1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected জীবনানন্দ দাশের জীবনী ও তার লেখা কবিতাসমগ্র

Discussion in 'Collected' started by Tazul Islam, May 9, 2016. Replies: 298 | Views: 13604

  1. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    জীবনানন্দ দাশ
    [​IMG]
    জীবনানন্দ দাশ (জন্ম: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯, বরিশাল - মৃত্যু: ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪, বঙ্গাব্দ: ৬ ফাল্গুন, ১৩০৫ - ৫ কার্তিক, ১৩৬১) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি।

    তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অগ্রগণ্য। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে যখন তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কবিতে পরিণত হয়েছেন।

    জীবনানন্দের সাহিত্যিক জীবন বিকশিত হতে শুরু করে। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৫ এর জুনে মৃত্যুবরণ করলে জীবনানন্দ তার স্মরণে 'দেশবন্ধুর প্রয়াণে' নামক একটি কবিতা রচনা করেন, যা বঙ্গবাণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কবিতাটি পরবর্তীতে তার প্রথম কাব্য সংকলন ঝরা পালকে স্থান করে নেয়। কবিতাটি পড়ে কবি কালিদাস রায় মন্তব্য করেছিলেন, "এ কবিতাটি নিশ্চয়ই কোন প্রতিষ্ঠিত কবির ছদ্মনামে রচনা"। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দেই তার প্রথম প্রবন্ধ স্বর্গীয় কালীমোহন দাশের শ্রাদ্ধবাসরে প্রবন্ধটি ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার পরপর তিনটি সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ঐ বছরেই কল্লোল পত্রিকায় 'নীলিমা' কবিতাটি প্রকাশিত হলে তা অনেক তরুণ কাব্যসরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ধীরে ধীরে কলকাতা, ঢাকা এবং অন্যান্য জায়গার বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকায় তার লেখা ছাপা হতে থাকে; যার মধ্যে রয়েছে সে সময়কার সুবিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল, কালি ও কলম, প্রগতি প্রভৃতি। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক প্রকাশিত হয়। সে সময় থেকেই তিনি তার উপাধি 'দাশগুপ্তের' বদলে কেবল 'দাশ' লিখতে শুরু করেন।
     
    Latest Given Reputation Points:
    abdullah noman: 15 Points (বনলতা সেনের জন্যে সামান্য উপহার।) May 9, 2016
    mukul: 15 Points (জীবনানন্দ দাসের জন্য।) May 9, 2016
    • Winner Winner x 1
  2. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সম্ভবতঃ মা কুসুমকুমারী দেবীর প্রভাবেই ছেলেবেলায় পদ্য লিখতে শুরু করেন তিনি। ১৯১৯ সালে তাঁর লেখা একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা। কবিতাটির নাম বর্ষা আবাহন। এটি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার ১৩২৬ সনের বৈশাখ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। তখন তিনি শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে লিখতেন। ১৯২৭ সাল থেকে তিনি জীবনানন্দ দাশ নামে লিখতে শুরু করেন। ১৬ জুন ১৯২৫ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর লোকান্তর হলে তিনি 'দেশবন্ধুর প্রয়াণে' শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছিলেন যা বংগবাণী পত্রিকার ১৩৩২ সনের শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। তবে দীনেশরঞ্জন দাস সম্পাদিত কল্লোল পত্রিকায় ১৩৩২ (১৯২৬ খ্রি.) ফাল্গুন সংখ্যায় তাঁর নীলিমা শীর্ষক কবিতাটি প্রকাশিত হলে আধুনিক বাংলা কবিতার ভুবনে তার অন্নপ্রাশন হয়। জীবদ্দশায় তাঁর ৭টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশিত ঝরাপালক শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে তাঁর প্রকৃত কবিত্বশক্তি ফুটে ওঠেনি, বরং এতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মোহিতলাল মজুমদার ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রকট প্রভাব প্রত্যক্ষ হয়। তবে দ্রুত তিনি স্বকীয়তা অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ ব্যবধানে প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্য সংকলন ধূসর পান্ডুলিপি-তে তাঁর স্বকীয় কাব্য কৌশল পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। বাংলা সাহিত্যের ভূবনে তাঁর বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। শেষের দিককার কবিতায় অর্থনির্মলতার অভাব ছিল। সাতটি তারার তিমির প্রকাশিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুবোর্ধ্যতার অভিযোগ ওঠে। নিজ কবিতার অপমূল্যায়ন নিয়ে জীবনানন্দ খুব ভাবিত ছিলেন। তিনি নিজেই স্বীয় রচনার অর্থায়ন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন যদিও শেষাবধি তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে কবি নিজেই নিজ রচনার কড়া সমালোচক ছিলেন। তাই সাড়ে আট শত কবিতার বেশী কবিতা লিখলেও তিনি জীবদ্দশায় মাত্র ২৬২টি কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও কাব্যসংকলনে প্রকাশ করতে দিয়েছিলেন। এমনকি রূপসী বাংলার সম্পূর্ণ প্রস্তুত পাণ্ডুলিপি তোড়ঙ্গে মজুদ থাকলেও তা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি জীবনানন্দ দাশ। তবে তিনি এ কাব্যগ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন বাংলার ত্রস্ত নীলিমা যা তার মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত এবং রূপসী বাংলা প্রচ্ছদনামে প্রকাশিত হয়। আরেকটি পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয় মৃত্যু পরবর্তীকালে যা বেলা অবেলা কালবেলা নামে প্রকাশিত হয়। জীবদ্দশায় তার একমাত্র পরিচয় ছিল কবি। অর্থের প্রয়োজনে তিনি কিছু প্রবন্ধ লিখেছিলেন ও প্রকাশ করেছিলেন। তবে নিভৃতে গল্প এবং উপন্যাস লিখেছিলেন প্রচুর যার একটিও প্রকাশের ব্যবস্থা নেননি। এছাড়া ষাট-পয়ষট্টিরও বেশী খাতায় "লিটেরেরী নোটস" লিখেছিলেন যার অধিকাংশ এখনও (২০০৯) প্রকাশিত হয়নি।
     
  3. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলন ১৯৫২ খৃস্টাব্দে পরিবর্ধিত সিগনেট সংস্করণ বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থটি বাংলা ১৩৫৯-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বিবেচনায় পুরস্কৃত করা হয়। কবির মৃত্যুর পর ১৯৫৫ খৃস্টাব্দের ফেব্রুয়ারী মাসে জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৪) সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করে।

    কাব্যগ্রন্থ
    জীবনানন্দের কাব্যগ্রন্থসমূহের প্রকাশকাল সম্পর্কে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, কয়েকটি কাব্যগ্রন্থের একাধিক পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল। নিচে কেবল প্রথম প্রকাশনার বৎসর উল্লিখিত। মৃত্যু পরবর্তী প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ তারকা চিহ্নিত।
    ঝরা পালক (১৯২৭)
    ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
    বনলতা সেন (১৯৪২, কবিতাভবন সংস্করণ)
    মহাপৃথিবী (১৯৪৪)
    সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
    বনলতা সেন (১৯৫২, সিগনেট প্রেস সংস্করণ)
    জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৪)
    রূপসী বাংলা (১৯৫৭)*
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১)*
    সুদর্শনা (১৯৭৪)*
    আলো পৃথিবী (১৯৮১) *
    মনোবিহঙ্গম*
    অপ্রকাশিত একান্ন (১৯৯৯) *
     
  4. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    পথহাঁটা
    - জীবনানন্দ দাশ---বনলতা সেন


    কী এক ইশারা যেন মনে রেখে একা একা শহরের পথ থেকে পথে
    অনেক হেঁটেছি আমি; অনেক দেখেছি আমি ট্রাম-বাস সব ঠিক চলে;
    তারপর পথ ছেড়ে শান্ত হয়ে চলে যায় তাহাদের ঘুমের জগতে:
    সারারাত গ্যাস লাইট আপনার কাজ বুঝে ভালো করে জ্বলে।
    কেউ ভুল করে নাকো-ইঁট বাড়ি সাইনবোর্ড জানালা কপাট ছাদ সব
    চুপ হয়ে ঘুমাবার প্রয়োজন বোধ করে আকাশের তলে।
    একা একা পথ হেঁটে এদের গভীর শান্তি হৃদয়ে করেছি অনুভব;
    তখন অনেক রাত-তখন অনেক তারা মনুমেন্ট মিনারের মাথা
    নির্জনে ঘিরেছে এসে;-মনে হয় কোনোদিন এর চেয়ে সহজ সম্ভব
    আর কিছু দেখেছি কি: একরাশ তারা আর মনুমেন্ট ভরা কলকাতা?
    চোখ নিচে নেমে যায়-চুরুট নীরবে জ্বলে-বাতাসে অনেক ধুলো খড়;
    চোখ বুজে একপাশে সরে যাই-গাছ থেকে অনেক বাদামি জীর্ণ পাতা
    উড়ে গেছে; বেবিলনে একা একা এমনই হেঁটেছি আমি রাতের ভিতর
    কেন যেন; আজো আমি জানি নাকো হাজার হাজার ব্যস্ত বছরের পর।
     
  5. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অঘ্রান প্রান্তরে
    - জীবনানন্দ দাশ---বনলতা সেন


    ‘জানি আমি তোমার দু’চোখ আজ আমাকে খোঁজে না
    আর পৃথিবীর’ পরে-’
    বলে চুপে থামলাম, কেবলি অশত্থ পাতা পড়ে আছে ঘাসের ভিতরে
    শুকনো মিয়োনো ছেঁড়া;- অঘ্রান এসেছে আজ পৃথিবীর বনে;
    সে সবের ঢের আগে আমাদের দুজনের মনে
    হেমন্ত এসেছে তবু; বললে সে, ‘ঘাসের ওপরে সব বিছানো পাতার
    মুখে এই নিস্তব্ধতা কেমন যে-সন্ধ্যার আবছা অন্ধকার
    ছড়িয়ে পড়েছে জলে’; কিছুক্ষণ অঘ্রাণের অস্পষ্ট জগতে
    হাঁটলাম, চিল উড়ে চলে গেছে-কুয়াশার প্রান্তরের পথে
    দুএকটা সজারুর আসা-যাওয়া; উচ্ছল কলার ঝাড়ে উড়ে
    চুপে সন্ধ্যার বাতাসে
    লক্ষ্মীপেঁচা হিজলের ফাঁক দিয়ে বাবলার আঁধার গলিতে নেমে আসে;
    আমাদের জীবনের অনেক অতীত ব্যাপ্তি আজো যেন
    লেগে আছে বহতা পাখায়
    ওইসব পাখিদের; ওইসব দূর দূর ধানক্ষেতে, ছাতকুড়ো-মাখা
    ক্লান্ত জামের শাখায়;
    নীলচে ঘাসের ফুলে ফড়িঙের হৃদয়ের মতো নীরবতা
    ছড়িয়ে রয়েছে এই প্রান্তরে বুকে আজ ...হেঁটে চলি... আজ কোনো কথা
    নেই আর আমাদের; মাঠের কিনারে ঢের ঝরা ঝাউফল
    পড়ে আছে; খড়কুটো উড়ে এসে লেগে আছে শড়ির ভিতরে,
    সজনে পাতার গুঁড়ি চুলে বেঁধে গিয়ে নড়েচড়ে;
    পতঙ্গ পালক্ জল-চারিদিকে সূর্যের উজ্জ্বলতা নাশ;
    আলেয়ার মতো ওই ধানগুলো নড়ে শূন্যে কী রকম অবাধ আকাশ
    হয়ে যায়; সময়ও অপার-তাকে প্রেম আশা চেতনার কণা
    ধরে আছে বলে সে-ও সনাতন;-কিন্তু এই ব্যর্থ ধারণা
    সরিয়ে মেয়েটি তাঁর আঁচলের চোরাকাঁটা বেছে
    প্রান্তর নক্ষত্র নদী আকাশের থেকে সরে গেছে
    যেই স্পষ্ট নির্লিপ্তিতে-তাই-ই ঠিক;-ওখানে সিগ্ধ হয় সব।
    অপ্রেমে বা প্রেমে নয়- নিখিলের বৃক্ষ নিজ বিকাশে নীরব।
     
  6. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সুচেতনা
    - জীবনানন্দ দাশ---বনলতা সেন


    সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
    বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
    সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
    নির্জনতা আছে।
    এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
    সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।
    কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে;
    তবুও তোমার কাছে আমার হৃদয়।
    আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রের ঘুরে প্রাণ
    পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
    ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু,
    দেখেছি আমারি হাতে হয়তো নিহত
    ভাই বোন বন্ধু পরিজন পড়ে আছে;
    পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
    মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।
    কেবলি জাহাজ এসে আমাদের বন্দরের রোদে
    দেখেছি ফসল নিয়ে উপনীত হয়;
    সেই শস্য অগণন মানুষের শব;
    শব থেকে উৎসারিত স্বর্ণের বিস্ময়
    আমাদের পিতা বুদ্ধ কনফুশিয়াসের মতো আমাদেরো প্রাণ
    মূক করে রাখে; তবু চারিদকে রক্তক্লান্ত কাজের আহ্বান।
    সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে — এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
    সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;
    এ বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;–
    প্রায় তত দূর ভালো মানবসমাজ
    আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
    গড়ে দেব আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।
    মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,
    না এলেই ভালো হত অনুভব করে;
    এসে যে গভীরতর লাভ হল সে সব বুঝেছি
    শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;
    দেখেছি যা হল হবে মানুষের যা হবার নয়–
    শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।
     
  7. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সবিতা
    - জীবনানন্দ দাশ---বনলতা সেন


    সবিতা, মানুষজন্ম আমরা পেয়েছি
    মনে হয় কোনো এক বসন্তের রাতে:
    ভূমধ্যসাগর ঘিরে সেই সব জাতি,
    তাহাদের সাথে
    সিন্ধুর আঁধার পথে করেছি গুঞ্জন;
    মনে পড়ে নিবিড় মেরুন আলো, মুক্তার শিকারী,
    রেশম, মদের সার্থবাহ,
    দুধের মতন শাদা নারী।
    অন্তত রৌদ্রের থেকে তারা
    শাশ্বত রাত্রির দিকে তবে
    সহসা বিকেলবেলা শেষ হয়ে গেলে
    চলে যেত কেমন নীরবে।
    চারি দিকে ছায়া ঘুম সপ্তর্ষি নক্ষত্র;
    মধ্যযুগের অবসান
    স্থির করে দিতে গিয়ে ইউরোপ গ্রীস
    হতেছে উজ্জ্বল খৃষ্টান।
    তবুও অতীত থেকে উঠে এসে তুমি আমি ওরা–
    সিন্ধুর রাত্রির জল জানে–
    আধেক যেতাম নব পৃথিবীর দিকে;
    কেমন অনন্যোপায় হাওয়ার আহ্বানে
    আমরা অকূল হয়ে উঠে
    মানুষকে মানুষের প্রয়াসকে শ্রদ্ধা করা হবে
    জেনে তবু পৃথিবীর মৃত সভ্যতায়
    যেতাম তো সাগরের স্নিগ্ধ কলরবে।
    এখন অপর আলো পৃথিবীতে জ্বলে;
    কী এক অপব্যয়ী অক্লান্ত আগুন!
    তোমার নিবিড় কালো চুলের ভিতরে
    কবেকার সমুদ্রের নুন;
    তোমার মুখের রেখা আজো
    মৃত কত পৌত্তলিক খৃষ্টান সিন্ধুর
    অন্ধকার থেকে এসে নব সূর্যে জাগার মতন;
    কত আছে — তবু কত দূরে।
     
  8. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মিতাভাষণ
    - জীবনানন্দ দাশ---বনলতা সেন


    তোমার সৌন্দর্য নারী, অতীতের দানের মতন।
    মধ্যসাগরের কালো তরঙ্গের থেকে
    ধর্মাশোকের স্পষ্ট আহ্বানের মতো
    আমাদের নিয়ে যায় ডেকে
    শান্তির সঙ্ঘের দিকে — ধর্মে — নির্বাণে;
    তোমার মুখের স্নিগ্ধ প্রতিভার পানে।
    অনেক সমুদ্র ঘুরে ক্ষয়ে অন্ধকারে
    দেখেছি মণিকা-আলো হাতে নিয়ে তুমি
    সময়ের শতকের মৃত্যু হলে তবু
    দাঁড়িয়ে রয়েছে শ্রেয়তর বেলাভূমি:
    যা হয়েছে যা হতেছে এখুনি যা হবে
    তার স্নিগ্ধ মালতী-সৌরভে।
    মানুষের সভ্যতার মর্মে ক্লান্তি আসে;
    বড়ো বড়ো নগরীর বুকভরা ব্যথা;
    ক্রমেই হারিয়ে ফেলে তারা সব সঙ্কল্প স্বপ্নের
    উদ্যমের অমূল্য স্পষ্টতা।
    তবুও নদীর মানে স্নিগ্ধ শুশ্রূষার জল, সূর্য মানে আলো :
    এখনো নারী মানে তুমি, কত রাধিকা ফুরালো।
     
    • Like Like x 1
  9. abdullah noman
    Offline

    abdullah noman Senior Member Member

    Joined:
    Sep 15, 2013
    Messages:
    1,885
    Likes Received:
    379
    Gender:
    Male
    Location:
    চট্টগ্রাম
    Reputation:
    416
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    দামী শেয়ার। ধন্যবাদ।
     
  10. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    স্বাগতম মামা, পোস্টটি চলবে ।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)