1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected জীবনানন্দ দাশের জীবনী ও তার লেখা কবিতাসমগ্র

Discussion in 'Collected' started by Tazul Islam, May 9, 2016. Replies: 298 | Views: 13566

  1. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সূর্য রাত্রি নক্ষত্র
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    এইখানে মাইল মাইল ঘাস ও শালিখ রৌদ্র ছাড়া আর কিছু নেই।
    সূর্যালোকিত হয়ে শরীর ফসল ভালোবাসিঃ
    আমারি ফসল সব,- মীন কন্যা এসে ফলালেই
    বৃশ্চিক কর্কট তুলা মেষ সিংহ রাশি
    বলয়িত হয়ে উঠে আমাকে সূর্যের মতো ঘিরে
    নিরবধি কাল নীলাকাশ হয়ে মিশে গেছে আমার শরীরে।
    এই নদী নীড় নারী কেউ নয়;- মানুষের প্রাণের ভিতরে
    এ-পৃথিবী তবুও তো সব।
    অধিক গভীর ভাবে মানবজীবন ভালো হলে
    অধিক নিবিড়তর ভাবে প্রকৃতিকে অনুভব
    করা যায়। কিছু নয় অন্তহীন ময়দান অন্ধকার রাত্রি নক্ষত্র;-
    তারপর কেউ তাকে না চাইতে নবীন করুণ রৌদ্রে ভোর;-
    অভাবে সমাজ নষ্ট না হলে মানুষ এই সবে
    হয়ে জেত এক তিম অধিক বিভোর।
     
  2. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    হে হৃদয়
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    হে হৃদয়
    নিস্তব্ধতা?
    চারিদিকে মৃত সব অরণ্যেরা বুঝি?
    মাথার ওপরে চাঁদ
    চলছে কেবলি মেঘ কেটে পথ খুঁজে-


    পেঁচার পাখায়
    জোনাকির গায়ে
    ঘাসের ওপরে কী যে শিশিরের মতো ধূসরতা
    দীপ্ত হয় না কিছু?
    ধ্বনিও হয় না আর?


    হলুদ দু’-ঠ্যাং তুলে নেচে রোগা শালিখের মতো যেন কথা
    ব’লে চলে তবুও জীবনঃ
    বয়স তোমার কত? চল্লিশ বছর হল?
    প্রণয়ের পালা ঢের এল গেল-
    হল না মিলন?


    পর্বতের পথে-পথে রৌদ্রে রক্তে অক্লান্ত শফরে
    খচ্চরে পিঠে কারা চড়ে?
    পতঞ্জলি এসে ব’লে দেবে
    প্রভেদ কী যারা শুধু ব’সে থেকে ব্যথা পায় মৃত্যর গহ্বরে
    মুখে রক্ত তুলে যারা খচ্চরের পিঠ থেকে পড়ে যায়?


    মৃত সব অরণ্যেরা;
    আমার এ-জীবনের মৃত অরণ্যেরা বুঝি বলেঃ
    কেন যাও পৃথিবীর রৌদ্র কোলাহলে
    নিখিল বিষের ভোক্তা নীলকন্ঠ আকাশের নীচে
    কেন চ’লে যেতে চাও মিছে;
    কোথাও পাবে না কিছু;
    মৃত্যুই অনন্ত শান্তি হয়ে
    অন্তহীন অন্ধকারে আছে
    লীন সব অরণ্যের কাছে।
    আমি তবু বলিঃ
    এখনও যে-ক’টা দিন বেঁচে আছি সূর্যে-সূর্যে চলি,
    দেখা যাক পৃথিবীর ঘাস
    সৃষ্টির বিষের বিন্দু আর
    নিষ্পেষিত মনুষ্যতার
    আঁধারের থেকে আনে কী ক’রে যে মহা-নীলাকাশ,
    ভাবা যাক—ভাবা যাক-
    ইতিহাস খুঁড়লাই রাশি-রাশি দুঃখের খনি
    ভেদ ক’রে শোনা যায় শুশ্রুষার মতো শত-শত
    শত জলঝর্ণার ধ্বনি।

     
  3. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh

    হেমন্তের রাতে
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    শীতের ঘুমের থেকে এখন বিদায় নিয়ে বাহিরের অন্ধকার রাতে
    হেমন্তলক্ষ্মীর সব শেষ অনিকেত অবছায়া তারাদের
    সমাবেশ থেকে চোখ নামায়ে একটি পাখির ঘুম কাছে
    পাখিনীর বুকে ডুবে আছে,–
    চেয়ে দেখি;– তাদের উপরে এই অবিরল কালো পৃথিবীর
    আলো আর ছায়া খেলে–মৃত্যু আর প্রেম আর নীড়।
    এ ছাড়া অধিক কোনো নিশ্চয়তা নির্জন্তা জীবনের পথে
    আমাদের মানবীয় ইতিহাস চেতনায়ও নেই;– (তবু আছে।)
    এমনই অঘ্রাণ রাতে মনে পড়ে–কত সব ধূসর বাড়ির
    আমলকীপল্লবের ফাঁক দিয়ে নক্ষত্রের ভিড়
    পৃথিবীর তীরে–তীরে ধূসরিম মহিলার নিকটে সন্নত
    দাঁড়ায়ে রয়েছে কত মানবের বাষ্পাকুল প্রতীকের মতো–
    দেখা যেত; এক আধ মহূর্ত শুধু;– সে অভিনিবেশ ভেঙ্গে ফেলে
    সময়ের সমুদ্রের রক্ত ঘ্রাণ পাওয়া গেল;– ভীতিশব্দ রীতিশব্দ মুক্তিশব্দ এসে
    আরো ঢের পটভূমিকার দিকে দিগন্তের ক্রমে
    মানবকে ডেকে নিয়ে চ’লে গেল প্রেমিকের মতো সসম্ভ্রমে;
    তবুও সে প্রেম নয়, সুধা নয়,– মানুষের ক্লান্ত অন্তহীন
    ইতিহাস–আকুতির প্রবীণতা ক্রমায়াত ক’রে সে বিলীন?


    আজ এই শতাব্দীতে সকলেরি জীবনের হৈমন্ত সৈকতে
    বালির উপরে ভেসে আমাদের চিন্তা কাজ সংকল্পের তরঙ্গকঙ্কাল
    দ্বীপসমুদ্রের মতো অস্পষ্ট বিলাপ ক’রে তোমাকে আমাকে
    অন্তহীন দ্বীপহীনতার দিকে অন্ধকারে ডাকে।
    কেবলি কল্লোল আলো–জ্ঞান প্রম পূর্ণত্র মানবহৃদয়
    সনাতন মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে– তবু– ঊনিশ শো অনন্তের জয়


    হয় যেতে পারে, নারি, আমাদের শতাব্দীর দীর্ঘতর চেতনার কাছে
    আমরা সজ্ঞান হয়ে বেঁচে থেকে বড়ো সময়ের
    সাগরের কূলে ফিরে আমাদের পৃথিবীকে যদি
    প্রিয়তর মনে করি প্রিয়তম মৃত্যু অবধি;–
    সকল আলোর কাজ বিষণ্ন জেনেও তবু কাজ ক’রে– গানে
    গেয়ে লোকসাধারণ ক’রে দিতে পারি যদি আলোকের মানে।

     
  4. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অনুপম ত্রিবেদী
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    এখন শীতের রাতে অনুপম ত্রিবেদীর মুখ জেগে ওঠে।
    যদিও সে নেই আজ পৃথিবীর বড়ো গোল পেটের ভিতরে
    সশরীরে; টেবিলের অন্ধকারে তবু এই শীতের স্তব্ধতা
    এক পৃথিবীর মৃত জীবিতের ভিড়ে সেই স্মরণীয় মানুষের কথা
    হৃদয়ে জাগায়ে যায়; টেবিলে বইয়ের স্তুপ দেখে মনে হয়
    যদিও প্লেটোর থেকে রবি ফ্রয়েড নিজ নিজ চিন্তার বিষয়
    পরিশেষ করে দিয়ে শিশিরের বালাপোশে অপরূপ শীতে
    এখন ঘুমায়ে আছে—তাহাদের ঘুম ভেঙে দিতে
    নিজের কুলুপ এঁটে পৃথিবীতে—ওই পারে মৃত্যুর তালা
    ত্রিবেদী কি খোলে নাই? তান্ত্রিক উপাসনা মিস্টিক ইহুদী কাবালা
    ঈশার শবোত্থান—বোধিদ্রুমের জন্ম মরণের থেকে শুরু ক’রে
    হেগেল ও মার্কস : তার ডান আর বাম কান ধ’রে
    দুই দিকে টেনে নিয়ে যেতেছিল; এমন সময়
    দু পকেটে হাত রেখে ভ্রুকুটির চোখে নিরাময়
    জ্ঞানের চেয়েও তার ভালো লেগে গেল মাটি মানুষের প্রেম;
    প্রেমের চেয়েও ভালো মনে হল একটি টোটেম :
    উটের ছবির মতো—একজন নারীর হৃদয়ে;
    মুখে-চোখে আকুতিতে মরীচিকা জয়ে
    চলেছে সে; জড়ায়েছে ঘিয়ের রঙের মতো শাড়ি;
    ভালো ক’রে দেখে নিলে মনে হয় অতীব চতুর দক্ষিণরাঢ়ী
    দিব্য মহিলা এক; কোথায় সে আঁচলের খুঁট;
    কেবলই উত্তরপাড়া ব্যাণ্ডেল কাশীপুর বেহালা খুরুট
    ঘুরে যায় স্টালিন, নেহেরু, ব্লক, অথবা রায়ের বোঝা ব’য়ে,
    ত্রিপাদ ভূমির পরে আরো ভূমি আছে এই বলির হৃদয়ে?
    তা হলে তা প্রেম নয়; ভেবে গেল ত্রিবেদীর হৃদয়ের জ্ঞান।
    জড় ও অজড় ডায়ালেক্‌টিক্‌ মিলে আমাদের দু দিকের কান
    টানে ব’লে বেঁচে থাকি—ত্রিবেদীকে বেশি জোরে দিয়েছিল টান।


    ———————
    [সংযোজন : ১৯৫৪]

     
  5. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    নিরালোক
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    একবার নক্ষত্রের দিকে চাই — একবার প্রান্তরের দিকে
    আমি অনিমিখে।
    ধানের ক্ষেতের গন্ধ মুছে গেছে কবে
    জীবনের থেকে যেন; প্রান্তরের মতন নীরবে
    বিচ্ছিন্ন খড়ের বোঝা বুকে নিয়ে ঘুম পায় তার;
    নক্ষত্রেরা বাতি জ্বেলে জ্বেলে — জ্বেলে — ‘নিভে গেলে — নিভে গেলে?’
    বলে তারে জাগায় আবার;


    জাগায় আবার।
    বিক্ষত খড়ের বোঝা বুকে নিয়ে — বুকে নিয়ে ঘুম পায় তার,
    ঘুম পায় তার।


    অনেক নক্ষত্রে ভরে গেছে এই সন্ধ্যার আকাশ — এই রাতের আকাশ;
    এইখানে ফাল্গুনের ছায়া মাখা ঘাসে শুয়ে আছি;
    এখন মরণ ভালো — শরীরে লাগিয়া রবে এই সব ঘাস;
    অনেক নক্ষত্র রবে চিরকাল যেন কাছাকাছি।


    কে যেন উঠিল হেঁচে–হামিদের মরখুটে কানা ঘোড়া বুঝি!
    সারা দিন গাড়ি টানা হল ঢের — ছুটি পেয়ে জ্যোৎস্নায় নিজ মনে খেয়ে যায় ঘাস;
    যেন কোনো ব্যথা নাই? পৃথিবীতে — আমি কেন তবে মৃত্যু খুঁজি?
    ‘কেন মৃত্যু খোঁজো তুমি?’ চাপা ঠোঁটে বলে দূর কৌতুকী আকাশ।


    ঝাউফুলে ঘাস ভরে — এখানে ঝাউয়ের নিচে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে;
    কাশ আর চোরকাঁটা ছেড়ে দিয়ে ফড়িং চলিয়া গেছে ঘরে।
    সন্ধ্যার নক্ষত্র, তুমি বলো দেখি কোন্‌ পথে কোন্‌ ঘরে যাব!
    কোথায় উদ্যম নাই, কোথায় আবেগ নাই — চিন্তা স্বপ্ন ভুলে গিয়ে শান্তি আমি পাব?
    রাতের নক্ষত্র, তুমি বলো দেখি কোন্‌ পথে যাব?
    ‘তোমারই নিজের ঘরে চলে যাও’ — বলিল নক্ষত্র চুপে হেসে–
    ‘অথবা ঘাসের ’পরে শুয়ে থাকো আমার মুখের রূপ ঠায় ভালোবেসে;
    অথবা তাকায়ে দেখো গরুর গাড়িটি ধীরে চলে যায় অন্ধকারে
    সোনালি খড়ের বোঝা বুকে;
    পিছে তার সাপের খোলস, নালা খলখল অন্ধকার — শান্তি তার
    রয়েছে সমুখে;
    চলে যায় চুপে চুপে সোনালি খড়ের বোঝা বুকে–
    যদিও মরেছে ঢের গন্ধর্ব, কিন্নর, যক্ষ, –তবু তার মৃত্যু নাই মুখে।’

     
  6. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    পরিচায়ক
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    মাঝে-মাঝে মনে হয় এ-জীবন হংসীর মতন—
    হয়তো-বা কোনো-এক কৃপণের ঘরে;
    প্রভাতে সোনার ডিম রেখে যায় খড়ের ভিতরে;
    পরিচিত বিস্ময়ের অনুভবে ক্রমে-ক্রমে দৃঢ় হয় গৃহস্থের মন।
    তাই সে হংসীরে আর চায় নাকো দুপুরে নদীর ঢালু জ’লে
    নিজেকে বিম্বিত ক’রে; ক্রমে দূরে—দূরে
    হয়তো-বা মিশে যাবে অশিষ্ট মুকুরেঃ
    ছবির বইয়ের দেশে চিরকাল—ক্রুর মায়াবীর জাদুবলে।

    তবুও হংসীই আভা;—হয়তো-বা পতঞ্জলি জানে।
    সোনায়-নিটোল-করা ডিম তার বিমর্ষ প্রসব।
    দুপুরে সূর্যের পানে বজ্রের মতন কলরব
    কন্ঠে তুলে ভেসে যায় অমেয় জলের অভিযানে।
    কেয়াফুলস্নিগ্ধ হাওয়া স্থির তুলা দণ্ড প্রদক্ষিণ
    ক’রে যায়;—লোকসমাগমহীন, হিম কান্তারের পার
    ক’রে নাকো ভীতি আর মরণের অর্থ প্রত্যাহারঃ
    তবুও হংসীর পাখা তুষারের কোলাহলে আঁধারে উড্ডীন।

    তবুও হংসীর প্রিয় আলোকসামান্য সুর, শূন্যতার থেকে আমি ফেঁশে
    এইখানে প্রান্তরের অন্ধকারে দাঁড়ায়েছি এসে;
    মধ্য নিশীথের এই আসন্ন তারকাদের সঙ্গ ভালোবেসে।
    মরঁখুটে ঘোড়া ওই ঘাস খায়,– ঘাড়ে তার ঘায়ের উপরে
    বিনবিনে ডাঁশগুলো শিশিরের মতো শব্দ করে।
    এই স্থান, হ্রদ আর, বরফের মতো শাদা ঘোড়াদের তরে
    ছিলো তবু একদিন? র’বে তবু একদিন? হে কালপুরুষ, ধ্রুব, স্বাতী, শতভিষা,
    উচ্ছৃঙ্খল প্রবাহের মতো যারা তাহাদের দিশা
    স্থির করে কর্ণধার?—ভূতকে নিরস্ত করে প্রশান্ত সরিষা।
    ভূপৃষ্ঠের অই দিকে—জানি আমি—আমার নতুন ব্যাবিলন
    উঠেছে অনেক দূর;—শোনা যায় কর্নিশে সিঙ্ঘের গর্জন।
    হয়তো-বা ধূলোসাৎ হ’ইয়ে গেছে এত রাতে ময়ূরবাহন।
     
  7. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এই দিকে বিকলাঙ্গ নদীটির থেকে পাঁচ-সাত ধনু দূরে
    মানুষ এখনও নীল , আদিম সাপুড়েঃ
    রক্ত আর মৃত্যু ছাড়া কিছু পার নাকো তারা খনিজ, অমূল্য মাটি খুঁড়ে।


    এই সব শেষ হ’ইয়ে যাবে তবু একদিন;—হয়তো-বা ক্রান্ত ইতিহাস
    শানিত সাপের মতো অন্ধকারে নিজেকে করেছে প্রায় গ্রাস।
    ক্রমে এক নিস্তব্ধতাঃ নীলাভ ঘাসের ফুলে সৃষ্টির বিন্যাস


    আমাদের হৃদয়কে ক্রমেই নীরব হ’তে বলে।
    যে-টেবিল শেষ্রাতে দোভাষীর—মাঝ্রাতে রাষ্ট্রভাষাভাষীর দখলে
    সেই সব বহু ভাষা শিখে তবু তারকার সন্তপ্ত অনলে


    হাতের আয়ুর রেখা আমাদের জ্বলে আজো ভৌতিক মুখের মতন;
    মাথার সকল চুল হ’য়ে যায় ধূসর—ধূসরতম শণ;
    লোষ্ট্র, আমি, জীব আর নক্ষত্র অনাদি বিবর্ণ বিবরণ
    বিদূষ্ক বামনের মতো হেসে একবার চায় শুধু হৃদয় জুড়াতে।
    ফুরফুরে আগুনের থান তবু কাঁচিছাঁটা জামার মতন মুক্ত হাতে
    তাহার নগ্নতা ঘিরে জ্ব’লে যায়—সে কোথাও পারে না দাঁড়াতে।


    নীলিমাকে যতদূর শান্ত নির্মল মনে হয়
    হয়তো-বা সে-রকম নেই তার মহানুভবতা।
    মানুষ বিশেষ-কিছু চায় এই পৃথিবীতে এসে
    অতীব গরিমাভরে ব’লে যায় কথা;
    যেন কোমো ইন্দ্রধনু পেয়ে গেলে খুশি হ’তো মন।
    পৃথিবীর ছোট-বড়ো দিনের ভিতর দিয়ে অবিরাম চ’লে
    অনেক মুহূর্ত আমি এ-রকম মনোভাব করেছি পোষণ।


    দেখেছি সে-সব দিনে নরকের আগুনের মতো অহরহ রক্তপাত;
    সে-আগুন নিভে গেলে সে-রকম মহৎ আঁধার,
    সে-আঁধারে দুহিতারা গেয়ে যায় নীলিমার গান;
    উঠে আসে প্রভাতের গোধূলির রক্তচ্ছটা-রঞ্জিত ভাঁড়।


    সে-আলোকে অরণ্যের সিংহকে ফিকে মরুভূমি মনে হয়;
    মধ্য সমুদ্রের রোল-মনে হয়—দয়াপরবশ;
    এরাও মহৎ—তবু মানুষের মহাপ্রতিভার মতো নয়।


    আজ এই শতাব্দীর পুনরায় সেই সব ভাস্বর আগুন
    কাজ ক’রে যায় যদি মানুষ ও মনীষী ও বৈহাসিক নিয়ে-
    সময়ের ইশারায় অগণন ছায়া-সৈনিকেরা
    আগুনের দেয়ালকে প্রতিষ্ঠিত করে যদি উনুনের অতলে দাঁড়িয়ে,


    দেওয়ালের ’পরে যদি বানর, শেয়াল, শনি, শকুনের ছায়ার জীবন
    জীবঙ্কে টিটকারি দিয়ে যায় আগুনের রঙ আরো বিভাসিত হ’লে-
    গর্ভাঙ্কে ও অঙ্কে কান কেটে-কেটে নাটকের হয় তবু শ্রুতিবিশোধন।
     
  8. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    প্রার্থনা
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    আমাদের প্রভু বীক্ষণ দাও : মরি নাকি মোরা মহাপৃথিবীর তরে?
    পিরামিড যারা গড়েছিলো একদিন—আর যারা ভাঙে—গড়ে;—
    মশাল যাহারা জ্বালায় যেমন জেঙ্গিস যদি হালে
    দাঁড়ায় মদির ছায়ার মতন—যত অগণন মগজের কাঁচা মালে;
    যে-সব ভ্রমণ শুরু হ’লো শুধু মার্কোপোলোর কালে,
    আকাশের দিকে তাকায়ে মোরাও বুঝেছি যে-সব জ্যোতি
    দেশলাইকাঠি নয় শুধু আর—কালপুরুষের গতি;
    ডিনামাইট দিয়ে পর্বত কাটা না-হ’লে কী করে চলে,—
    আমাদের প্রভু বিরতি দিয়ো না; লাখো-লাখো যুগ রতিবিহারের ঘরে
    মনোবীজ দাওঃ পিরামিড গড়ে—পিরামিড ভাঙে গড়ে।
     
  9. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    প্রেম অপ্রেমের কবিতা
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    নিরাশার খাতে ততোধিক লোক উৎসাহ বাঁচায়ে রেখেছে;
    অগ্নিপরীক্ষার মতো কেবলি সময় এসে দ’হে ফেলে দিতেছে সে-সব।
    তোমার মৃত্যুর পরে আগুনের একতিল বেশি অধিকার
    সিংহ মেষ কন্যা মীন করেছে প্রত্যক্ষ অনুভব।
    পৃথিবী ক্রমশ তার আগেকার ছবি
    বদলায়ে ফেলে দিয়ে তবুও পৃথিবী হ’য়ে আছে;
    অপরিচিতের মতো সমাজ সংসার শত্রু সবই
    পরিচিত বুনোনির মতো তবু হৃদয়ের কাছে
    ক্রমশই মনে হয় নিজ সজীবতা নিয়ে চমৎকার;
    আবর্তিত হ’য়ে যায় দানবের মায়াবলে তবুও সে-সব।
    তোমার মৃত্যুর পরে মনিবের একতিল বেশি অধিকার
    দীর্ঘ কালকেতু তুলে বাধা দিতে চেয়েছে রাসভ।


    তোমার প্রতিজ্ঞা ভেঙে ফেলে তুমি চ’লে গেলে কবে।
    সেই থেকে অন্য প্রকৃতির অনুভবে
    মাঝে-মাঝে উৎকন্ঠিত হ’য়ে জেগে উঠেছে হৃদয়।
    না-হ’লে নিরুৎসাহিত হ’তে হয়।
    জীবনের, মরণের, হেমন্তের এ-রকম আশ্চর্য নিয়ম;
    ছায়া হ’য়ে গেছো ব’লে তোমাকে এমন অসম্ভ্রম।


    শত্রুর অভাব নেই, বন্ধুও বিরল নয়—যদি কেঊ চায়;
    সেই নারী ঢের দিন আগে এই জীবনের থেকে চ’লে গেছে।
    ঢের দিন প্রকৃতি ও বইয়ের নিকট থেকে সদুত্তর চেয়ে
    হৃদয় ছায়ার সাথে চালাকি করছে।
    তারপর অনুভব ক’রে গেছে রমণীর ছায়া বা শরীর
    অথবা হৃদয়,-
    বেড়ালের বিকশিত হাসির মতন রাঙা গোধূলির মেঘে;
    প্রকৃতির প্রমাণের, জীবনের দ্বারস্থ দুঃখীর মতো নয়।


    তোমার সংকল্প থেকে খ’সে গিয়ে ঢের দূরে চ’লে গেলে তুমি;
    হ’লেও-বা হ’য়ে যেতো এ জীবনঃ দিনরাত্রির মতো মরুভুমি;-
    তবুও হেমন্তকাল এসে পড়ে পৃথিবীতে, এমন স্তব্ধতা;
    জীবনেও নেই কো অন্যথা
    হেমন্তের সহোদর র’য়ে গেছে, সব উত্তেজের প্রতি উদাসীন;
    সকলের কাছ থেকে সুস্থির মনের ভাবে নিয়ে আসে ঋণ,
    কাউকে দেয় না কিছু, এমনই কঠিন;
    সরল সে নয়, তবু ভয়াবহভাবে শাদা, সাধারণ কথা
    জনমানুষীর কাছে ব’লে যায়—এমনই নিয়ত সফলতা।

     
  10. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    বিভিন্ন কোরাস
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪) - কাব্যগ্রন্থ - জীবনানন্দ দাশ

    এক


    আমাদের হৃদয়ের নদীর উপর দিয়ে ধীরে
    এখনো যেতেছে চ’লে কয়েকটি শাদা রাজহাঁস;
    সহধর্মিনীর সাথে ঢের দিন—আরো ঢের দিন
    করেছি শান্তিতে বসবাস;


    দেখেছি সন্তানদের ময়দানে আলোর ভিতরে
    স্বতই ছড়ায়ে আছে—যেমন গুনেছি টায়-টায়;
    অদ্ভুত ভিড়ের দিকে চেয়ে থেকে দেখে গেছি জনতার মাথা
    গৃহদেবতাকে দেখে শৃঙ্গ শিলায়।


    নগরীর পিতামহদের ছবি দেয়ালে টাঙায়ে-
    টাঙায়েছি নগরীর পিতাদের ছবি;
    পরিক্রমণে গিয়ে সর্বদাই আমাদের বড়ো নগরীতে
    যাহাতে অমৃত হয় সে-রকম অর্থ, বাচক্লবী,


    প্রকাশে প্রয়াস পেয়ে গেছি মনে হয়;
    আমাদের নেয় যাহা নিয়ে গেছি তুলে;
    নটে গাছ মুড়ে গেছে ব’লে মনে হয়
    আমাদের বক্তব্য ফুরুলে।


    আবার সবুজ হ’য়ে জুয়ায়ে গিয়েছে
    আমাদের সন্তানের সন্তানের প্রয়োজন মতো।
    এ-রকম চক্রাকারে ঘুরে গিয়ে কাল
    সহসা খি চড়ে উঠে উচ্চরের মতন ফলত


    অন্য-কোনো জ্যামিতিক রেখা হ’তে পারে;
    অন্য-কোনো দার্শনিক মত-বিপ্লব;
    জেনে তবু মুর্খ আর রূপসীর ভয়াবহ সংগম এড়ায়ে
    স্থির হ’য়ে রবে নাকি সন্ততিরা, সন্ততির সন্ততিরা সব?


    যদি তারা টেঁশে যায় করাল কালের স্রোতে ধরা প’ড়ে গিয়ে,
    যদি এই অন্ধকার প্রাসাদের ভগ্ন-অবশেষে
    শেয়া প্যাঁচার দিকে চেয়ে কেঁদে যা,-
    তখন স্বপ্নই সত্য; গিয়েছে বস্তুর থেকে ফেঁশে


    জীবনের বাস্তবতা সে-সময়।
    মানুষের শেষ বংশ লোপ পেলে কে ফিরায়ে দেবে
    জীবনের বাস্তবতা?—এমন অদ্ভুত স্বপ্ন নিয়ে
    মাঝে-মাঝে গিয়েছি নাগাঢ় কথা ভেবে।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)