1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Islamic ছাহাবায়ে কেরামের প্রতি আমাদের কর্তব্য

Discussion in 'Role Of Islam' started by arn43, Dec 26, 2018. Replies: 17 | Views: 219

  1. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ছাহাবায়ে কেরামের প্রতি আমাদের কর্তব্য


    হামদ ও ছানার পর, ছোট্ট এই পুস্তিকার শিরোনাম হচ্ছে, ‘ছাহাবায়ে কেরামের প্রতি আমাদের কর্তব্য’ (واجبنا نحو الصحابة الكرام)। সত্যিই এ কর্তব্য মহান। সেজন্য আমাদের উচিত, এ বিষয়টির প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা এবং সর্বোচ্চ যত্নশীল হওয়া।

    সম্মানিত পাঠকের জানা যরূরী যে, ছাহাবায়ে কেরামের প্রতি আমাদের কর্তব্য যেনতেন কোন বিষয় নয়। এটা দ্বীন ইসলামের প্রতি আমাদের কর্তব্যেরই একটি অংশ। যে দ্বীনকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং যা ব্যতীত তিনি তাদের নিকট থেকে অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করেন না। মহান আল্লাহ বলেন,إِنَّ الدِّيْنَ عِنْدَ اللهِ الْإِسْلاَمُ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র নিকট মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম’ (আলে ইমরান ১৯)। তিনি আরো বলেন,وَمَنْ يَّبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلاَمِ دِيْنًا فَلَنْ يُّقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ- ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা তার পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত’ (আলে ইমরান ৮৫)। মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন, اَلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْإِسْلاَمَ دِيْنًا- ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নে‘মত পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম’ (মায়েদাহ ৩)।
     
  2. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অতএব এই সরল-সোজা পথ এবং সত্য দ্বীনই হচ্ছে আল্লাহ্‌র দ্বীন। এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের জন্য আল্লাহপাক বিশ্বস্ত প্রচারক, বিচক্ষণ নছীহতকারী এবং সম্মানিত রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে নির্বাচন করেন। তিনি এই দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে পৌঁছে দিতে এবং আল্লাহ নির্দেশিত বিষয়সমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতে কোন প্রকার ত্রুটি করেননি। মহান আল্লাহ বলেন,يَا أَيُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ ‘হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা পৌঁছে দিন’ (মায়েদাহ ৬৭)। আল্লাহ্‌র এই নির্দেশ মোতাবেক তিনি আমরণ রিসালাতের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্লাহ কর্তৃক আরোপিত আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করেছেন। তাঁর উম্মতকে সঠিক নছীহত করে গেছেন এবং আল্লাহ্‌র রাহে সত্যিকার জিহাদ করেছেন। কল্যাণের এমন কোন দিক নেই, যা তিনি তাঁর উম্মতকে বলে যাননি। পক্ষান্তরে অকল্যাণের এমন কোন দিক নেই, যা থেকে তিনি তাঁর উম্মতকে সতর্ক করে যাননি। মহান আল্লাহ স্বীয় বান্দাদেরকে তাঁর কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করে বলেন,هُوَ الَّذِيْ بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّيْنَ رَسُوْلاً مِّنْهُمْ يَتْلُوْ عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيْهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِيْ ضَلاَلٍ مُّبِيْنٍ- ‘তিনিই নিরক্ষরদের নিকট তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। ইতিপূর্বে তারা ছিল স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত’ (জুম‌‘আহ ২)।
     
  3. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আমি আবারও বলছি, আমাদের প্রিয় রাসূল (ছাঃ) আললাহ্‌র দ্বীনের প্রচার ও প্রসার যথার্থভাবে করে গেছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে নছীহত করতে কোন প্রকার ত্রুটি করেননি; বরং তিনি তাদের জন্য তাদের লক্ষ্যস্থল স্পষ্টভাবে বাৎলে দিয়ে গেছেন।

    মহান আল্লাহ সম্মানিত এই রাসূল (ছাঃ)-এর জন্য সম্মানিত ছাহাবায়ে কেরামকে মনোনীত করেন। তারা তাঁকে এবং আল্লাহ্‌র দ্বীনকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা ছিলেন ভূ-পৃষ্ঠের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির শ্রেষ্ঠতম সহচর। তারা ছিলেন তাঁর সৎ সঙ্গী, মহৎ সহকর্মী এবং শক্তিশালী সাহায্যকারী। আল্লাহ্‌র দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে তারা সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।

    তাঁরা কতই না নিবেদিতপ্রাণ এবং মহৎ ছিলেন! কতই না সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন! আল্লাহ্‌র দ্বীনের সহযোগিতার জন্য তাঁরা কি প্রাণান্ত প্রচেষ্টাই না করেছেন!

    মহান আল্লাহ বিশেষ তাৎপর্যকে সামনে রেখেই তাঁর প্রিয় নবী (ছাঃ)-এর জন্য উত্তম ও ন্যায়পরায়ণ এ সকল ছাহাবীকে মনোনীত করেন। স্বয়ং আল্লাহ এবং তদীয় রাসূল (ছাঃ)-এর সাক্ষ্যানুযায়ী নবী ও রাসূলগণ (আঃ)-এর পরে তারাই ছিলেন সর্বোত্তম মানুষ। মহান আল্লাহ বলেন,كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ-‘তোমরাই হ’লে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে’ (আলে ইমরান ১১০)। অগ্রবর্তিতার ভিত্তিতে এবং শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে নবী (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণই সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ্‌র এই দ্ব্যর্থহীন ঘোষণার আওতাভুক্ত হবেন। ছহীহ হাদীছে এসেছে, নবী করীম (ছাঃ) বলেন,خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِيْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ- ‘আমার যুগের মানুষই সর্বোত্তম মানুষ। অতঃপর তার পরের যুগের মানুষ, অতঃপর তার পরের যুগের মানুষ’। (বুখারী, হা/২৬৫২; মুসলিম, হা/২৫৩৩। হাদীছটি ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন।)

    এখানে ছাহাবীগণের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিলেন স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ)। সত্যিই তাঁরা ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ, ন্যায়পরায়ণ, বিশ্বস্ত এবং সুদৃঢ় দিক-নির্দেশক।
     
  4. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অতএব আমাদের ভালভাবে জানা উচিত যে, ছাহাবীগণ ও তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য শীর্ষক আলোচনা দ্বীন, ইসলামী আক্বীদা এবং ঈমানেরই একটি অংশ। কেননা অতীত ও বর্তমানে সালাফে ছালেহীন কর্তৃক প্রণীত আক্বীদা বিষয়ক এমন কোন বই আপনি পাবেন না, যাতে ছাহাবীগণের প্রতি মুসলিম আক্বীদার বিষদ বিবরণ নেই।

    কিন্তু এখানে একটি প্রশ্ন উঠে, ছাহাবীগণের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য, তা কেন দ্বীনের প্রতি আমাদের কর্তব্যের একটি অংশ হিসাবে বিবেচিত হ’ল?

    জবাবে বলব, ছাহাবীগণ হ’লেন এই দ্বীনের ধারক এবং বাহক। তাঁরা কোন প্রকার মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি এই দ্বীনের বার্তা রাসূল (ছাঃ)-এর কাছ থেকে শ্রবণের মহান গৌরর অর্জন করেছেন। তাঁরা সরাসরি রাসূল (ছাঃ)-কে দেখেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে হাদীছ শুনেছেন। অতঃপর পূর্ণ আমানতদারীর সাথে উক্ত হাদীছসমূহকে সংরক্ষণ করতঃ মুসলিম উম্মাহ্‌র উদ্দেশ্যে বর্ণনা করেছেন।

    রাসূল (ছাঃ)-এর একটি হাদীছও কি এমন পাওয়া যাবে যে, তা ছাহাবায়ে কেরাম ছাড়া অন্য কারো সূত্রে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে?
     
  5. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    যখন আপনি ছহীহ বুখারী, ছহীহ মুসলিম, সুনান (যেসব হাদীছ গ্রন্থ ফিক্বহী অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাজানো হয়, সেগুলিকে ‘সুনান’ (السنن) বলে। যেমন- সুনানে আবু দাঊদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবনে মাজাহ ইত্যাদি।), মাসানীদ (যেসকল হাদীছ গ্রন্থে প্রত্যেক ছাহাবীর ছহীহ, হাসান ও যঈফ হাদীছকে পৃথকভাবে সাজানো হয়, অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাদীছ উল্লেখ করা হয় না, সেসব হাদীছ গ্রন্থকে ‘মাসানীদ’ (المسانيد) বলে। যেমন- মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে বাযযার ইত্যাদি। আবার কখনও যে গ্রন্থে বেশকিছু হাদীছ একত্রিত করা হয়, তবে এর হাদীছগুলিকে ছাহাবীর নামানুসারে না সাজিয়ে অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাজানো হয়, তাকেও মুসনাদ বলে। যেমন- মুসনাদে বাক্বী ইবনে মাখলাদ আল-আন্দালুসী।), মাজামী‘ (যেসব গ্রন্থে হাদীছের বিভিন্ন মূল গ্রন্থ থেকে হাদীছ একত্রিত করা হয় এবং একত্রিত হাদীছগুলিকে মূল গ্রন্থসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হয়, সেগুলিকে ‘মাজামী’ (المجاميع) বলে। যেমন-‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ ছহীহায়েন’, সুয়ূত্বী প্রণীত ‘আল-জামে‘ আল-কাবীর’ প্রভৃতি। এসব হাদীছ গ্রন্থের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হ’ল, এগুলিতে বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখিত একই বিষয়ের অনেকগুলি হাদীছ একসঙ্গে পাওয়া যায়।), আজ্‌যা (হাদীছের যেসব ছোট্ট গ্রন্থে লেখকগণ বেশ কিছু হাদীছ একত্রিত করেন এবং হাদীছগুলি সাধারণতঃ বিষয়বস্তু, বর্ণনাকারী অথবা মতন বা সনদের ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ (الأجزاء الحديثية) বলে। যেমন- ইমাম বুখারী) বা হাদীছের অন্য কোন গ্রন্থ খুলবেন, তখন দেখবেন, গ্রন্থকার থেকে হাদীছের সনদ শুরু হয়ে ছাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতঃপর ছাহাবী নবী (ছাঃ) থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। সেজন্য রাসূল (ছাঃ) থেকে সাব্যস্ত প্রত্যেকটি হাদীছের সূত্রে কোন না কোন বিশিষ্ট ছাহাবী অবশ্যই রয়েছেন।
     
  6. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর ন্যায়পরায়ণতা :

    ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর প্রত্যেকেই ছিলেন ন্যায়পরায়ণ। স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে ন্যায়পরায়ণ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। সেজন্য দেখা গেছে, মুহাদ্দিছগণ হাদীছ বর্ণনাকারীগণের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। সনদের কোন্ বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত আর কে যঈফ, তা তাঁরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন। কিন্তু সনদের ধারাবাহিকতা যখন ছাহাবী পর্যন্ত পৌঁছত, তখন তাঁরা আর কোন বিশ্লেষণই করতেন না। কেননা তাঁরা নিশ্চিত জানতেন যে, সকল ছাহাবী ন্যায়পরায়ণ এবং বিশবস্ত। সেকারণে আপনি যখন ‘রিজাল শাস্ত্রে’র (যে শাস্ত্র হাদীছের বর্ণনাকারীগণের অবস্থা বিশ্লেষণ করে, তাকে ‘রিজাল শাস্ত্র’ (عِلْمُ الرِّجَال) বলে।) গ্রন্থসমূহ পড়বেন, তখন সেখানে দেখবেন, গ্রন্থকারগণ তাবেঈন থেকে শুরু করে সকলের অবস্থা বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, অমুক বিশ্বস্ত, অমুক হাফেয, অমুক যঈফ, অমুক এমন...। কিন্তু ছাহাবীগণ (রাঃ) কি ন্যায়পরায়ণ, নাকি ন্যায়পরায়ণ নন, তাঁরা কি বিশ্বস্ত, নাকি বিশ্বস্ত নন ইত্যাদি বিষয়ে তারা কোন আলোচনাই আনেননি।

    এর মূল কারণ হ’ল ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) সবাই ছিলেন ন্যায়পরায়ণ। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ) অসংখ্য হাদীছে তাঁদেরকে ন্যায়পরায়ণ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।
     
  7. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এই দ্বীনের ধারক-বাহক :

    ছাহাবীগণ স্বয়ং রাসূল (ছাঃ)-এর কাছ থেকে এই দ্বীন শ্রবণ করেছেন এবং যেভাবে শুনেছেন, ঠিক সেভাবেই সংরক্ষণ করতঃ আমানতদারী ও বিশ্বস্ততার সাথে উম্মতের নিকট তা পৌঁছে দিয়েছেন।

    ছাহাবায়ে কেরাম রাসূল (ছাঃ) কৃত নিম্নোক্ত দো‘আটির পূর্ণ হিস্‌সা লাভে ধন্য হয়েছেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন,نَضَّرَ اللهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيْثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ- ‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তির মুখমন্ডল উজ্জ্বল করুন, যে আমাদের কাছ থেকে হাদীছ শুনল এবং তা সংরক্ষণ করতঃ মানুষের নিকট পৌঁছে দিল’। (আবূ দাঊদ, হা/৩৬৬২; তিরমিযী, হা/২৬৫৬; ইবনু মাজাহ, হা/২৩০। প্রখ্যাত ছাহাবী যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) হ’তে হাদীছটি বর্ণিত। হাদীছটি বিভিন্ন শব্দে অভিন্ন অর্থে আরো কয়েকজন ছাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং শায়খ আলবানী ‘ছহীহ’ বলেছেন। দ্রঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪০৪।) ছাহাবায়ে কেরাম যেমন এই দো‘আর পূর্ণ হিস্‌সা লাভে ধন্য হয়েছেন, উম্মতে মুহাম্মাদীর অন্য কেউ তেমনটি অর্জন করতে পেরেছেন বলে কি আপনাদের জানা আছে ?

    আমি আবারো বলছি, তাঁরা দ্বীন ইসলামের বাণী ও রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছসমূহ শ্রবণ করেছেন এবং পরিচ্ছন্ন ও পরিপূর্ণভাবে আমানতদারী, বিশ্বস্ততা ও যত্নসহকারে তা উম্মতের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। তারা তাঁর সাথে সর্বদা থাকতেন, তাঁর বৈঠকসমূহে নিয়মিত উপস্থিত হয়ে হাদীছ শ্রবণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হ’তেন। এভাবে তাঁরা হাদীছ সংরক্ষণ করতঃ মুসলিম উম্মাহ্‌র নিকট তা পৌঁছে দিতেন।
     
  8. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) সম্পর্কে আলোচনাই হ’ল দ্বীন সম্পর্কে আলোচনা :

    দ্বীন ইসলামের ধারক-বাহক এমন সুমহান মর্যাদার অধিকারী ছাহাবীগণ সম্পর্কে আলোচনা কি দ্বীন সম্পর্কে আলোচনার একটি অংশ হিসাবে পরিগণিত হ’তে পারে না? যেহেতু রাসূল (ছাঃ) থেকে বর্ণিত প্রত্যেকটি হাদীছের সূত্রেই কোন না কোন ছাহাবী রয়েছেন, সেহেতু তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা দ্বীন সম্পর্কে আলোচনারই একটি অংশ।
     
  9. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-কে নিন্দা করাই দ্বীনকে নিন্দা করা :

    পক্ষান্তরে ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-কে নিন্দা করাই হ’ল দ্বীনকে নিন্দা করা। কারণ আলেমগণ বলছেন, اَلطَّعْنُ فِيْ النَّاقِلِ طَعْنٌ فِىْ الْمَنْقُوْلِ ‘কোন কিছুর বর্ণনাকারীকে নিন্দা করার অর্থই হচেছ বর্ণিত বিষয়কে নিন্দা করা’। অতএব যাঁরা আমাদের নিকট দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরা যদি হন নিন্দিত, ন্যায়পরায়ণতার ক্ষেত্রে সমালোচিত, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারীর ক্ষেত্রে কলংকিত, তাহ’লে সেই দ্বীনের অবস্থা কি হ’তে পারে? নিশ্চয়ই সেই দ্বীনও হবে নিন্দিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ। সেজন্য ইমাম আবু যুর‘আহ আর-রাযী (রহঃ) বলেন,إِذَا رَأَيْتَ الرَّجُلَ يَنْتَقِصُ أَحَدًا مِّنْ أَصْحَابِ النَِّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فَاعْلَمُوْا أَنَّهُ زِنْدِيْقٌ؛ وذَلِكَ أَنَّ الرَّسُوْلَ صلى الله عليه وسلم عِنْدَنَا حَقٌّ، وَالْقُرْآنَ حَقٌّ، وَإِنَّمَا أَدَّى إِلَيْنَا هَذَا الْقُرْآنَ وَالسُّنَنَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِنَّمَا يُرِيْدُوْنَ أَنْ يَّجْرَحُوْا شُهُوْدَنَا لِيُبْطِلُوا الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ، وَالْجَرْحُ بِهِمْ أَوْلَى، وَهُمْ زَنَادِقَةٌ- ‘তোমরা কাউকে ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর মর্যাদার হানি করতে দেখলে জানবে যে, সে ‘যিনদ্বীক’। (‘যিনদীক্ব’ (زِنْدِيْقٌ) ফারসী শব্দ। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর যুগে শব্দটি প্রসিদ্ধ ছিল না। আববাসীয় যুগে শব্দটির ব্যাপক পরিচিতি ঘটে। ইবনু কুদামাহ (রহঃ) একে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইসলামের কথা বলে এবং গোপনে কুফরী জিইয়ে রাখে, সে-ই হচ্ছে ‘যিনদীক্ব’। রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে এই শ্রেণীর লোককে ‘মুনাফিক্ব’ বলা হ’ত, বর্তমান এদেরকে ‘যিনদীক্ব’ বলা হয়। দ্রঃ আল-মুগনী, ৬/৩৭০‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌করে না, তাকে ‘যিনদীক্ব’ বলে। তবে ফক্বীহগণ এ মর্মে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ‘যিনদীক্ব’ হচ্ছে কাফের এবং পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে মুনাফিক্বের যেসব বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলিই ‘যিনদীক্ব’-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।) এর কারণ রাসূল (ছাঃ) আমাদের নিকট হক্ব, কুরআন আমাদের নিকট হক্ব। আর এই কুরআন এবং হাদীছ আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)। মূলতঃ শত্রুরা কুরআন ও হাদীছকে বাতিল করার হীন উদ্দেশ্যেই আমাদের প্রত্যক্ষদর্শী ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-কে আঘাত করতে চায়। মনে রাখতে হবে, তারাই নিন্দার উপযুক্ত এবং তারাই হচ্ছে যিনদীক্ব’। (খত্বীব বাগদাদী, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌, পৃঃ ৪৯।)

    ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) যদি বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ না হন, তাহ’লে যে দ্বীনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত করি, সে দ্বীনের অস্তিত্ব কোথায় যাবে?

    একদল লোক পথভ্রষ্টতার অতলগভীরে নিমজ্জিত হয়ে হাতে গোনা কয়েকজন ছাহাবী ব্যতীত সকল ছাহাবীকে নিন্দা করে থাকে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করি, অবস্থা যদি এই হয়, তাহ’লে দ্বীন কোথায়? আল্লাহ্‌র দ্বীনকে কিভাবে জানতে হবে? কিভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদত করা সম্ভব হবে? কিভাবে আল্লাহ্‌র জন্য ছালাত আদায় করতে হবে এবং সিজদা করতে হবে? কিভাবে আল্লাহ্‌র ফরযসমূহ আদায় করতে হবে? কিভাবে হজ্জ করতে হবে? বা আল্লাহ্‌র আনুগত্যইবা কিভাবে করতে হবে?

    সেজন্য আমাদের খুব ভালভাবে জানতে হবে, দ্বীনের ধারক-বাহক ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-কে নিন্দা করার অর্থই হ’ল সরাসরি দ্বীনকে নিন্দা করা। আমাদের আরো জানতে হবে, ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য মূলতঃ দ্বীনের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যেরই একটি অংশ। কেননা তাঁরাই এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। সুতরাং তাঁদেরকে নিন্দা করা হ’লে দ্বীনও নিন্দিত হবে।
     
  10. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,406
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর ন্যায়পরায়ণতা :

    যাঁদেরকে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে ন্যায়পরায়ণ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন; স্বয়ং আল্লাহ যাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, সেসকল ছাহাবীকে কিভাবে নিন্দা করা যেতে পারে! মহান আল্লাহ বলেন, وَالسَّابِقُوْنَ الْأَوَّلُوْنَ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُمْ بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ- ‘মুহাজির ও আনছারগণের মধ্যে অগ্রবর্তী ছাহাবীগণ এবং কল্যাণকর্মের মাধ্যমে তাঁদের অনুসারীগণের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন’ (তওবাহ ১০০)। উক্ত আয়াতে আল্লাহপাক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করলেন, তিনি তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট। দ্বীনের ধারক-বাহক হিসাবে বিশ্বস্ত নন এমন কারো প্রতি আল্লাহ কি কখনও সন্তুষ্ট হ’তে পারেন? রাসূল (ছাঃ)-এর অমিয় বাণী প্রচারে খেয়ানতকারী কারো প্রতি কি তিনি সন্তুষ্ট হ’তে পারেন? অসম্ভব! এমনটি কখনই হ’তে পারে না। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। কারণ তাঁরা বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ, তাঁরা সর্বোত্তম আদর্শ এবং আল্লাহ্‌র দ্বীনের একনিষ্ঠ প্রচারক। আল্লাহ বলেন, رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْه‘আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও আল্লাহ্‌র প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন’। তিনি অন্যত্র বলেন, لَقَدْ رَضِيَ اللهُ عَنِ الْمُؤْمِنِيْنَ إِذْ يُبَايِعُوْنَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ- ‘আল্লাহ মুমিনগণের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তাঁরা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করেছেন’ (ফাত‌হ ১৮)। বায়‘আতকারী এসকল ছাহাবীর সংখ্যা ছিল এক হাযারেরও বেশী এবং তাঁদের সকলের প্রতিই আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)