1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected জীবনানন্দ দাশের জীবনী ও তার লেখা কবিতাসমগ্র

Discussion in 'Collected' started by Tazul Islam, May 9, 2016. Replies: 298 | Views: 13587

  1. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    দুই


    সময় কীটের মতো কুরে খায় আমাদের দেশ।
    আমাদের সন্তানেরা একদিন জ্যেষ্ঠ হ’য়ে যাবে;
    স্বতসিদ্ধতায় গিয়ে জীবনের ভিতরে দাঁড়াবে;
    এ-রকম ভাবনার কিছু অবলেশ


    তাদের হৃদয়ে আছে হয়তো-বা;—মাঠে-ময়দানে
    কথা ব’লে জীবনের বিষ তারা ঝেড়ে ফেলে দিতে চায় আজ;
    অল্পায়ু হিমের দিন ততোধিক মিহিন কামিজে
    কাটাতেছে যেন অগণন গিরেবাজ।


    সমুদ্রের রৌদ্র থেকে আমাদের দেশে
    নীলাভ ঢেউয়ের মতো দীপ্তি নেমে আসে মনে হয়;
    আমাদের পিতামহ পিতারাও প্রবাদের মতো জেনে গেছে;
    আমাদেরও ততদূর ভাববিনিময়


    একদিন ছিলো,—তবু শোচনীয় কালের বিপাকে
    হারায়ে ফেলেছি সেই সান্দ্র বিশ্বাস।
    কারু সাথে অন্ধকার মাটিতে ঘুমায়ে,
    কারু সাথে ভোরবেলা জেগে—বারো মাস


    তাকেও স্মরণ ক’রে চিনে নিতে হয়
    সে কি কাল? সে জীবন? জ্ঞাতিভ্রতা? গণিকা? গৃহিণী?
    মানুষের বংশ এসে সময়ের কিনারে থেমেছে,
    একদিন চেনা ছিলো ব’লে আজ ইহাদের চিনি


    অন্ধকার সংস্কার হাৎড়ায়ে, মৃদুভাবে হেসে;
    তীর্থে—তীর্থে বারবার পরীক্ষিত হ’য়ে পরিচয়
    বিবর্ণ জ্ঞানের রাজ়্যে কাগজের ডাঁইয়ে প’ড়ে আছে;
    আমাদের সন্ততিও আমাদের হৃদয়ের নয়।


    আমরা মধ্যম পথে বিকালের ছায়ায় রয়েছি
    একটি পৃথিবী নষ্ট হ’য়ে গেছে আমাদের আগে,
    আরেকটি পৃথিবীর দাবি
    স্থির ক’রে নিতে হ’লে লাগে


    সকালের আকাশের মতন বয়স;
    সে-সকাল কখনো আসে না ঘোর,স্বধর্মনিষ্ঠ রাত্রি বিনে।
    পশ্চিমে অস্তের সূর্য ধূলিকণা, জীবাণুর উতরোল মহিমা রটায়ে
    পৃথিবীকে রেখে যায় মানবের কাছে জনমানবের ঋণে।
     
  2. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    তিন


    সারাদিন ধানের বা কাস্তের শব্দ শোনা যায়।
    ধীর পদক্ষেপে কৃষকেরা হাঁটে।
    তাদের ছায়ার মতো শরীরের ফুঁয়ে
    শতাব্দীর ঘোর কাটে-কাটে।


    মাঝে-মাঝে দু’-চারটে প্লেন চ’লে যায়।
    একভিড় হরিয়াল পাখি
    উড়ে গেল মনে হয়, দুই পায়ে হেঁটে
    কত দূর যতে পারে মানুষ একাকী।


    এ-সব ধারণা তবু মনের লঘুতা।
    আকাশে রক্তিম হ’য়ে গেছে;
    কামানের থেকে ম্ময়, আজো এইখানে
    প্রকৃতি রয়েছে।


    রাত্রি তার অন্ধকার ঘুমাবার পথে
    আবার কুড়ায়ে পায় এক পৃথিবীর মেয়ে, ছেলে;
    মানুষ ও মনীষীর রৌদ্রের দিন
    হৃদয়বিহীনভাবে শূন্য হ’য়ে গেলে।


    সেই রাত্রি এসে গেছে; সন্ততিরা জড়ায়ে গিয়েছে
    জ্ঞাতকুলশীল আর অজ্ঞাত ঋণে।
    পারাবত-পক্ষ-ধ্বনি সায়াহ্নের, সকালের নয়,
    মাঝে এই বেহুলা ও কালরাত্রি বিনে।
     
  3. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    চার


    এখন অনেক দূরে ইতিহাস-স্বভাবের গতি চলে গেছে।
    পশ্চিম সূর্যের দিকে শত্রু ও সুহৃদ তাকায়েছে।
    কে তার পাগড়ি খুলে পুব দিকে ফসলের, সূর্যের তরে
    অপেক্ষায় অন্ধকার রাত্রির ভিতরে
    ডুবে যেতে চেয়েছিলো বলে চ’লে গেছে।

    আমরা সকলে তবু সময়ের একান্ত সৈকতে
    নিজেদের অপরের সবায়ের জনমতামতে
    অনেক ডোডের ভিড়ে ডোডেদের মতো
    নেই—তুব র’য়ে গেছি স্বভাববশত।
    এই ক্রান্তি জীবন বা মরণের ব’লে মনে হয়।

    আকাশের ফিকে রঙ ভোরের, কি সন্ধ্যার আঁধার?
    এই দূরত্যয় সিন্ধু কি পার হবার?
    আমরা অনেক লোক মিলে তবু এখন একাকী;
    বংশ লুপ্ত ক’রে দিয়ে শেষ অবশিষ্ট ডোডো পাখি,
    হ’তে গিয়ে পারাবত-পক্ষ-ধ্বনি শুনি,
    না কি ডোডোমির অতল ক্রেংকার।
     
  4. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মনোকণিকা (অসম্পূর্ণ)
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    একটি বিপ্লবী তার সোনা রুপো ভালোবেসেছিলো;
    একটি বণিক আত্মহত্যা করেছিলো পরবর্তী জীবনের লোভে;
    একটি প্রেমিক তার মহিলাকে ভালবেসেছিলো;
    তবুও মহিলা প্রীত হয়েছিলো দশজন মূর্খের বিক্ষোভে।


    বুকের উপরে হাত রেখে দিয়ে তারা
    নিজেদের কাজ করে গিয়েছিলো সব।
    অবশেষে তারা আজ মাটির ভিতরে
    অপরের নিয়মে নীরব।


    মাটির আহ্নিক গতি সে নিয়ম নয়;
    সূর্য তার স্বাভাবিক চোখে
    সে নিয়ম নয়–কেউ নিয়মের ব্যতিক্রম নয়;
    সব দিক ও. কে. ।


    (অসম্পূর্ণ)
    ———————


    [সংযোজন : ১৯৫৪]

     
  5. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মনোবীজ
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    জামিরের ঘন বন অইখানে রচেছিলো কারা?
    এইখানে লাগে নাই মানুষের হাত।
    দিনের বেলায় যেই সমারূঢ় চিন্তার আঘাত
    ইস্পাতের আশা গড়ে—সেই সব সমুজ্জ্বল বিবরণ ছাড়া

    যেন আর নেই কিছু পৃথিবীতে : এই কথা ভেবে
    যাহারা রয়েছে ঘুমে তুলীর বালিশে মাথা গুঁজে;
    তাহারা মৃত্যুর পর জামিরের বনে জ্যোৎস্না পাবে নাকো খুঁজে;
    বধির-ইস্পাত খড়্গ তাহাদের কোলে তুলে নেবে।
    সেই মুখ এখনও দিনের আলো কোলে নিয়ে করিতেছে খেলাঃ
    যেন কোনো অসংগতি নেই—সব হালভাঙা জাহাজের মতো সমন্বয়
    সাগরে অনেক রৌদ্র আছে ব’লে;—পরিব্যস্ত বন্দরের মতো মনে হয়
    যেন এই পৃথিবীকে;—যেখানে অঙ্কুশ নেই তাকে অবহেলা
    করিবে সে আজো জানি;—দিনশেষে বাদুড়ের-মতন-সঞ্চারে
    তারে আমি পাবো নাকো;—এই রাতে পেয়ারার ছায়ার ভিতরে
    তারে নয়—স্নিগ্ধ সব ধানগন্ধী প্যাঁচাদের প্রেম মনে পড়ে।
    মৃত্যু এক শান্ত ক্ষেত—সেইখানে পাবো নাকো তারে।

    পৃথিবীর অলিগলি বেয়ে আমি কত দিন চলিলাম।
    ঘুমালাম অন্ধকারে যখন বালিশেঃ
    নোনা ধরে নাকো সেই দেওয়ালের
    ধূসর পালিশে
    চন্দ্রমল্লিকার বন দেখিলাম
    রহিয়াছে জ্যোৎস্নায় মিশে।
    যেই সব বালিহাঁস ম’রে গেছে পৃথিবীতে
    শিকারির গুলির আঘাতেঃ
    বিবর্ণ গম্বুজে এসে জড়ো হয়
    আকাশের চেয়ে বড়ো রাতে;
    প্রেমের খাবার নিয়ে ডাকিলাম তারে আমি
    তবুও সে নামিল না হাতে।
     
  6. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    পৃথিবীর বেদনার মতো ম্লান দাঁড়ালামঃ
    হাতে মৃত সূর্যের শিখা;
    প্রেমের খাবার হাতে ডাকিলাম;
    অঘ্রাণের মাঠের মৃত্তিকা
    হ’য়ে গেলো;
    নাই জ্যোৎস্না—নাই কো মল্লিকা।

    সেই সব পাখি আর ফুলঃ
    পৃথিবীর সেই সব মধ্যস্থতা
    আমার ও সৌন্দর্যের শরীরের সাথে
    ম্যমির মতনও আজ কোনোদিকে নেই আর;
    সেই সব শীর্ণ দীর্ঘ মোমবাতি ফুরায়েছে
    আছে শুধু চিন্তার আভার ব্যবহার।
    সন্ধ্যা না-আসিতে তাই
    হৃদয় প্রবেশ করে প্যাগোডার ছায়ার ভিতরে
    অনেক ধূসর বই নিয়ে।

    চেয়ে দেখি কোনো-এক আননের গভীর উদয়ঃ
    সে-আনন পৃথিবীর নয়।
    দু-চোখ নিমীল তার কিসের সন্ধানে?
    ‘সোনা—নারী—তিশি—আর ধানে’-
    বলিল সেঃ ‘কেবল মাটির জন্ম হয়।’
    বলিলামঃ ‘তুমিও তো পৃথিবীর নারী,
    কেমন কুৎসিত যেন,—প্যাগোডার অন্ধকার ছাড়ি
    শাদা মেঘ-খরশান বাহিরে নদীর পারে দাঁড়াবে কি?’

    ‘শানিত নির্জন নদী’—বলিল সে—‘তোমারি হৃদয়,
    যদিও তা পৃথিবীর নাদী—ন্দী নয়ঃ
    তোমারি চোখের স্বাদে ফুল আর পাতা
    জাগে না কি? তোমারি পায়ের নিচে মাথা
    রাখে না কি? বিশুস্ক—ধূসর-
    ক্রমে-ক্রমে মৃত্তিকার কৃমিদের স্তর
    যেন তারা; -অপ্সরা –উর্বশী
    তোমার উৎকৃষ্ট মেঘে ছিলো না কি বসি?
    ডাইনির মাংসের মতন
    আজ তার জঙ্ঘা আর স্তন;
    বাদুড়ের খাদ্যের মতন
    একদিন হ’য়ে যাবে;
     
  7. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    যে-সব মাছিরা কালো মাংস খায়—তারে ছিঁড়ে খাবে।’
    কান্তারের পথে যেন সৌন্দর্যের ভূতের মতন
    তাহারে চকিত আমি করিলাম;—রোমাঞ্চিত হ’য়ে তার মন
    ব’লে গেলোঃ ‘তক্ষিত সৌন্দর্য সব পৃথিবীর
    উপনীত জাহাজের মাস্তুলের সুদীর্ঘ শরীর
    নিয়ে আসে একদিন, হে হৃদয়,—একদিন
    দার্শনিকও হিম হয়—প্রণয়ের সম্রাজ্ঞীরা হবে না মলিন?’
    কল্পনার অবিনাশ মহনীয় উদ্‌গিরণ থেকে
    আসিল সে হৃদয়ের। হাতে হাত রেখে
    বলিল সে। মনে হ’লো পাণ্ডুলিপি মোমের পিছনে
    রয়েছে সে। একদিন সমুদ্রের কালো আলোড়নে
    উপনিষদের শাদা পাতাগুলো ক্রমে ডুবে যাবে;
    ল্যাম্পের আলো হাতে সেদিন দাঁড়াবে
    অনেক মেধাবী মুখ স্বপ্নের বন্দরের তীরে,
    যদিও পৃথিবী আজ সৌন্দর্যেরে ফেলিতেছে ছিঁড়ে।

    প্রেম কি জাগায় সূর্যকে আজ ভোরে?
    হয়তো জ্বালায়ে গিয়েছে অনেক—অনেক বিগত কাল,
    বায়ুর ঘোড়ার খুরে যে পরায় অগ্নির মতো নাল
    জানে না সে কিছু,—তবু তারে জেনে সূর্য আজিকে জ্বলে।
    চীনের প্রাচীর ভেঙে যেতে-যেতে-
    চীনের প্রাচীর বলে :
    অনেক নবীন সূর্য দেখেছি রাতকানা যেন নীল আকাশের তলে;
    পুরোনো শিশির আচার পাকায় আলাপী জিভের তরে;
    যা-কিছু নিভৃত—ধূসর—মেধাবী—তাহাদের রক্ষা করে;
    পাথরের চেয়ে প্রাচীন ইচ্ছা মানুষের মনে গড়ে।
    অথবা চীনের প্রাচীরের ভুল—চেনেনি নিজের হাল;
    কিংবা জ্বালায়ে গিয়েছে হয়তী অনেক বিগত কাল;
    অগ্নিঘোড়ার খুরে যে পরায় জলের মতন নাল
    জানে না সে কিছু,... তবু তারে জেনে সূর্য আজিকে জ্বলে;-
    ববিনে জড়ানো মিশরের ম্যমি কালো বিড়ালকে বলে।
     
  8. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    শীতরাত
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    এই সব শীতের রাতে আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে;
    বাইরে হয়তো শিশির ঝরছে, কিংবা পাতা,
    কিংবা প্যাঁচার গান; সেও শিশিরের মতো, হলুদ পাতার মতো।


    শহর ও গ্রামের দূর মোহনায় সিংহের হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে –
    সার্কাসের ব্যথিত সিংহের।


    এদিকে কোকিল ডাকছে – পউষের মধ্য রাতে;
    কোনো-একদিন বসন্ত আসবে ব’লে?
    কোনো-একদিন বসন্ত ছিলো, তারই পিপাসিত প্রচার?
    তুমি স্থবির কোকিল নও? কত কোকিলকে স্থবির হ’য়ে যেতে দেখেছি,
    তারা কিশোর নয়,
    কিশোরী নয় আর;
    কোকিলের গান ব্যবহৃত হ’য়ে গেছে।


    সিংহ হুঙ্কার ক’রে উঠছে:
    সার্কাসের ব্যথিত সিংহ,
    স্থবির সিংহ এক – আফিমের সিংহ – অন্ধ – অন্ধকার।
    চারদিককার আবছায়া-সমুদ্রের ভিতর জীবনকে স্মরণ করতে গিয়ে
    মৃত মাছের পুচ্ছের শৈবালে, অন্ধকার জলে, কুয়াশার পঞ্জরে হারিয়ে যায় সব।


    সিংহ অরন্যকে পাবে না আর
    পাবে না আর
    পাবে না আর
    কোকিলের গান
    বিবর্ণ এঞ্জিনের মত খ’শে খ’শে
    চুম্বক পাহাড়ে নিস্তব্ধ।
    হে পৃথিবী,
    হে বিপাশামদির নাগপাশ, – তুমি
    পাশ ফিরে শোও,
    কোনোদিন কিছু খুঁজে পাবে না আর।

     
  9. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সুবিনয় মুস্তফী
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    সুবিনয় মুস্তফীর কথা মনে পড়ে এই হেমন্তের রাতে।
    একসাথে বিড়াল ও বিড়ালের-মুখে-ধরা-ইঁদুর হাসাতে
    এমন আশ্চর্য শক্তি ছিল ভূয়োদর্শী যুবার।
    ইঁদুরকে খেতে-খেতে শাদা বিড়ালের ব্যবহার,
    অথবা টুকরো হ’তে-হ’তে সেই ভারিক্কে ইঁদুর,
    বৈকুন্ঠ ও নরকের থেকে তা’রা দুই জনে কতোখানি দূর
    ভুলে গিয়ে আধো আলো অন্ধকারে হেঁচকা মাটির পৃথিবীতে
    আরো কিছুদিন বেঁচে কিছুটা আমেজ পেয়ে নিতে
    কিছুটা সুবিধা ক’রে দিতে যেতো—মাটির দরের মতো রেটে;
    তবুও বেদম হেসে খিল ধ’রে যেতো ব’লে বিড়ালের পেটে
    ইঁদুর ‘হুর্‌রে’ ব’লে হেসে খুন হ’তো সেই খিল কেটে-কেটে।


    ———————
    [সংযোজন : ১৯৫৪]

     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)