1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected ঈদের ছুটিতে যেসব স্থানে ঘুরে আসতে পারেন (এক্সক্লুসিভ)

Discussion in 'Collected' started by kaium, Aug 18, 2012. Replies: 13 | Views: 3877

?

কেমন লেগেছে?

  1. ভাল লাগেনি

    0 vote(s)
    0.0%
  2. ভাল লেগেছে

    100.0%
Multiple votes are allowed.
  1. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সবাইকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। পবিত্র রমজান এর দীর্ঘ একটী মাস এখন শেষের দিকে, আর এই পবিত্র সময়ের বিদায় ধ্বনি যদিও কিছুটা ব্যাথিত করছে কিন্তু সাথে সাথে নিয়ে আসছে এক অনাবিল আনন্দের সম্মোহিত সোনালী ভোর। আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সারাটা বছর ঘুরে এমন দুটি ঈদ আসে আমাদের প্রিয়জনের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিয়ে অনেক দিনের ব্যবধানে।
    সব ব্যস্ততাকে দিলাম ছুটি​
    হলাম আত্তহারা​
    ঈদের খুশি ঝড় হয়ে​
    দিয়েছে হৃদয় নাড়া।​
    সব ভুলে লুকিয়ে রেখে​
    ফুটিয়ে তুলি হাসি​
    হৃদয়ে হৃদয়ে ধ্বনিত হয়​
    শুধুই ভালোবাসি।​
    ঈদের ছুটিতে হাসির জুটিতে​
    সবাই ঘুরতে যাও​
    তার আগে এই স্থান গুলো​
    একবার দেখে নাও…..​
    হুমায়ুন স্যার এর নুহাশ পল্লী

    [​IMG]

    কি ভালো লাগছে? [​IMG]

    [​IMG]

    সবুজের মাঝে লাল সুরকি বিছানো রাস্তা, তার একপাশে একটু দূরে দুরে দুটো কটেজ। এর পাশে জবা ফুলের গাছে ঘেরা খুব সুন্দর সুইমিং পুল আছে। বড় বড় গ্লাসের জানালা ওয়ালা কটেজের রুম গুলো বেশ সুন্দর করে গোছানো। সারা বাড়ি জুড়ে হুমায়ুন আহমেদের বর্তমান সংসার জীবনের জীবনের নানা চিহ্ন ছড়ানো। এখানে একটি ঘরে হুমায়ুন আহমেদের এ পর্যন্ত যত বই বের হয়েছে, তার সবগুলোর একটি সংগ্রহ রক্ষিত আছে। বইপ্রেমিদের জন্য লোভনীয় খবর হলেও এই ঘরে সবার প্রবেশাধিকার নেই। দুই কটজের মাঝে র‌য়েছে ছোট্ট একটি ছায়া ঘেরা পদ্ম পুকুর।
    নুহাশ পল্লী প্রধান ফটক পেরোলেই চোখে পরবে কাঁচা সবুজ গালিচা খুব যত্ন করে কাটা দুবা ঘাসগুলো দেখে আপনি চমকে যাবেন। এত গাঢ় সবুজ সবসময় চোখে পড়েনা। শুরুতেই ডান পাশে একটি সুদৃশ্য স্ট্যাচু রয়েছে। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন স্ট্যচু তে একজন মা তার ছেলে কে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। বিরাট সবুজ মাঠের এক পাশ থেকে অন্য পাশ পর্যন্ত লম্বা খাঁচায় রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। মাঠের দুই পাশে স্থানে স্থানে রয়েছে ছোট ছোট জলাধার। সেখানে পদ্ম, শাপলা সহ রয়েছে আরো অনেক জলজ ফুল। একটু এগোলেই ডান পাশে মাটির তৈরী একটি বাড়ি রয়েছে।
    সবুজ মাঠ পেরিয়েই চোখে পরবে ঔষধী উদ্যান। ঔষধী গাছের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। প্রত্যেকটি গাছের গায়ে প্লেটে নাম লেখা রয়েছে, আর তাই গাছ চেনা যাবে সহজেই। রয়েছে অসংখ্য জাতের ফলের গাছ। বিভিন্ন জাতের ক্যকটাসের দেখা মিলবে এখানে। ঐতিহাসিক প্রানী ডাইনোসরের দেখাও মিলে যাবে। ডাউনোসরের অনেকগুলো স্ট্যচু রয়েছে এখানে। এখানে একটি কাচেঁর ঘরে খুব বড় একটি ক্যকটাস রাখা আছে। নাম - হাড়জোড়া, দেখে মনে হয় হাড়ের মতো করে একটির সাথে আরেকটি কে জোড়া দেয়া হয়েছে। ঔষধী উদ্যানের পাশেই রয়েছে হুমায়ুন আহমেদের এক জন্মদিনে “অন্যদিন” পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া হুমায়ুন আহমেদের একটি পাথরের স্ট্যাচু। উদ্যানের অন্য পাশে রয়েছে হাঁস-মুরগী ও গরুর খামার। উদ্যানটির পুর্ব দিকে রয়েছে খেজুর বাগান। বাগানের এক পাশে “বৃষ্টি বিলাস” নমে অত্যাধুনিক একটি বাড়ি রয়েছে। বৃষ্টির রংঙ্গের বাড়িটির সামনে পাতা আছে অনেকগুলো দোলনা। ইচ্ছে করেলে একটু দুলতে পারেন।
    নুহাশ পল্লীর অত্যন্ত সৌন্দর্যবহুল আর একটি স্থান “দিঘি লীলাবতী”, যার অবস্থান ঔষধী উদ্যানের পুর্ব পাশে। একটি দিঘিকে নারিকেল গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। রয়েছে সানবাধানো ঘাট। পুকুরের মাঝখানে একটি দ্বিপে অনেকগুলো নরিকেল গাছ আছে। নারিকেল গাছের নিচে কাঠের মাচা পাতা আছে। মৃদু বাতাসে নারিকেল গাছের নিচের এই মাচায় একটু সময় না কাটিয়ে আপনি যেতে পারবেন না ।

    যাতায়াতঃ
    ঢাকা থেকে গাজীপুর, হোতাপাড়া খতিব বাড়ী শ্যূটিয় স্পট এর রাস্তা ধরে শেষ মাথায় হুমায়ুন আহমেদের এই নুহাশ পল্লী । হুমায়ুন আহমেদ বা মেহের আফরোজ শাওন এর অনুমতি নিতে পারলে আপনি নুহাশ পল্লীর ভিতরের কটেজেই থাকতে পারবেন।

    যোগাযোগঃ
    ম্যানেজার বুলবুল : ০১৭১২০৬০৯৭১
     
    • Like Like x 1
  2. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁও

    [​IMG]

    এই অসাধারন স্থাপত্য টি নিজ চোখে দেখবেন না ?
    [​IMG]

    নির্মল এই জলে পা ভিজিয়ে বসে থাকতে পারেন।

    সোনারগাঁও বাংলার মুসলিম শাসকদের অধীনে পূর্ববঙ্গের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র। এটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। এর অবস্থান ঢাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। মনোমুগ্ধকর বাংলার প্রাচীন রাজধানী গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত সোনারগাঁও জাদুঘর। ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত এই আকর্ষণীয় পিকনিক স্পটটি । এখানকার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিশাল চত্বরে রয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট।

    [​IMG]

    দারুন লেকটিতে নৌকা ভাসাতে পারেন প্রিয়জনের সাথে।
    জাদুঘর কমপ্লেক্সঃ
    লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভেতরে রয়েছে প্রধান ফটকে দুজন অশ্বারোহী, গরুর গাড়ির ভাস্কর্য, লাইব্রেরি ও ডকুমেন্টেশন সেন্টার, সদ্য নির্মিত জয়নুলের আবক্ষ ভাস্কর্য, ক্যান্টিন, লোকজ রেস্তোরাঁ, সেমিনার হল, ডাকবাংলো, কারুশিল্প গ্রাম, কারুপলৱ্লী, জামদানি ঘর, কারুমঞ্চ, কারুব্রিজ, মৃৎশিল্পের বিক্রয়কেন্দ্র, গ্রামীণ উদ্যান, আঁকাবাঁকা দৃষ্টিনন্দন লেক, বড়শিতে মাছ শিকার. নৌকায় ভ্রমণ ও বনজ, ফলদ, ঔষধিসহ শোভাবর্ধন প্রজাতির বাহারি বৃক্ষরাজি।
    কারুশিল্প গ্রামঃ
    কারুশিল্প গ্রামে বৈচিত্র্যময় লোকজ স্থাপত্য গঠনে বিভিন্ন ঘরে কারুশিল্প উৎপাদন, প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয় মোটিফে তৈরি এ ঘরগুলোয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীরা বাঁশ-বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎশিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুশিল্প উৎপাদন, প্রদর্শনী ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জাদুঘরের অভ্যন্তরে আরো রয়েছে বিনোদন ব্যবস্থার জন্য স্থায়ী পিকনিক স্পট, স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী নির্মিত আঁকাবাঁকা মনোরম লেক।
    পিকনিক স্পটঃ
    ফাউন্ডেশনের প্রবেশ পথের সামনেই আগত পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির প্রয়াসে আম, লিচু, পাম, নারিকেল, মেহগনি ও গুবাকতরুর সারির শ্যামল, স্নিগ্ধ, হৃদয় জুড়ানো নিরিবিলি পরিবেশে নির্মাণ করা হয়েছে ঐতিহ্য নামের বিনোদন স্পট। এ স্পট স্বস্তিকর ও আনন্দদায়ক বিনোদনে দেশের ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করবে। এ স্পট ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ফি রয়েছে। এছাড়া ফাউন্ডেশনের প্রধান প্রবেশ গেটের আশপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিনোদন স্পট ও বিলাসবহুল সোনারগাঁ মিনি চায়নিজ রেস্তোরাঁ।
    জয়নুলের ভাস্কর্যঃ
    ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সবুজ চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আবক্ষ ভাস্কর্য। শিল্পী শ্যামল চৌধুরী ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। সম্প্রতি এ ভাস্কর্যটির ফলক উন্মোচন করা হয়েছে।
    যাতায়াতঃ
    ঢাকা থেকে সরাসরি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (জাদুঘরে) আসা যায়, যদি আপনি নিজস্ব প্রাইভেট কার নিয়ে আসেন। আপনি যদি বাসে আসতে চান তাহলে গুলিস্তান থেকে ‘স্বদেশ, বোরাক ও সোনারগাঁ সুপার সার্ভিস’ নামে বাস সার্ভিসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় এসে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকশাযোগে সোনারগাঁ জাদুঘরে যেতে হবে। মোগড়াপারা বাসষ্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২কি:মি: অভ্যন্তরে সোনারগাঁ যাদুঘরের অবস্থান এবং এর সাথেই রয়েছে পানাম নগরী। বাস, মিনিবাস বেবি-ট্যক্সি, মোটরছাইকেলসহ যে কোন বাহনেই এখানে আসা যায়। যাদুঘরের গেটেই রয়েছে সকল প্রকার যানবাহনের নিরাপদ র্পাকিং স্থান।

    এখানে বনভোজনের পাশাপাশি দেখে আসতে পারেন বাংলার ঐতিহাসিক নানান স্মৃতি। এখানকার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন যাদুঘর, ঐতিহাসিক পানাম নগর , গোয়ালদী মসজিদ, গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার ছাড়াও আরো অনেক ঐতিহাসিক জায়গা দেখে আসতে পারেন। বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনার গায়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতি সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবেন অল্প সময়ে। নদী-নালা, খাল-বিল পরিবেষ্টিত এবং অসংখ্য গাছপালা সবুজের সমারোহ আপনাকে সহজেই আকৃষ্ট করবে। আর এজন্য দূরের ভ্রমন পিপাসু মানুষ, স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং বিদেশী পর্যটকরা প্রতিনিয়ত আসছে। ঈশা খাঁর বাড়ীটি অসাধারন স্থাপত্যশীল আর মধ্যযুগে পানাম নগরী আপনাকে কিছু্‌ক্ষনের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে ব্যস্ততা, দুঃখ, বেদনা।
     
    • Like Like x 1
  3. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    পরিকুন্ড জলপ্রপাত

    সবুজে আবৃত আর পাহাড়ে ঘেরা পরিকুন্ড জলপ্রপাতটি সিলেট বিভাগের মৌলবিবাজার জেলায় অবস্থিত। মাধবকুন্ড জলপ্রপাত হতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট হাটার পথ। তার পরেই পেয়ে যাবেন নিরবে নিভৃতে ঝরে পরা এই দৃষ্টিনন্দন ঝর্নাটি। তেমন কোন পর্যটক এখানে যায় না বলে ঝর্না এলাকাটি নিরবই থাক সারা বছর।

    বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালায় আচ্ছাদিত হয়ে আছে ঝর্নার চারিপাশ, যেন সবুজের মেলা বসেছে এখানে। আর ঝর্নার ঝরে পড়ার শো শো শব্ধ সে মেলাকে দিয়ে ভিন্ন সুর। ঝর্নার শব্ধ আর পাখির কলতানই এখানে কেবল এখানে নিশব্ধতার ঘুম ভাঙ্গায়। প্রায় ১৫০ ফুট উচু হতে পাথরের খাড়া পাহাড় বেয়ে শোঁ শোঁ শব্দ করে জলধারা নিচে আছড়ে পড়ছে। নিচে বিছানো পাথেরের আঘাতে পানির জলকনা বাতাসে উড়ে উড়ে তৈরি করছে কুয়াশা।
    মাধবকুন্ড ঝর্নার ঠিক আগে বাঁ হাতে একটি শিব মন্দির রেয়েছে। এর বিপরীত দিকে একটি রাস্তার পাশে নতুন একটি সিড়ি হয়েছে। ঐ সিড়ি ধরে নেমে গেলে মাধবকুন্ড ঝর্না হতে বয়ে আসা পানির ছড়া। আর ওই ছড়াটির সোজাসুজি পাথর বিছানো ছড়া দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাটলেই পরিকুন্ড জলপ্রপাত। পথ চিনতে কষ্ট হলে স্থানীয় লোকজন কিংবা পর্যটন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলে আপনাকে যাবার পথ বলে দিবে।
    মাধবকুন্ড হতে পরিকুন্ড আসার পথটা একটু পাথুরে ও জলময়। তবে ভয়ের কিছু নেই, কেবল পায়ের পাতাই ভিজবে। আপনাকে হাঁটতে হবে ছড়া বরাবর। পুরোটা ছড়া পাথর বিছানো। পাথরগুলো সবসময় ভিজে থাকে বলে বেশ পিচ্ছিল। তাই সাবধানে হাটতে হবে। যারা মাধবকুন্ড বেড়াতে যেতে চান তাদের জন্য এটি একটি বাড়তি পাওয়া। খুব অল্প বিস্তর লোক এখানে ঘুরতে যায়। আপনিও হতে পারেন তাদের একজন।
     
    • Like Like x 1
  4. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    বিরিশিরি
    বিরিশিরি পরিচিতিঃ
    বিরিশিরি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর থানার ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। ইংরেজ শাসন আমলে স্থাপিত শত বছরের পুরনো বয়েজ ও গালর্স হাই স্কুল, সরকারী কালচারাল একাডেমী, সুমেশ্বরী নদী, সাগর দিঘী, দূর্গাপুর রাজবাড়ী, পুরাকীর্তি নিদর্শন মঠগড়, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ আর দর্শনীয় স্খানগুলোর কারনে পর্যটকদের কাছে এটির যথেষ্ট সুনাম আছে। এখানে নদী এবং পাহাড়ের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।
    দর্শনীয় স্থানঃ
    ১) বিজয়পুর চীনামাটির খনি
    ২) রানীখং গীর্জা
    ৩) কালচারাল একাডেমী
    ৪) সমশ্বরী নদী
    ৫) সাগর দিঘী
    বিজয়পুরঃ
    বিরিশিরির মূল আকর্ষণ বিজয়পুর চীনামাটির খনি। ছোট বড় টিলা-পাহাড় ও সমতল ভূমি জুড়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০০ মিটার প্রস্থ এই খনিজ অঞ্চল। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ১৯৫৭ সালে এই অঞ্চলে সাদামাটির পরিমাণ ধরা হয় ২৪ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন, যা বাংলাদেশের ৩শ বৎসরের চাহিদা পুরণ করতে পারে।
    চীনামাটির পাহাড় গুলো সাদা রং এর। কিছু কিছু জায়গায় মেরুন বা হালকা লাল রঙ বিদ্যমান। পাহাড় থেকে মাটি তোলায় সেখানে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। বেশির ভাগ হ্রদ্রের পানির রঙ নীল। কিছু কিছু জায়গায় সবুজাভ নীল। কিছু জায়গায় সাদা, কিছু জায়গায় লাল। তবে হ্রদ থেকে পানি তুলে খনন করার জন্য লাল পানি এখন আর নেই। হ্রদের উপড় পাহাড় চূড়ায় কিছুক্ষণ জিড়িয়ে নিতে দারুন লাগবে। বিজয়পুর এর ট্যুরিষ্ট সিজন শীতকাল। তখন পানি গাঢ় নীল থাকে।

    রানীখং মিশনঃ
    দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তে সোমেশ্বরী নদীর কোল ঘেঁষেই রানীখং মিশনটি একটি উচু পাহাড়ে অবস্থিত। ১৯১০ সালে এ রাণীখং মিশনটি স্থাপিত হয়। যেখান থেকে প্রকৃতিকে আরও নিবিড়ভাবে উপভোগ করা যায়।

    কালচারাল একাডেমি:
    বিরিশিরি কালচারাল একাডেমিতে উপজাতীয় সংস্কৃতি চর্চা করা হয়। এখানে প্রতি বছর উপজাতীয়দের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর জনসমাগম হয়।

    কমলা রাণী দিঘীবিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই কমলা রাণী দিঘী। এই কমলা রাণী দিঘী সাগর দিঘী নামেও পরিচিত। দিঘীটি পুরোপুরি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও এর দক্ষিণ পশ্চিম পাড় এখনও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে।

    যাতায়াতঃ
    ঢাকার মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি বিরিশিরির বাস পাবেন। ভাড়া ২০০ টাকা। বিরিশিরির বাস বলা হলেও সমেশ্বরী ব্রীজ এর কাজ শেষ না হওয়ার কারণে বাস থেকে নামতে হবে সুখনগরীতে। সেখানে ২ টাকা দিয়ে নৌকায় ছোট নদী পাড় হয়ে ওপাড় থেকে মোটর সাইকেল, রিক্সা, টেম্পু, বাসে দুর্গাপুর যেতে হবে। রাস্তা এক কথায় জঘন্য। এজন্য মোটর সাইকেলই সুবিধা জনক। ভাড়া নিবে ২ জন এর জন্য মোটর সাইকেল ১০০ টাকা, রিক্সা ৮০-১০০ টাকা, টেম্পু/বাস জনপ্রতি ২০ টাকা।
    থাকার ব্যবস্থাঃ
    সব চেয়ে ভালো থাকার জায়গা YWCA রেষ্ট হাউজ। বেশ সুন্দর, ছিমছাম, গোছানো। ২ টা সিঙ্গেল বেড এর রুম ভাড়া ৬০০ টাকা। ২ টা ডাবল বেড এর রুম ১০০০ টাকা, এছাড়া ৭ জন এর থাকার জন্য বড় রুম আছে। জনপ্রতি ২০০ টাকা। কাছাকাছি প্রায় একই মানের YMCA এর রেষ্ট হাউজ, কালচারাল একাডেমির নিজস্ব রেস্ট হাউজ ও জেলা পরিষদ ডাক বাংলো। এছাড়াও কম খরচের হোটেল স্বর্ণা আছে। এছাড়াও বেশ কিছু কম দামি হোটেল রয়েছে। YWCA/YMCA তে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। খাওয়ার জন্য একটু হেটে বাজারে যেতে হবে।
    উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী গেষ্ট হাউজ।
    ফোনঃ 09525-56042; মোবাইলঃ 01815482006
    জেলা পরিষদ ডাক বাংলা
    মোবাইলঃ 01558380383, 01725571795
    YMCA গেষ্ট হাউজ
    মোবাইলঃ 01818613496, 01716277637, 01731039769
    YWCA গেষ্ট হাউজ
    মোবাইলঃ 01711027901, 01712042916
    হোটেল গুলশান: 01711150807, স্বর্ণা গেষ্ট হাউজ: 01712284698
     
    • Like Like x 1
  5. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    পুঠিয়া রাজবাড়ী
    রাজশাহী শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার এবং রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে ও পুঠিয়া বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে দ্বিতল বিশিষ্ট আয়তাকার পরিকল্পনায় নির্মিত পুঠিয়া রাজবাড়িটি একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিতক স্থাপনা।​
    একটি দোতলা বিল্ডিং।বেশ উঁচু ও বড়। রাজবাড়ীর থামগুলোও অনেক মোটা। রাজবাড়ীর সামনে বিশাল মাঠ, দুই দিকে দুটি বিশাল দিঘি। রাজবাড়ীর দরজা বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সামনে মাঠের ওপারে উত্তর দিকে চোখে পড়ে একটি বিশাল আকৃতির চার থাকবিশিষ্ট পিরামিডের আকৃতির বিশাল একটি মন্দির। সেটিকে বলা হয় দোলমঞ্চ। মূল ভবনে প্রবেশপথের দুই দিকে অর্থাৎ পূর্ব-পশ্চিমে ভবনটি মোটামুটি সমানভাবে বিস্তৃত। ভবনটির সামনে চওড়া একটা বারান্দা। মাঝখানে বিশাল থাম ধরে আছে ব্যালকনি ও ছাদ। পুরো ভবনটির দেয়ালজুড়ে নানা রকম নকশার কারুকাজ এখনো মনোমুগ্ধকর। প্রাসাদের মূল দরজাটিও বিশাল।
    পুঠিয়া গোবিন্দ মন্দির
    পুঠিয়া পাঁচআনী জমিদার বাড়ীর অঙ্গনে অবস্থিত গোবিন্দ মন্দির। গোবিন্দ মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি। উঁচু বেদীর উপর প্রতিষ্ঠিত মন্দিরটি বর্গাকার পরিকল্পনায় নির্মিত। মন্দির গাত্রে অসংখ্য পোড়ামাটির ফলক চিত্র আছে। রামায়ন, মহাভারত ও পৌরাণিক কাহিনীর রুপায়ন ছাড়াও ফলক চিত্রের মাধ্যমে প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। এই মন্দিরটি ১৮ শতকে নির্মিত বলে ধারণা করা হয় ।​
    পুঠিয়া দোল মন্দিরঃ
    পুঠিয়া রাজবাড়ীর সম্মুখস্থল মাঠের উভয় পার্শ্বে বর্গাকার পরিকল্পনায় নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট মন্দিরে প্রত্যেক বাহুর পরিমাপ ২১.৫৪ মিটার। ইষ্ট চুন ও সুড়কীর তৈরী দোল মঞ্চ মন্দিরটি ক্রমশঃ ছোট থাকে থাকে উপরে উঠে গেছে। চতুর্থ তলের উপরে আছে মন্দিরের গমবুজ আকৃতির চূড়া। চূড়ার শীর্ষদেশে ফিনিয়েল দ্বারা শোভিত। প্রত্যেক তলের চারদিকে প্রশসত টানা বারান্দা আছে। নীচতলায় প্রত্যেক বাহুতে সাতটি করে দ্বিতলের পাঁচটি, ত্রিতলের তিনটি এবং চতুর্থ তলের প্রত্যেক বাহুতে একটি করে প্রবেশ পথ আছে। পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমি থেকে এ মন্দিরের উচ্চতা ২০ মিটার। মন্দিরটি উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে পুঠিয়ার পাঁচআনী জমিদার বাড়ীর হেমন্ত কুমারী দেবী কর্তৃক নির্মিত।​
    বড় আহ্নিক মন্দির
    পুঠিয়া রাজবাড়ী লেকের প্রায় ১০০ মিটার পশ্চিমে জমিদার বাড়ীর বৃহৎ দিঘীর পশ্চিম পার্শ্বে পাশাপাশি তিনটি মন্দির আছে। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত মন্দিরটি চারআনী বড় আহ্নিক নামে পরিচিত। উত্তর দক্ষিণে লম্বা আয়তকার পরিকল্পনায় নির্মিত তিন কক্ষ বিশিষ্ট মন্দিরের প্রবেশ পথ পূর্বদিকে অবস্থিত। এই মন্দিরের মাঝের কক্ষটির ছাদ দোচালা পদ্ধতিতে নির্মিত। দু’পাশের কক্ষ দু’টি বর্গাকার এবং চার চালা ছাদ দ্বারা আচ্ছাদিত। মন্দিরের পূর্বপার্শ্বে সম্মুখ দেওয়াল বিভিন্ন ধরণের পোড়ামাটির ফলক চিত্র দ্বারা সজ্জিত। স্থাপিত বিন্যাস অনুযায়ী মন্দিরটি খ্রিষ্টীয় ১৭/১৮ শতকে নির্মিত বলে অনুমিত হয়।​
    পুঠিয়া বড় শিব মন্দির
    পুঠিয়া বাজারে প্রবেশ করতেই হাতের বাম পার্শ্বে দিঘীর দক্ষিণ পাড়ে বড় শিব মন্দির অবস্থিত। ৪ মিটার উঁচু মঞ্চের উপর নির্মিত মন্দিরের প্রধান প্রবেশ পথ দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। মন্দিরে উঠার জন্য দক্ষিণ দিকে সিড়ি আছে। মন্দিরের উপর চার কোণে চারটি কেন্দ্রস্থলে একটি চুড়া বা রত্ন আছে। কেন্দ্রীয় চূড়াটি প্রায় বিশ মিটার উঁচু। চতুষ্কোণাকৃতির কাঠামোর উপরে পিরামিড আকৃতির চূড়াগুলো নির্মিত হয়েছে। এগুলোর চার পার্শ্বে সন্নিবেশিত রয়েছে বিভিন্ন সতরে মোচার আকারে নির্মিত অসংখ্য ছোট ছোট চূড়া মন্দিরের দেয়ালের বর্হিমূখে হিন্দু দেব-দেবীর ষ্ট্যাকূ অলংকরণ ছিল। যা বর্তমানে প্রায় ধংসপ্রাপ্ত মন্দিরের কেন্দ্রীয় অংশে ৩.০০ মিটার বর্গাকার কক্ষ এবং এক-চার কোণে চারটি কক্ষ। কোণের চারটি কক্ষের মধ্যবর্তী স্থানে বারান্দা সন্নিবেশিত রয়েছে। মন্দিরের কেন্দ্রীয় কক্ষে বৃহৎ আকারের শিবলিঙ্গ ও গৌরী পট্র রয়েছে। যাতে পূজারীরা এখনও পূজা অর্চণা করে থাকে। পুঠিয়ায় অবস্থিত মন্দিরগুলোর মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি। ১৮২৩ খ্রিঃ পাঁচআনী জমিদার বাড়ীর রাণীভূবনময়ী দেবী এ মন্দির নির্মাণ করেন। এ মন্দির ভূবনেশ্বর মন্দির বলা হয়ে থাকে।​
    যাতায়াতঃ
    রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে রিক্সাযোগে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ, ভাড়া মাত্র পাঁচ টাকা। রাজশাহী শহর থেকে সড়ক পথে দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার এবং নাটোর থেকে ১৮ কিলোমিটার ভাড়া যথাক্রমে ২০ টাকা ও ১৫ টাকা।​
    থাকার ব্যবস্থাঃ
    পুঠিয়াতে জেলা পরিষদের দুইটি ডাকবাংলো আছে যেখানে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে থাকা যাবে। তবে আসার পূর্বেই ডাকবাংলোতে কক্ষ বরাদ্দ নিতে হবে জেলা পরিষদ থেকে। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের ফোন নং ০৭২১-৭৭৬৩৪৮. এছাড়া পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি বেসরকারী আবাসিক হোটেল রয়েছে। সেখানেও থাকতে পারেন।​
     
    • Like Like x 1
  6. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কারুকার্যময় আহসান মঞ্জিল(বাংলার আভিজাত্য)

    আহসান মঞ্জিল পুরোনো ঢাকার ইসলাম পুর এলাকায় অবস্থিত। নওয়াব স্যার আহসানুল্লাহর নামানুসারে এই প্রসাদের নামকরণ হয়েছে। এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব স্যার আবদুল গণি। প্রতিষ্ঠাতাকাল ১৮৭২। এর ঠিক দক্ষিণ দিকে রয়েছে বুড়িগঙ্গা নদী। গেট দিয়ে প্রবেশ করে রাস্তার পার্শ্বে দেখবেন ফুলের বাগান। লাল-নীল-বেগুনি রঙের ফুলের সমারোহ দেখে মুগ্ধ হবেন। মঞ্জিলের সামনে বিশাল সবুজ মাঠ। মঞ্জিল থেকে বড় একটা সিড়ি নেমে এসেছে মাঝে। মাঠের ঠিক সামনেই নদী।
    বুড়িগঙ্গার তীর ঘেষে দক্ষিণমুখী হয়ে দাঁড়ানো আগুনে লালরঙা এই অসাধারণ কারুকার্যময় অট্টালিকা কেবল অমূল্য স্থাপত্য হিসেবেই নয়, ঢাকা নগরের অতীত ইতিহাস ও তৎকালীন জীবনযাত্রায়ও রেখেছে ব্যাপক প্রভাব। উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত ঢাকায় তো বটেই, গোটা পূর্ববঙ্গেও প্রভাব বিস্তার করেছিলো আহসান মঞ্জিল। স্থানীয়ভাবে ঢাকাবাসীদের কাছে এর পরিচয় নবাববাড়ি নামে। অর্থাৎ এটা শুধু মঞ্জিল নয়, নবাব পরিবারের আভিজাত্য, বৈভব ও প্রভাবের প্রতীক এই অট্টালিকা। পাশাপাশি দুটো বিশাল দ্বিতল ভবনের পূর্ব পাশের ভবনে ছিলো নবাব পরিবারের বাস এবং পশ্চিম পাশেরটি ছিলো দরবার হল।
    বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনাথী এ জাদুঘর দেখতে এসে থাকেন। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এখানে দেখবেন গত শতাব্দির প্রথম দিকের অনেক উল্লেখযোগ্য নির্দশন। ব্রিটিশ ভারতীয় ঢাকার উপাধিপ্রাপ্ত নওয়াবদের বাসস্থান ছিল এই মঞ্জিলটি। আর এখানে গেলে মৃদুমন্দ সুরের মূর্ছনার সাথে সাথে স্বচক্ষে দেখতে পারবেন তখকার নওয়াবদের বাসস্থান এবং নানান স্মৃতিচিহ্ন।
    গ্যালারি-১: এখানে লেখা রয়েছে আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস। জানবেন।আহসান মঞ্জিল দুটি অংশে বিবক্ত । এর গম্বুজযুক্ত অংশকে বলা হয় ‘রংমহল’ পশ্চিমদিকের আবাসিক প্রকোষ্ঠাদি দিয়ে গঠিত ভবনকে ‘অন্দরমহল’বলা হয়।
    গ্যালারি ২: দেয়ালে টানানো রয়েছে প্রাসাদ ভবনের সঙ্গে জড়িত উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্যাবলির সমারোহ। এগুলো দেখতে ও পড়তে বেশ ভালো লাগবে।
    গ্যালারি৩: এখানে রয়েছে ডাইনিং রুম । কাচ ও চিনামাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ছাড়াও আলমারি, আয়না দেখবেন এখানে ।
    গ্যালারি ৪: রয়েছে নওয়াবদের ব্যবহৃত ঢাক, তলোয়ার, আর্মড, ফিগার ইত্যাদি। বাইরে থেকে যে গম্বুজটি দেখতে পাবেন, সেই গম্বুজঘর কিন্তু এটিই। এর উপরেই গম্বুজ রয়েছে।
    গ্যালারি ৫: এটি সিঁড়িঘর।
    গ্যালারি ৬: দেখবেন ত্রিশের দশকে হাসপাতালে ব্যবহৃত কয়েকটি ডাক্তারি সরঞ্জাম।
    গ্যালারি ৭: রয়েছে মুসলিম লীগ কীভাবে হল এবং প্র্রতমদিককার ঘটনাবলির তথ্য ও চিত্র।
    গ্যালারি ৮: রয়েছে নওয়াবদের আমলে ব্যবহৃত জীবজন্তুর শিং। এগুলো দেয়ালে টানানো দেখবেন।
    গ্যালারি ৮: আহসান মঞ্জিলে সর্বমোট ২৩টি গ্যালারি দেখবেন । অন্যান্য গ্যালারিগুলো হল : সিন্দুক কক্ষ, নওয়াব-পরিচিত কক্ষ, প্রতিকৃতি কক্ষ, সলিমুল্লাহ কক্ষ, হিন্দুস্তানী কক্ষ, লাইব্রেরি কক্ষ, বেডরুম, ড্রইংরুম, নাচঘর প্রভৃতি।
    যাতায়াতঃ
    এখানে যেতে হলে আপনাকে প্রথম সদরঘাট পুরান ঢাকায় যেতে হবে। সেখান থেকে হেঁটে অথবা রিকশায় করে আপনি চলে যেতে পারবেন আহসান মঞ্জিল। আহসান মঞ্জিল জাদুঘর খোলা থাকে
    ভ্রমণের সময়সূচীঃ
    শীতকালেঃ শনি-বুধবার ৯.৩০ থেকে ৪.৪০ পর্যন্ত
    শুক্রবারঃ বিকেল ৩.৩০ থেকে ৭.৩০ পর্যন্ত
    বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন।

    আহসান মঞ্জিল দেখে দারুণ মুগ্ধ হবেন। যখন সব ঘুরেফিরে খোলা সড়কে এসে দাঁড়াবেন, তখন বারবার গম্বুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হবে। সম্মুখে বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নওয়াবদের ঐতিহ্যবাহী সেই দিনগুলোর কথা স্মৃতিপটে ভেসে উঠবে।
     
    • Like Like x 1
  7. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কুমিল্লার ওয়ার সিমেট্রিঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধিস্থল

    [[কুমিল্লা শহরের ৮ কিলোমিটর পশ্চিমে রয়েছে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট। এই ক্যান্টনমেন্টের একটু উত্তর দিকে অবস্থিত ওয়ার সিমেট্রি। টিলার নিচে উঁচুনিচু ভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত বিভিন্ন দেশের সৈনিকদের সমাধিক্ষেত্র সারি সারি সাজানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, মিয়ানমার, জাপান, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের কমপক্ষে ২০০ থেকে ৩০০ সৈনিকের দেহ সারিবেঁধে সমাধিস্থ হয়েছে।]]

    ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত সৈনিক ও সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিস্থল এটি। “ওই যুদ্ধে ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সেনা মারা যায়। এর মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের ২৭ হাজার নিহত সেনাদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভারতে ১০টি, মিয়ানমারের তিনটি, পাকিস্তানে দুটি, সিঙ্গাপুরে একটি, মালয়েশিয়ায় একটি, জাপানে একটি, থাইল্যান্ডে দুটি, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একটি, কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে একটিসহ আটটি দেশে ২২টি সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়। ময়নামতি ওয়্যার সিমেট্রিতে ব্রিটেনের ৩৫৭ জন, কানাডার ১২ জন, অস্ট্রেলিয়ার ১২ জন, নিউজিল্যান্ডের চারজন, দক্ষিণ আফ্রিকার একজন, ভারতীয় উপমহাদেশের ১৭৮ জন, রোডেশিয়ার তিনজন, পূর্ব আফিক্রার ৫৬ জন, পশ্চিম আফিক্রার ৮৬ জন, মিয়ানমারের একজন, বেলজিয়ামের একজন, পোল্যান্ডের একজন ও জাপানের ২৪ জন যুদ্ধবন্দিসহ ৭৩৭ জন সমাহিত আছেন। তখন থেকে শহীদের সমাধিস্থল ময়নামতি ওয়্যার সিমেট্রি দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সংগঠন কমনওয়েলথ গ্রেইভস কমিশনের তত্ত্বাবধানে এ সমাধিক্ষেত্র পরিচালিত হয়।
    সমাধিক্ষেত্রটির প্রবেশমুখে একটি তোরণ ঘর, যার ভিতরের দেয়ালে এই সমাধিক্ষেত্রে ইতিহাস ও বিবরণ ইংরেজি ও বাংলায় লিপিবদ্ধ করে একখানা দেয়াল ফলক লাগানো রয়েছে। ভিতরে সরাসরি সামনে প্রশস্থ পথ, যার দুপাশে সারি সারি কবর ফলক। সৈন্যদের ধর্ম অনুযায়ী তাদের কবর ফলকে নাম, মৃত্যু তারিখ, পদবির পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতীক লক্ষ্য করা যায়- খ্রিস্টানদের কবর ফলকে ক্রুশ, মুসলমানদের কবর ফলকে আরবি লেখা (যেমন: হুয়াল গাফুর) উল্লেখযোগ্য। প্রশস্থ পথ ধরে সোজা সম্মুখে রয়েছে সিঁড়ি দেয়া বেদি, তার উপরে শোভা পাচ্ছে খ্রিস্টধর্মীয় পবিত্র প্রতীক ক্রুশ। বেদির দুপাশে রয়েছে আরো দুটি তোরণ ঘর। এসকল তোরণ ঘর দিয়ে সমাধিক্ষেত্রের পিছন দিকের অংশে যাওয়া যায়। সেখানেও রয়েছে আরো বহু কবর ফলক। প্রতি দুটি কবর ফলকের মাঝখানে একটি করে ফুলগাছ শোভা পাচ্ছে। এছাড়া পুরো সমাধিক্ষেত্রেই রয়েছে প্রচুর গাছ। প্রতিটি সারির ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ লাগানো হয়েছে। ওয়ার সিমেট্রির চারপাশে বিভিন্ন গাছ ও ফুল গাছ দেখা যায়। ঘন সবুজ দূর্বা ঘাস ওয়ার সিমেট্রিকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। ওয়ার সিমেট্রিকে কুমিল্লার লোকেরা ইংরেজ কবরস্থান বলে থাকে। সবুজে ঘেরা বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ বেষ্টিত এই জায়গায় গেলে আনন্দিত মনকে অজানা বিষণ্যতার পরশ দিয়ে যাবে।
    সমাধিক্ষেত্রের সম্মুখ অংশের প্রশস্থ পথের পাশেই ব্যতিক্রমী একটি কবর রয়েছে, যেখানে একসাথে ২৩টি কবর ফলক দিয়ে একটা স্থানকে ঘিরে রাখা হয়েছে। এই স্থানটি ছিল মূলত ২৩ জন বিমান সৈনিকের একটি গণকবর, যেখানে লেখা রয়েছে “These plaques bear the names of twenty three Airmen whose remains lie here in one grave” নিবিড় এই সুন্দর পরিবেশে ভ্রমণ পিপাসুরা কিছু সময় কাটিয়ে দিতে পারেন নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে।
    যাতায়াতঃ
    ঢাকা থেকে কুমিল্লা ৯৬ কিলোমিটারের পথ। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি বাস যাতায়াত করে। ঢাকা থেকে প্রাইম, তিশা, এশিয়া লাইন ইত্যাদি বাসে আপনি সরাসরি যেতে পারেন। বাস ভাড়া জনপ্রতি ১১০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ফেনীর যে কোনো বাসে চড়েই পৌঁছাতে পারেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত।
    কুমিল্লা শহরের ৭ বা ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে রয়েছে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট। এই ক্যান্টনমেন্টের একটু উত্তর দিকে ওয়ার সিমেট্রি। ঢাকা বা দেশের অন্য কোন স্থান হতে এসে নামতে হবে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট। এখান হতে পায়ে হাটার পথ। যেতে সর্বোচ্চ লাগবে ১০ মিনিট। চাইলে রিক্সা বা অটোরিক্সা করেও যেতে পারেন।
    হোটেলঃ
    থাকার জন্য কুমিল্লায় বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল চন্দ্রিমা, হোটেল সোনালী, হোটেল, শালবন, হোটেল, নিদ্রাবাগ, আশীক রেস্ট হাউস ইত্যাদি। ভাড়া ২০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।
     
    • Like Like x 1
  8. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,256
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    নিজেদের গাড়ি থাকলে ঘুরে মজা আছে। অন্য কোন ভাবে বিড়ম্বনার শেষ নাই। সুন্দর একটি থ্রেড দেওয়ার জন্য সবিশেষ ধন্যবাদ।
     
  9. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ডুলাহাজারা সাফারী পার্কঃ বাংলাদেশের একমাত্র সাফারী পার্ক​


    কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে ডুলাহাজারা রিজার্ভ ফরেষ্টে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত বনাঞ্চলে সাফারী পার্কটি অবস্থিত। এটি দেশের একমাত্র সাফারী পার্ক। বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধিসহ মানুষের চিত্ত বিনোদন, গবেষণা ইত্যাদি পরিচালনার লক্ষ্যে এটি সৃষ্টি করা হয়। দেশের একমাত্র “ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক” পর্যটকদের আকর্ষনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।


    এখানে রয়েছে কয়েক হাজার পশু-পাখী। সাফারী পার্ক ও চিড়িয়াখানার মধ্যে পার্থক্য হলো -সাফারী পার্কে পশুপাখী থাকে মুক্ত পরিবেশে আর দর্শনার্থীরা থাকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে। এটি ১৯৮০-৮১ সালে হরিন প্রজনন কেন্দ্র হিসাবে চালু হয়েছিল। বর্তমানে এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য নানা রকম বুনো জীবজন্তুর নির্ভয় আবাস স্থল এবং ইকো-ট্যুরিজম ও গবেষণার পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এর আয়তন ৯০০ হেক্টর। এখানে বুনো জীব জন্তুর অবাধ চলাফেরা পর্যটকগণ উপভোগ করতে পারেন। এই পার্কে তথ্য শিক্ষা কেন্দ্র, প্রাকৃতিক ঐতিহাসিক জাদুঘর, পরিদর্শন টাওয়ার এবং বিশ্রামাগার রয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হতে উত্তরে পার্কটির দূরত্ব ৫০ কি:মি: এবং চকরিয়া সদর হতে দক্ষিণে ১০ কি:মি:। এর আয়তন প্রায় ৯০০ হেক্টর।
    এ সাফারি পার্কে বাঘ ও সিংহ যাতে একটি নির্দিষ্ট এলাকার জুড়ে ঘুরে বেড়াতে পারে সে জন্য ৩০০ হেক্টর এলাকাকে আলাদা প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত করা হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় বাঘ ও সিংহকে দেখার জন্য উচুঁ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ইতিমধ্যে নির্মিত হয়েছে। যা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই।
    প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত নির্জন উঁচু নিচু টিলা, প্রবাহমান ছড়া, হ্রদ, বিচিত্র গর্জন এর মত সু-উচ্চ ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক বৃক্ষ চিরসবুজ বনের জানা-অজানা গাছ-গাছালি, ফল-ভেষজ উদ্ভিদ, লতার অপূর্ব উদ্ভিদ রাজির সমাহার ও ঘন আচ্ছাদনে গড়ে উঠেছে সাফারী পার্ক। এর ছায়া ঘেরা পথ, সবুজ বনানী, জানা অজানা গাছের সারি, পাখি আর বানরের কিচিরমিচির সবকিছূ মিলিয়ে যেন এক অসাধারন অনুভূতি। পথের ধারে উচু ওয়াচ টাওয়ারে দাড়িয়ে আপনি দেখতে পাবেন পুরো পার্কের সীমানা পর্যন্ত অপার সৌন্দর্য। পার্কের চারদিকে বেষ্টনী রয়েছে যাতে বন্যপ্রানী পার্কের বাইরে যেতে না পারে। পার্কের ভিতরে আভ্যন্তরীন বেষ্টনীও রয়েছে। আভ্যন্তরীন বেষ্টনীর ভিতরে বাঘ, সিংহ ও তৃণভোজী প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস করে। শুধু তাই নয়, পুরো পার্কে দেখতে পাবেন বিভিন্ন প্রানীর ভাস্কর্য যা আপনাকে অসম্ভব মুগ্ধ করবে।
    সাফারী পার্ক সম্পর্কে অতি অল্প সময়ে এক পলকে এর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে ধারনার জন্য রয়েছে প্রধান ফটকের বাম পাশে ডিসপ্লে ম্যাপ। এখানে পার্কের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা আছে, আপনি চাইলে বাসে করে ঘুরে ঘুরে পুরো পার্কটি দেখতে পারবেন। তবে পায়ে হেটে পুরো পার্কটি ঘুরে দেখাই সবচাইতে উত্তম। পার্কে ঢুকেই হাতের বামে ও ডানে দুটি রাস্তা চলে গেছে। বাম পাশের রাস্তা ধরে হাটা শুরু করলে পুরো পার্কটি ঘুরে আপনি অনায়েসেই ডান পাশের রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবেন।
    যে ভাবে যেতে হয়ঃ
    প্রথমে আপনাকে যেতে হবে কক্সবাজার। আপনি চাইলে চট্টগ্রাম থেকেও আসতে পারেন। কক্সবাজার শহর থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা কিংবা মাইক্রোবাস অথবা পাবলিক বাসে করে আসতে পারেন সাফারী পার্কে।
    বাস ভাড়া
    ঢাকা – কক্সবাজারঃ ৪৫০ থেকে ১২০০ টাকা
    কক্সবাজর – সাফারীপার্ক (সিএনজি): ৬০০ – ৮০০ টাকা
    কক্সবাজার – সাফারী পার্ক (মাইক্রোবাস): ১৫০০ – ২০০০ টাকা
    কক্সবাজার – সাফারীপার্ক (পাবলিক বাস): ৫০ টাকা
    হোটেলঃ
    আপনাকে থাকতে হবে কক্সবাজারের কোন একটি হোটেলে। কক্সবাজার হোটেল সম্পর্কে বিস্তারিত বলার কোন প্রয়োজন নেই। পুরো শহর যেন হোটেলের শহর। আপনার সুবিধামত যে কোন একটিতে থাকতে পারেন।
    প্রবেশ ফি ও অন্যান্য
    সর্বসাধারনের জন্য প্রবেশ ফিঃ ১০ টাকা
    ছাত্র ছাত্রীদের জন্য প্রবেশ ফিঃ ৫ টাকা
    বিদেশীদের জন্য প্রবেশ ফিঃ ৫ টাকা
    গাড়ী পাকিং: ২০ টাকা
     
    • Like Like x 1
  10. kaium
    Offline

    kaium Ex-Staff

    Joined:
    Aug 17, 2012
    Messages:
    2,537
    Likes Received:
    1,212
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    126
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সাগর কন্যা কুয়াকটা

    অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি । একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট। বঙ্গোপসাগরের ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর বিরল। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সকল ঋতুতেই মৌসুমী পাখিদের কলরবে মুখোরিত থাকে সমুদ্রতট। একমাত্র কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে এসেই প্রকৃতির সৃষ্ট সাগরের নানা রূপ বিভিন্ন ঋতুতে উপভোগ করা সম্ভব।

    তাইতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটন পিপাসুরা বছরের বিভিন্ন ঋতুতে বার বার ছুটে আসে কুয়াকাটায়। কৃত্রিমতার কোন ছাপ নেই এখানে। সে কারণেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় এসে প্রকৃতির নিয়মের সাথে নিজের মনকে একাকার করে প্রকৃতির স্বাদ নিজ উপলব্ধিতে আত্মস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠে। বিজড়িত দৃশ্য, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকন করা ছাড়াও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় দুইশত বছরের পুরানো ঐতিহ্য শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে প্রতিষ্ঠিত অপতার “গৌতম বুদ্ধের” বিশাল আকৃতির মূর্তিসহ শ্বেত পাথরের নির্মিত ছোট-বড় অসংখ্য মূর্তি রয়েছে।

    আরাকান রাজ্য থেকে বিতারিত হয়ে আসা রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের রাজা মং এর নেতৃত্বে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্রগ্রাম এবং পরে পটুয়াখালীর এ জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় তাদের বসতি স্থাপন করে। নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টে গড়ে তোলে নিজেদের আবাসস্থল। তৎকালীন সরকার সদস্যদের ওই সময় ৩ একর এবং তাদের নিজস্ব পল্লীব জন্যে ১২ একর করে সম্পত্তি প্রদান করেন। এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী কলাপাড়ায় বিদ্যমান আছে।
    কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান :
    কুয়াকাটায় শুধু সমুদ্র সৈকত নেই আছে আদিবাসী রাখাইনদের শত বছরের বৌদ্ধ মন্দির , কৃষ্টি , জীবন যাত্রা , মৎস্য বন্দও আলীপুর ও মহিপুরের জেলেদের জীবন গাথা ও রম্নপালি ইলিশ শিকারের পশরা , গঙ্গামতির সমুদ্রঘেরা বন ভুমি ও ফাতরার বনের নান্দনীক দৃশ্য যা দ্বিতীয় সুন্দর বন নামে পরিচিত।
    কুয়াকাটার নামকরণঃ
    তৎকালীন রাজা মং রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকদের সাগরের লবনাক্ত পানি যাতে ব্যবহার করতে না হয় সে লক্ষ্যে তিনি সমুদ্র সৈকতের কাছেই মিষ্টি পানি ব্যবহারের জন্য ২ টি “কুয়া” খনন করে।এ কুয়ার জন্যেই ওই এলাকার নাম হয় ‘কুয়াকাটা’।

    পরে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা কুয়াকাটাসহ খেপুপাড়া, কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও তালতলি এলাকার ঝোপ-ঝাড় পরিস্কার করে নিজেদের পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও বসতি শুরু করে। পরবর্তীতে বৃটিশ সরকার এ সম্প্রদায়ের জায়গা-জমির উপর কর ধার্য্য করতে চাইলে তারা ওই কর দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। এর দীর্ঘ সময় পর কালাউ মাদবার এবং খেপাউ মাদবার নামে দুই ভাই, দুই পাড়া প্রধান ছিল। তারা বৃটিশ সরকারকে কর দিতে সম্মতি জ্ঞাপন করে। এদের নাম অনুসারেই নামকরণ হয় কলাপাড়া ও খেপুপাড়া।
    চরগঙ্গামতিঃ
    কুয়াকাটার মূল ভূখন্ডের পূর্বদিকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটক আকর্ষনের আর একটি লোভনীয় স্থান চর গঙ্গামতি। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায় । এখানে একবার ভ্রমনে আসলে গঙ্গামতির লেকের স্বচ্ছ জলাধার , যার একতীরে ক্রমশ ঢালু হয়ে সাগরের বুকে নেমে যাওয়া ভাঁজপড়া বালিয়াড়ি আর অন্যতীরের সমতলভুমি পেরিয়ে বনের মনোলোভা দৃশ্য সহজে ভোলা যায় না। এখানে কেওড়া , গেওয়া , ছৈলা , খৈয়া , ইত্যাদি হরেক রকমের গাছগাছালি ছাড়াও আছে বুনোশুয়োর , বন মোরগ , আর বানরের কিচির মিচির শব্দ ।

    গঙ্গামতি যেতে হলে কলাপাড়া পৌরশহর থেকে কলাপাড়া- কুয়াকাটা বিকল্প সড়ক দিয়ে বালিয়াতলীর একটি মাত্র ফেরি পাড় হয়ে ২৬ কিলোমিটার দুরত্ব । বর্তমানে ঐ সড়কের উপর দু’ট ব্রিজ নির্মান কাজ শেষ পর্যায় রয়েছে । নির্মান কাজ শেষে হলে বাস, মাইক্রো, প্রাইভেট কার নিয়ে সরাসরি গঙ্গামতি সমুদ্র বেলাভূমিতে পৌছা যাবে । তাছাড়া কুয়াকাটা হতে পূর্বদিকের বেড়িবাধেঁর উপরদিয়ে গাড়ী নিয়ে যাওয়া যায়।এছাড়াও এর কাছেই রয়েছে রাখাইনদের বৌলতলীপাড়া ।
    এই পাড়ায় রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনা । যা আজও এখানকার স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে শোনা যায় । মুন্সিগঞ্জের সাপুড়ে সরদার আবদুল আলী গারুলী রাতে স্বপ্নে দেখেন যে , বৌলতলী পাড়ার পশ্চিম পাশে ৩’শ ৬০ টি বাঁশের ঝাড়ের নিচে একটি সাপ রয়েছে । স্বপ্নে বলে দেয় ওই সাপ ধরার আগে দু’টি পাঠা (ছাগল) পুঁজো করে নিতে হবে । আব্দুল আলী গারম্নলী স্বপ্নের কথা না মেনে সাপ ধরতে যায় । সাপ স্পর্শ করার সাথে সাথে সাপটি ঐ বাঁশের ঝাড়ের সাথে পেচিয়ে রাখে তাকে। সাপটি যে গর্তে ছিল তা আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে ।
    বৈদ্ধ মন্দির:
    কলাপাড়া উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের মনোরম দৃশ্য উপভোগের সাথে পর্যটকদের জন্য রয়েছে বারতি আকর্ষন আদিবাসী রাখাইনদের স্থাপথ্য নিদর্শন । এসব স্থাপথ্য নিদর্শন পর্যটকদের হৃদয় কেড়ে নেয় । সৈকতের কোল ঘেসেই উপজাতি রাখাইন সমপ্রদায়ের কেরানীপাড়া। এখানে আছে শত বছরের পুরানো সীমা বৈদ্ধ মন্দির। কুয়কাটা বেড়িবাধেঁর পাশে খানিকটা উচুঁ টিলার উপর এর অবস্থান। জুতা খুলে ঢুকতে হয় মন্দিরে।

    মন্দিরের ভিতরে স্থাপিত রয়েছে নবম ধাতুর তৈরি সাড়ে ৩৭ মন ওজনের ধ্যানমগ্ন বৌদ্ধ দেবের মূর্তি। জানা গেছে,মন্দিরের নির্মান সৌন্দর্য চীনের স্থাপত্য অনুসরন করা হয়েছে। দেখে মনে হবে থাইল্যন্ড বা মিয়ানমারের কোন মন্দির। মন্দিরের ভিতরের ভাব গম্ভীর পরিবেশ।
    ফাতারার বনঃ
    কুয়াকাটা সমুদ্রের বিস্তীর্ন বালিয়াড়ি ছেড়ে পশ্চিমদিকে গেলে চোখে পড়বে ঘোলাজলের ছোট্ট স্রোতস্বিনী একটি নদী ও বীচিমালাবিক্ষুব্দ সাগর মোহনার বুকে জেগে উঠা ‘ফাতারার বন’ নামক সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ।
    এর আয়তন কমবেশি ৯৯৭৫০৭ একর । ইতিমধ্যে এটি ‘ দ্বিতীয় সুন্দরবন ‘ হিসেবে পরিচিতি ও খ্যাতি পেয়েছে । কুয়াকাটা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রলার বনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় । ইচ্ছে করলে রিজার্ব করেও যাওয়া যায় । সময় লাগবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট।
    ইকোপার্ক ও জাতিয় উদ্যানঃ
    সমুদ্র সৈকতের একেবারে কোল ঘেঁষে প্রায় ২০০একর জায়গায় ষাটের দশকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা নারিকেল কুঞ্জ , ঝাউবন , গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন , পশ্চিমদিকের ফাতরার বন ও মহিপুরের রেঞ্জের বনাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে ইকোপার্ক ও জাতিয় উদ্যান । সমুদ্রের অব্যাহত ও অপ্রতিরোধ্য ভাঙ্গনে ইতিমধ্যেই নারিকেল কুঞ্জ অনেক খানিই বিলিন হয়েছে ।
    এর পূর্ব দিকে বনবিভাগ কর্তৃক ১৫ হেক্টর বালুভূমিতে তৈরি করা হয়েছে মনোলোভা ঝাউবন । মানব সৃষ্ট হলেও গোধূলী বেলায় সমুদ্র সৈকতে দাড়িঁয়ে ও বিশেষ করে পূর্ণ চন্দ্রালোকিত জ্যোৎস্না রাতে যখন বেলাভূমি থেকে নারিকেল বীথি ও ঝাউবাগানের দিকে দৃষ্টি নিপতিত হয় তখন নিতানত্দ বেরসিক দর্শকের কাছে ও তা এক অমলিন স্বর্গীয় আবেদন সৃষ্টি করে । আর দিনে ঝাউবনের ভিতর দিয়ে যখন সমুদ্রের নির্মল লোনা বাতাস বয়ে যায় তখন বতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ এক নিরবিচ্ছিন্ন ঐক্যতান করে শ্রোতার কানে আনে অনির্বাচনীয় মাদকতা।
    ফেরার পথে যা দেখবেন :
    কুয়াকাট হতে ২২ কিলোমিটার আসলেই কলাপাড় উপজেলা শহর এখানে রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম অটো রাইস মিল , মহাসড়কের পাসেই রয়েছে দেশের অন্যতম আধুনিক আবহাওয়া পূর্ভাবাস কেন্দ্র এখানে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে আপনি দেখে যেতে পারেন কিভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রাদন করা হয় । কুয়াকাটা ভ্রমনে এসে শুধু প্রকৃতির স্বাধ নিবেন রসনার স্বাধ নিবেন না তা কি করে হয় তাই কলাপাড়া বাসস্টান্ড হতে শহরে প্রবেশ করে দেশের ঐতিয্য বাহী জগবন্ধু মিস্টান্ন ভান্ডারের মিস্টি খেয়ে না গেলে কুয়াকাট ভ্রমনের কালানত্দি দূর হবেনা । এ মিস্টি একবার খেলে বার বার খেতে ইচ্ছে করে । তাই প্রকৃতির অপরম্নপ সৌন্দার্যের লীলা ভূমি সৈকত ভ্রমনে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে আসুন ।
    যেভাবে যাবেন:
    ঢাকা থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ৩৮০ কিমি.। পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ৭০ কিমি এবং কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ২৫ কিমি। ঢাকা থেকে বাস যায় কুয়াকাটায়। এ ছাড়াও ঢাকা থেকে কলাপাড়ার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৬.০০ টায় একটি করে লঞ্চ ছেড়ে যায়।
    যেখানে থাকবেন:
    কুয়াকাটায় পর্যটন হোটেল আছে। বাস স্ট্যান্ডের কাছেই পর্যটন হোটেলটি অবস্হিত। এ ছাড়াও অন্যান্য হোটেলের মধ্যে নীলাঞ্জনা, সানরাইজ, স্মৃতি, গোল্ডেন প্যালেস, ফ্যামিলি হোমস, হোটেল সি ভিউ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)