্যান্টের কোমর সেলাই করতে হয়েছে কারণ আওরেলিয়ানোর অন্য সকলের মত পেশীবহুল শরীর হয় নি। বয়সন্ধি কেড়ে নিয়েছিল তার গলার কোমলতা, আর হয়ে গিয়েছিল শান্ত আর নিঃসঙ্গ; কিন্তু তার বদলে ছিল জন্মের সময় থেকে পাওয়া প্রখর চাহনি। রৌপ্যকর্মের পরীক্ষাতে এতই আত্মনিয়োগ করেছিল যে শুধুমাত্র খাবার প্রয়োজনেই পরীক্ষাগার ত্যাগ করত। তার এই অন্তর্মুখিতার কারণে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া মনে করে তার মেয়ে মানুষের দরকার–এই ভেবে ওকে বাড়ির চাবি আর কিছু টাকা দেয়। কিন্তু আউরেলিয়ানো টাকাগুলো খরচ করে আকোয়া রেজিয়া বানানোর জন্য, আর মুরিয়াটিক এসিড কিনে, তা দিয়ে চাবিগুলোকে সোনার গিলটি করে তাদের সৌন্দর্য বাড়ায়। ওর বাড়াবাড়িগুলো কোনরকমে তুলনা করা যায় আর্কাদিও আর আমারান্তার বাড়াবাড়ির সঙ্গে। ওদের দাঁত নড়তে শুরু করেছে কিন্তু তখনও সবসময় আদিবাসীদের আঁচল ধরে থাকে। তারা ছিল এত জেদী যে কাস্তেইয়ানো-তে কথা না বলে গুয়াহিরা ভাষায় কথাবলার ব্যাপারে ছিল অনড়। “এমন কিছুই হয় নি যে তুমি অনুযোগ করতে পার” উরসুলা স্বামীকে বলে, “ছেলেমেয়েরা বাপমায়ের পাগলামী উত্তরাধিকার সুত্রেই পায়”। যখন তাদের ছেলেমেয়েদের উদ্ভট কাজকর্মকে শুয়োরের লেজের মতই একটা ব্যাপার হিসেবে ধরে নিয়ে উরসুলা অনুতাপ করছে তখন আউরেলিয়ানো ওর দিকে এমন এক দৃষ্টি দিয়ে তাকায় যে তাতে ঘরজুড়ে অনিশ্চয়তাময় এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    “কেউ একজন আসবে”- উরসুলাকে বলল সে। সব সময়ই যেমন করে থাকে তেমনি উরসুলা এবারও নিরুৎসাহিত করে ওর ভবিষ্যদ্বানীকে। কেউ যে আসবে এটাতো একটা সাধারণ ব্যাপার। আগে থেকে ঘোষণা না করে কারো মনে কোন উদ্বেগ তৈরী না করে প্রতিদিন প্রচুর অজ্ঞাত লোক মাকন্দো দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সমস্ত যুক্তির পরও আউরেলিয়ানো ওর ভবিষ্যদ্বানীতে নিশ্চিত থাকে। “জানি না কে” জোর দিয়ে বলে, “যে আসবে সে রাস্তায় আছে।”
     
  8. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    রোববার, সত্যিই রেবেকা আসল। ওর বয়স এগারোর বেশী ছিল না। এক কষ্টকর যাত্রা শেষে মানাউর থেকে কতগুলো চামড়ার ব্যবসায়ী দায়িত্ব নেয় একটি চিঠিসহ রেবেকাকে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার হাতে পৌঁছে দেবার। ছোট্ট একটা কাপড়চোপর ভরা তোরঙ্গ, হাতে রং বেরঙের ফুল আঁকা এক দোল-কেদারা, বাপ মায়ের হাড়গোর ভরা এক থলে যা সারাক্ষণ শব্দ করত ক্লক, ক্লক, ক্লক, আর শুধুমাত্র এসবই ছিল তার মালপত্র। স্নেহপূর্ণ ভাষায় লিখা চিঠিটা ছিল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে উদ্দেশ্য করে, লিখেছে এমন একজন যে প্রচুর দূরত্ব এবং অনেক সময় পার হওয়ার পরও হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে স্নেহ করে। সে মানবতার খাতিরে বাধ্য হয়ে উরসুলা এবং হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার দূর সম্পর্কের এতিম, সহায়হীন জ্ঞাতি বোনকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। যদিও দুরত্বটা খুব দূরের তবুও কখনও ভোলা সম্ভব নয় এমন বন্ধু মৃত নিকানোর (ইশ্বর তাদেরকে পবিত্র রাজ্যে স্থান দিন) উইয়্যোহা এবং তার সম্মানীয় স্ত্রী রেবেকা। মন্টিয়েলে‘র বাপমায়ের দেহের দেহাবশিষ্ট মেয়ের সঙ্গে পাঠিয়ে দিচ্ছে যাতে করে খ্রিষ্টান ধর্মীয় মতে তাদের শেষকৃত্য করা হয়। যদিও চিঠিতে উল্লেখিত নামগুলো এবং স্বাক্ষর সঠিকভাবে পরা যাচ্ছিল তবুও হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বা উরসুলা মনে করতে পারছিল না এই নামের কোন আত্মীয়র অস্তিত্ব। অথবা চেনে না চিঠির লেখককে, মানাউর নামের সেই দূরবর্তী গ্রামের কথা তো বলাই বাহুল্য। অসম্ভব হয় মেয়েটার কাছ থেকেও অন্য কোন তথ্য বের করা। আসামাত্রই তাকে জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলো যে বুঝতে পারছে এমন কোন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে না সে। আসার পর থেকেই দোল-কেদারায় বসে আঙ্গুল চুষতে চুষতে বড় বড় চোখগুুলোতে ভয় নিয়ে চারিদিক দেখছে। কালো রংয়ের বহুল ব্যবহারে মলিন, আড়াআড়ি এক পোষাক ছিল তার পরনে আর পায়ে ছিল চলটা উঠে যাওয়া চামড়ার জুতো। কালো লেসের ফুল বানিয়ে কানের পেছনে চুলগুলো ছিল তার বাধা। গলায় পরা ঘামে প্রায় মুছে যাওয়া প্রতিমূর্তিসহ এক হার। আর ডান কব্জিতে পরা ছিল চোখ-লাগা প্রতিরোধের জন্য তামার উপর বসানো এক মাংশাশী জন্তর শদন্ত বালা। তার নীলাভ গায়ের রঙ, গোলাকার আর ঢোলের মত টানটান পেট, খারাপ স্বাস্থ্য আর বহু দিনের ক্ষুধারই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু ওকে যখন খাবার দেয়া হলৈা স্বাদ গ্রহণ না করেই পায়ের উপর থালা রেখে বসে রইল। যতক্ষণ পর্যন্ত না আদিবাসীরা ওদের নিজস্ব ভাষায় ওকে জিজ্ঞেস করল সামান্য কিছু পানি চায় কিনা আর সে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল, ততক্ষণ পর্যন্ত ওকে ভাবা হোল বোবা আর কালা। অন্য কোন উপায় না থাকায় সে ওদের সঙ্গেই রয়ে গেল। আউরেলিয়ানো ধৈর্য ধরে ওর সামনে সমস্ত সানতরাল (সন্তদের নাম লিখা বই) পড়ে যাওয়ার পরও সে কোন নামেই সাড়া না দেয়ায় চিঠি অনুযায়ী ওর মায়ের নামে নাম হয় রেবেকা। যেহেতু মাকন্দোতে তখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি, ফলে মাকন্দোতে কোন কবরস্থান না থাকায় দেহাবশিষ্টের হাড়েভর্তি থলেটা সঠিক মতে শেষকৃত্যের অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল অনেক সময় পর্যন্ত। আর যেখানে থাকার কথা নয় সেখানে উপস্থিত হয়ে থলেটা ডিমে তা দেয়া মুরগীর মত ক্লক ক্লক শব্দ করে সকলের বিরক্তির উদ্রেক করত। অনেক সময় লাগলো রেবেকার পারিবারিক জীবনের সঙ্গে একাত্ব হতে। ছোট্ট দোল-কেদারাটিতে বসত আঙ্গুল চোষার জন্য বাড়ির সবচেয়ে দুরের কোনায়। শুধুমাত্র ঘড়িগুলোর বাজনা ছাড়া কিছুই তার মনযোগ আকর্ষণ করত না। ভয়াতুর চোখে প্রতি আধঘন্টা অন্তর ঘড়িগুলোকে খুঁজে বেড়াতো যেন ওগুলোকে খুঁজে পাওয়া যাবে শূন্যের ভিতর। অনেক দিন পর্যন্ত ওকে কিছুই খাওয়ানো গেল না। আদিবাসীরা বিরামহীন নিঃশব্দ চরণে বাড়িময় ঘুড়ে বেড়ানোর কারণে সবকিছু সম্বন্ধেই অবগত ছিল আর এভাবেই তারা আবিস্কার করে কেন সে না খেয়ে এতদিন মারা যায়নি। ওরা বের করে, রেবেকা শুধু উঠানের নরম মাটি আর নখ দিয়ে খুলে ফেলা বাড়ির দেয়ালের চুনের পরত খেতে পছন্দ করে। বোঝাই যায় ওর বাবা মা বা যারাই ওকে লালন করছে তারা এই অভ্যেসটার দরুণ ওকে তীব্র ভৎর্সনা করত, কারণ কাজটা করত সে লুকিয়ে একটা অপরাধবোধ নিয়ে, আর পরের বরাদ্দটা লুকিয়ে রাখত যাতে কারো চোখ না পরে। সুতরাং, সেই সময় থেকে ওকে পাহারা দেওয়া হতো নিশ্ছিদ্রতায়। তার এই অভ্যেসটাকে দমন করতে বাড়ির উঠান লেপা হত গরুর পিত্ত দিয়ে, দেয়ালে মাখা হতো ঝাল মড়িচ কিন্তু সে মাটি জোগাড়ের জন্য এমন চতুরতা আর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয় যে উরসুলা আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কড়াইতে কমলার রসের সঙ্গে রেউচিনি মিশিয়ে সারারাত ফেলে রাখা হত শিশিরে আর শিরাপটা খালি পেটে খাওয়ানো হত ওকে।
     
  9. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    যদিও কেউই উরসুলাকে বলে দেয়নি যে ওটাই ছিল মাটি খাওয়ার অভ্যাসের মোক্ষম দাওয়াই তবুও সে ভেবেছিল খালি পেটে যে কোন তিক্ত জিনিসই যকৃতকে সাড়া দিতে বাধ্য করবে। রেবেকা অবাধ্য আর দুর্বলতা সত্ত্বেও এতই শক্তিশালী ছিল যে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য তাকে বাছুরের মত বাঁধতে হত আর ওরা কোনরকমে সহ্য করে নিত ওর লাথি, কামড়, ছেটানো থুথু আর দুর্বোধ্য সব কুৎসাপূর্ন শব্দ যেগুলো ছিল আদিবাসিদের কথানুযায়ী ওদের ভাষার জঘন্যতম গালি। উরসুলা যখন জানল তখন ওর সঙ্গে যোগ হল কোমড়-বন্ধনী দিয়ে চাবকানি। কেউ কখনই স্থির করতে পারল না রেউচিনি না চাবকানি অথবা দুটোরই সম্মিলিত গুনের ফলে রেবেকা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরোগ্যের চিহ্ন দেখাতে শুরু করে। আর্কাদিও আর আমারান্তার সঙ্গে খেলায় অংশগ্রহন করে সে, যারা ওকে বড় বোন হিসেবে দেখত। আর আরম্ভ করে ছুরি কাটাচামচ ব্যবহার করে পেট ভরে খেতে। শিঘ্রই জানা গেল সাবলীলভাবে কাস্তেইয়ানো বলতে পারে যেমনটি পারে আদিবাসীদের ভাষাও। তাছাড়া হাতের কাজে আছে তার উল্লেখযোগ্য দক্ষতা। আর সে যখন ঘড়িগুলোর সঙ্গে ওয়ালটস গাইত তখন গাইত সে নিজের বানানো কিছু শব্দ দিয়ে যা ছিল কৌতুকপূর্ণ। ওকে পরিবারের আর একজন সদস্য হিসাবে গণ্য করতে বেশী দেরী হল না। উরসুলা হয়েছিল ওর সবচেয়ে বেশী অনুরক্ত যা সে নিজের কোনও ছেলেমেয়ের কাছ থেকেও পায়নি। আর আর্কাদিও আমারান্তাকে ডাকত ভাই বোন বলে। আ্রউলিয়ানোকে কাকা আর হোর্সে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে ডাকত দাদা বলে। যাতে করে আর সবার মতই সে যোগ্যতা পেল রেবেকা বুয়োন্দিয়া নামের। এই নামটিই ছিল সব সময় তার একমাত্র নাম আর আমৃত্যু নামটিকে সে বহন করে গৌরবের সঙ্গে।
    রেবেকা যখন মাটি খাওয়ার রোগ থেকে সুস্থ হয় তখন ওকে নিয়ে যাওয়া হয়, অন্য শিশুদের সঙ্গে ঘুমানোর জন্য। আদিবাসী মহিলাও ওদের সঙ্গে ঘুমাতো এবং এক রাতে ঘটনাচক্রে সে জেগে যায় ঘরের কোণ থেকে আসা আশ্চর্যজনক এক অবিরাম শব্দ শুনে। প্রথম সে সতর্ক হয় ঘরে কোন জন্তু ঢুকে পড়েছে ভেবে। এমন সময় দেখতে পায় রেবেকাকে অন্ধকারে বিড়ালের মত জ্বলন্ত চোখ নিয়ে দোল-কেদারায় বসে আঙ্গুল চুষতে। ভয়ার্ত, ভাগ্যের ফেরে নিপীড়িত ভিসিতাসিওন চোখগুলোর ভিতর দিয়ে চিনতে পারে সেই রোগের উপসর্গ যার হুমকি ওকে আর ওর ভাইকে বাধ্য করেছিল এক সুপ্রাচীন দেশ ত্যাগ করতে, যেখানে ওরাই ছিল রাজকুমার আর রাজকুমারী। রোগটা হচ্ছে অনিদ্রা।
    কাতাউরে নামের আদিবাসী ছেলেটা বাড়ি ত্যাগ করে। ওর বোন রয়ে গেল কারণ ওর অদৃষ্টবাদী মন ওকে জানিয়ে দেয় যে সে যাই করুক না কেন এই প্রাণঘাতী কষ্টটা ওকে অনুসরন করবে পৃথিবীর শেষ কোনা পর্যন্ত। ভিসিতাসিওনের এই আতঙ্ক বাড়ির কেউ বুঝতে পারে না। “যদি না আবার ঘুমোয় এটাই তো ভাল” -খুশী মনে বলে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, “এভাবে আমাদের জীবনটা আরও দীর্ঘ হত কাজে লাগানোর জন্য”। কিন্তু ভিসিতাসিওন বুঝিয়ে বলে যে না ঘুমানো অসুখের সবচেয়ে ভীতিকর দিকটা হচ্ছে ঘুমাতে না পারাটা নয়, কারণ শরীর কোন ক্লান্তিই বোধ করে না। ভীতিকর দিকটা হচ্ছে এর স্মৃতিবিলোপের অবশ্যম্ভাবী ক্রমবিকাশ। যা বলতে চাচ্ছে সেটা হচ্ছে অসুস্থ মানুষটা যখন রাত্রি জাগরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে তখন তার শৈশবের স্মৃতিগুলো মুছে যেতে আরম্ভ করে। তারপর ভুলে যায় নিজের নাম, বস্তু সম্পর্কে ধারণা, শেষ পর্যায়ে মানুষের পরিচয়, এমনকি ভুলে যায় তার নিজস্ব সত্তা যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিণত হয় অতীতবিহীন এক মুর্খ প্রজাতিতে। হোর্সে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, হাসতে হাসতে মরে এই ভেবে যে অনেকগুলোর মত এটাও একটা আদিবাসীদের আবিস্কৃত কুসংস্কারগ্রস্থ ব্যাধি। যদি বা সত্য হয় এই ভেবে উরসুলা রেবেকাকে অন্যান্য শিশুদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

    কয়েক সপ্তাহ পর, যখন মনে হচ্ছিল ভিসিতাসিওনের আতংক নিভে এসেছে, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া এক রাতে ঘুম আসতে না পেরে নিজেকে আবিস্কার করে শয্যায় গড়াগড়ি দিতে। উরসুলা নিজেও জেগেছিল বলে সে প্রশ্ন করে তার কী হয়েছে। আর সে উত্তর দেয় “আবার আমি প্রুদেনসিও আগিলারের কথা ভাবছি” যদিও দুজনে এক দন্ড ঘুমোয়নি তবুও পরের দিন ওরা একই কাজ করে বিশ্রী গত রাতটার কথা ভুলে যায়। দুপুরের খাবার সময় আউরেলিয়ানো আশ্চর্যের সঙ্গে মন্তব্য করে যে সে সারারাত জেগে উরসুলার জন্মদিনে উপহার দেবার জন্য পরীক্ষাগারে এক ব্লোচ বানিয়ে কোন ক্লান্তি বোধ করছে না। তৃতীয় দিন পর্যন্ত ওরা সর্তক হল না যতক্ষণ না দেখল শোবার সময় হলেও ঘুম আসছে না আর তখন খেয়াল করে যে তারা নির্ঘুমে কাটিয়েছে পঞ্চাশ ঘন্টারও বেশি সময়। “শিশুরাও জেগে আছে”– অদৃষ্টবাদী দৃঢ়তা নিয়ে বলল আদিবাসী মেয়েটা- “বাড়ির কেউই রেহাই পায় না একবার কোন বাড়িতে রোগটা ঢুকলে।”
     
  10. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    6,052
    Likes Received:
    1,583
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সত্যিই অনিদ্রারোগে ধরছে ওদের–বুঝতে পারে তারা। উরসুলা তার মায়ের কাছে শিখেছিল ঔষধী গাছের উপকারিতা। আর সে একোনইট (এক জাতীয় অষুধি গুল্ম) গাছ দিয়ে পানীয় বানিয়ে এক মাত্রা করে খাইয়ে দেয় সবাইকে। কিন্তু এতে করে ওরা না ঘুমিয়ে সারাদিন স্বপ্ন দেখে জাগ্রত অবস্থায়। এই মতিভ্রম, সুস্থতার স্বচ্ছ অবস্থায় ওরা শুধু যে নিজেরা নিজেদের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি দেখছিল তাই-ই নয়, এতে দেখছিল অন্যের দেখা স্বপ্নের প্রতিছবিও। এটা এমন ছিল যেন সারা বাড়ি অতিথিতে ভরে গেছে। রান্না ঘরের কোনায় দোল-চেয়ারে বসে রেবেকা স্বপ্ন দেখল যে প্রায় ওর মতই দেখতে এক লোক, পরনে গলাবন্ধ, সোনার বোতামওয়ালা সাদা লিনেনের শার্ট, ওর জন্য নিয়ে এসেছে এক তোড়া গোলাপ। লোকটাকে সঙ্গ দিচ্ছে এক মার্জিত হাতের মহিলা যে তোড়া থেকে একটি গোলাপ আলাদা করে গুজে দেয় রেবেকার চুলে। উরসুলা বুঝতে পারল ভদ্রলোক আর মহিলা ছিল রেবেকার বাবা ও মা কিন্তু অনেক চেষ্টা স্বত্তেও রেবেকা ওদের চিনতে পারল না, এমনকি দৃঢ়তার সাথে নিশ্চিত করলো ওদের সে কখনোই দেখিনি। সেই সময়ে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার অসতর্কতার ফলে বাড়িতে বানানো মিষ্টির জীবজন্তুগুলো গ্রাম জুড়ে বিক্রি হতে লাগল, যার দরুণ সে নিজেকে কখনই ক্ষমা করতে পারবে না। শিশুরা আর বড়রা আনন্দের সঙ্গে চুষতে লাগল সবুজ মজাদার অনিদ্রার ছোট ছোট মুরগী, মজাদার গোলাপী অনিদ্রা মাছ আর সুন্দর হলুদ রঙের অনিন্দ্রার ছোট ছোট ঘোড়া। ফলে সোমবারের উষা চমকে দেয় জেগে থাকা সারা গ্রামকে। প্রথম দিকে কেউই গুরুত্ব দেয় না। উল্টো না ঘুমিয়ে সবাই খুশীই হল, কারণ তখন সারা গ্রামে এত কাজ ছিল যে কোনভাবেই সময়ে কুলাতো না সব কাজ শেষ করার জন্য। ওরা এতই কাজ করল যে শিঘ্রই করার মত আর কিছুই থাকল না। আর ভোর তিনটের সময় নিজেদের আবিস্কার করল কিছুই না করে ঘড়িগুলোর মাত্রা গুনতে। ক্লান্তির জন্য নয় বরঞ্চ ঘুমের অতীত আর্তিতে কাতর হয়ে যারা ঘুমুতে চাইল তাদের করা সমস্ত চেষ্টা বিফল হয়। ওরা একত্রিত হত বিরতিহীন আলাপ করতে, ঘন্টার পর ঘন্টা একই কৌতুক বলতে আর খাশী করা মোরগের কাহিনীটাকে জটিল বিরক্তিকর চরম সীমায় নিয়ে যাবার জন্য। সেটা ছিল এক অন্তহীন খেলা যেখানে গল্পকার প্রশ্ন করে খাশি করা মোরগের গল্প বলবে কিনা, যখন ওরা জবাব দেয় হ্যাঁ তখন গল্পকার বলে হ্যাঁ বলতে বলেনি সে। প্রশ্ন করেছে তাদেরকে সে খাশি করা মোরগের গল্প বলতে বলেছে কিনা। যদি বলে না তখন গল্পকার বলে না বলতে বলেনি সে। প্রশ্ন করেছে তাদেরকে যে খাশি করা মোরগের গল্প বলেছে কিনা আর যদি চুপ করে থাকে তখন গল্পকার বলে চুপ করে থাকতে বলেনি সে। সে প্রশ্ন করেছে তাদেরকে যে খাশি করা মোরগের গল্প বলতে বলেছে কি না। কেউ উঠে চলে যেতে পারত না কারণ যদি কেউ চলে যেতে চাইত তখন গল্পকার বলত সে ওদেরকে চলে যেতে বলেনি প্রশ্ন করেছে, তাদেরকে খাশি করা মোরগের গল্প বলতে বলেছে কিনা আর এভাবেই বারবার চলতে থাকত খেলাটা যেখানে আরম্ভ সেখানেই ফিরে আসা অব্যাহত বৃত্তের মত।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)